Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৫-২০১২

‘ইউনূসের বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’

‘ইউনূসের বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’
গ্রামীণ ব্যাংক আইন সংশোধন নিয়ে ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ।
শুক্রবার দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ড. ইউনূস এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদও বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে আইনের এ সংশোধনী বাতিল করবেন। এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণই রাজনৈতিক বক্তব্য।”
গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিধি পরিবর্তন করে সংশোধিত গ্রামীণ ব্যাংক আইন বুধবার অধ্যাদেশ আকারে জারি করে সরকার। বৃহস্পতিবার এটি প্রকাশ হওয়ার পর ইউনূস দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
সরকার গত বছর গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইউনূসকে অপসারণের পর থেকে এই নোবেল বিজয়ীর সঙ্গে সরকারের টানাপড়েন চলেছে। আর এর মধ্যেই ইউনূসের পক্ষ নিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।
সংশোধিত অধ্যাদেশ জারির প্রতিক্রিয়ায় নোবেলজয়ী এই বাংলাদেশি এক বিবৃতিতে বলেন, “দিনটি জাতির ইতিহাসে কালো দিবস হিসেবে লেখা থাকবে। আমাদের সরকার নোবেলজয়ী প্রতিষ্ঠানটির স্বাতন্ত্র্য, অর্জন কেড়ে নিচ্ছে।”
ইউনূসের এ দাবিকে অপপ্রচার উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে সামান্য সংশোধন আনা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরো জানান, এরশাদের শাসনামলে একটি অধ্যাদেশের বলে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক আইনে সামরিক সরকারের আমলে দুইবার সংশোধন আনা হয়েছিল।
ইউনূস বিবৃতিতে বলেন, “এই সংশোধনীর ফলে গ্রামীণ ব্যাংক সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে পরিচালিত হবে।”
তার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী বলেন, “এটি নিছক অপপ্রচার। কারণ এতে কারো ক্ষমতা বাড়ানো বা কমানো হয়নি।”
“সংশোধনীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি সিলেকশন কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগের আইনেও সিলেকশন কমিটি গঠনের বিষয়টি ছিল। এটি বোর্ডের ওপর অর্পিত ছিল। এখন তা চেয়ারম্যানের ওপর অর্পণ করা হয়েছে”, ব্যাখ্যা দেন তিনি।
“চেয়ারম্যান বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেই বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে এ সিলেকশন কমিটি গঠন করবেন। ওই কমিটি যোগ্যদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি প্যানেল বাছাই করে বোর্ডের কাছে জমা দেবেন। পরিচালনা বোর্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে আগের আইন অনুযায়ীই একজনকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ করবেন”, যোগ করেন তিনি।
অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে সংসদের অধিবেশন নেই। তাই ব্যাংকটির জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই আইনটি উপস্থাপন এবং অনুমোদন করা হবে।”
শফিক আহমেদ মনে করেন, আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের আইন সরকার সংশোধন করতেই পারে। এ নিয়ে অপপ্রচার চালানোর কিছু নেই।
বিবৃতিতে গ্রামীণ ব্যাংককে ‘গরিব মহিলাদের মালিকানার ব্যাংক’ হিসেবে ইউনূসের দাবি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “উনি যে এই দাবি করেছেন, উনি কি কখনো মালিকদের লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ট) দিয়েছেন। ব্যবসা করলে মালিকরা লভ্যাংশ পাবেন, এটাই নিয়ম। কিন্তু তিনি তো কখনো মালিকদের লভ্যাংশ দেননি। বরং নিজেরা সুবিধা নিয়েছেন।”
“দেশে আইন আছে। আইনের অধীনেই এ ব্যাংকটি চলে। এখানে উনি যা করতে চাইবেন, তা তো হতে দেওয়া যায় না। উনি যা বলবেন বা করবেন, তাই আইন হিসেবে বিবেচিত হবে, এটাও তো হতে পারে না। তার ইচ্ছামতো একটি সরকারি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান চলতে পারেন না”, যোগ করেন তিনি।
মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আইন ভঙ্গ করেছেন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, “উনি নিজেই তো আইনের বরখেলাপ করেছেন। সরকার তো আইন অনুযায়ী সব পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি আদালতে গিয়ে মামলায় হেরে বিদায় নিয়েছেন। তার মুখে এ নিয়ে কথা বলা মানায় না।”
১৯৮৩ সালে একটি সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনা হওয়ার পর থেকেই এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসা ইউনূসকে বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়ার কারণ দেখিয়ে গত বছর অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে হেরে যান তিনি।
এরপর থেকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
ইউনূস বলে আসছেন, সরকার মনোনীত চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নিয়োগের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ এর সদস্যদের কাছ থেকে ‘কেড়ে’ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা পুরোপুরিই নিতে চায়। তা প্রতিরোধে দেশবাসীকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।
ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের চেষ্টাকে ‘শান্তি স্থাপন’ বিবেচনা করে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংককে।
২০১০ এর ডিসেম্বরে নরওয়ের টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া বিদেশি অর্থ এক তহবিল থেকে অন্য তহবিলে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে। এর পর দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকা- পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে সরকার। গ্রামীণ ব্যাংক ও সহযোগী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে নানা ‘অসঙ্গতির’ তথ্য উঠে আসে ওই কমিটির প্রতিবেদনে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে