Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৯ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (108 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৫-২০১২

দুর্দিন বাগেরহাটের নারিকেল তেলশিল্পে

দুর্দিন বাগেরহাটের নারিকেল তেলশিল্পে
ক্রমাগত লোকসানের মুখে গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৫টি মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে বাগেরহাটের প্রসিদ্ধ নারিকেল তেলশিল্প।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক দশকে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অন্তত দেড় হাজার শ্রমিক পেশা পরিবর্তন করেতে বাধ্য হয়েছেন। অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে এখনো পেশায় টিকে আছেন ২৫টি মিলের প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক।
কাঁচামাল অর্থাৎ নারিকেলের সঙ্কট, ভারত থেকে তেলের আমদানি বেড়ে যাওয়া, বিভিন্ন জেলায় নারিকেল তেলের মিল গড়ে ওঠা এবং উৎপাদিত তেলের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বৃদ্ধিকে এ শিল্পের জন্য হুমকি বলে মনে করছেন জেলার তেল ব্যবসায়ীরা।
গত প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে নারিকেল তেল উৎপাদন করছে শক্তি অটো কোকোনাট অয়েল মিলস লিমিটেড। পাঁচ বছর আগেও এ মিলে দিনরাতে মিলিয়ে ৭৫ জন শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ করতেন। কিন্তু এখন কর্মী সংখ্যা নেমে এসেছে ৩০ জনে।
এ মিলের মালিক স্বপন বসু বলেন, “নারিকেল তেলশিল্প দুঃসময় পার করছে। পাঁচ বছর আগেও দেশের মোট চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি বাগেরহাটে উৎপাদন হতো। এখন তা অনেক কমে গেছে।”
এই ব্যবসায়ী জানান, বাইরে থেকে যে তেল আসে তার বেশিরভাগই রাসায়নিক ও সুগন্ধি দিয়ে তৈরি। ফলে এখনো মফস্বলে দেশি তেলের ভাল চাহিদা আছে।
শক্তি মিল থেকে এখানো প্রতি মাসে আট কেজি ওজনের প্রায় ছয় হাজার টিন তেল দেশের বিভিন্ন স্থানে যায় বলে জানান তিনি।
বরকত অটো কোকোনাট অয়েল মিলের ব্যবস্থাপক ফারুক হোসেন বলেন, এই মিলে আগে ৪২ জন শ্রমিক ও ৩০ জন মিস্ত্রি কাজ করতেন। এখন মাত্র সাত জন শ্রমিক ও চার জন মিস্ত্রি নিয়ে কাজ চলছে কোরো রকমে।
“মিলের নয়টি তেল ফুটোনোর কড়াইয়ের মধ্যে এখন মাত্র দুটি কড়াই ব্যবহার করা হচ্ছে”, বলেন ফারুক হোসেন।
জেলা অটো কোকোনাট অয়েল মিলস মালিক সমিতির সভাপতি এমদাদ আলী পাইক বলেন, ২০০০ সাল পর্যন্তও জেলার তেল মিলগুলো ভাল ব্যবসা করছিল। কিন্তু এর পর থেকে জেলার ৪০টি মিলের মধ্যে ১৫টি বন্ধ হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০০০ সাল পর্যন্ত দেশে উৎপাদিত নারিকেল তেলের ওপর ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ছিল চার শতাংশ। ২০০১ সালে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। আমদানি করা তেল আর দেশি তেলের ওপর ভ্যাট এখন সমান।
এমদাদ আলী বলেন, “দেশি এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে দেশি তেলের ভ্যাট কমিয়ে আমদানি করা তেলে বাড়াতে হবে।”
এক সময় বরকত অটো কোকোনাট অয়েল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন সরোয়ার (৫০), রাঙ্গা মিয়া (৫৫) এবং বাদল (৪৫)। এখন তারা কাজ করেন চাতাল কলে।
রাঙ্গা মিয়া জানান, তাদের কাজ ছিল নারিকেলের মালা থেকে সাদা শাসটুকু তোলা। পাঁচ বছর আগে এ কাজে যে মজুরি পাওয়া যেত, এখনো তাই আছে। ফলে বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়ে তারা পেশা বদল করছেন।
নাগেরবাজার এলাকার তেল মিল মালিক অনুপ দেবনাথ বলেন, “বাবার হাতে গড়া নারিকেল তেলের কারবার এখন টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি মাত্র। আগের মতো ব্যবসা আর নেই।”
তিনি জানান, আগে উপকূলীয় জেলা নোয়খালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, যশোর, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরা থেকে বাগেরহাটে নারিকেল আসত। এখন ওইসব জেলাতেই তেলের মিল গড়ে উঠেছে। ফলে বাগেরহাটে নারিকেলের আমদানি কমে গেছে।
বাগেরহাট কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হীরেন্দ্রনাথ হাওলাদার বলেন, জেলার নয়টি উপজেলার নব্বই ভাগ নারিকেল গাছে ‘মাইট’ পোকার আক্রমণ বেড়েছে। ডাব অবস্থায় এই পোকা আক্রমণ করছে। ফলে গত তিন বছর ধরে জেলায় নারিকেলের ফলন কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে।
এ জন্য সদর উপজেলার দশ ইউনিয়নে গত আট মাস ধরে চাষিদের নিয়ে সভা করা হচ্ছে। কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জলবায়ুর পরিবর্তন ও পরিবেশগত কারণেও নারিকেলের ফলন কম হচ্ছে বলে মনে করেন এই কৃষিবিদ।
তিনি বলেন, ২০০৭ সালের সিডরের পর এ অঞ্চলে পানি ও মাটিতে লবণাক্ততা অনেক বেড়ে গেছে। ফলে নারিকেল গাছের অবস্থাও বিশেষ ভাল না। চাষিরা বেশি লাভের আশায় গাছে নারিকেল না শুকিয়ে ডাব অবস্থায় বিক্রি করে দিচ্ছেন।
বাগেরহাট শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শাজাহান মিনা বলেন, বাগেরহাটের নারিকেল তেল শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে ভারত ও শ্রীলংকার মতো বাংলাদেশেও উপকূলীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নারিকেলের চাষ করা প্রয়োজন।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে