Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৫-২০১২

রাজপথে সার্কাস!

রাজপথে সার্কাস!
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকায় একটি সার্কাস দলকে ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড়। থেকে থেকেই বিস্ময়ে হতবাক জনতা। ক্রমেই বড় হতে থাকে মজমা।
আতঙ্ক জাগানিয়া শারীরিক সব কসরতের নৈপুন্যে কখনও বা সমস্বরে চিৎকার করে উঠছে দর্শক সারিতে থাকা বালকের দল। প্যান্ডেল নেই, টিকিট নেই- রাজপথে দিনেদুপুরে মুফতে সার্কাস দেখার এ এক মহাসুযোগই বটে!
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ভেতরের রাস্তার খোলা জায়গায় এ দৃশ্য দেখা যায়। বিনে পয়সায় সার্কাস দেখার এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় উৎসবপ্রিয় বাঙালি।
তবে বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে এটি কোনো সার্কাস দলের আয়োজন ছিল না। একটি পরিবারের সদস্যরাই এর আয়োজক। জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবেই রাজপথে তাদের এ বিনোদন পসরা।  
সার্কাস পাগল হিরা মিয়ার সংসার চলে এভাবেই। খেলা দেখিয়ে উপার্জিত টাকা দিয়েই চলে ৭ সদস্যের পরিবারটি। আর ওরা প্রত্যেকেই সার্কাস পার্টির সদস্য।
হিরা মিয়া থাকেন কেরানীগঞ্জে। তবে একা নন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে তার সংসারে রয়েছে বোন নিলুফা, ভাগ্নে জীবন, ভাগ্নের স্ত্রী শাকিলা, ভাগ্নি শিল্পী ও ছোট আরেক ভাগ্নে হাসান। হিরা মিয়ার স্ত্রীর মৃত্যুর পর শিশু সন্তান সেতুকে তার খালার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে ময়মনসিংহে। বয়স এখন ৯। ওই শিশুটি আর হিরা মিয়ার বোন ও ভাগ্নের স্ত্রী ছাড়া সবাই সার্কাস খেলায় পারদর্শী।
শুক্রবারের আয়োজন ছিল ভাগ্নে জীবন, ভাগ্নি শাকিলা আর অপর ভাগ্নে হাসানকে নিয়ে।  প্রায় ২০ রকমের খেলা দেখান তারা। সার্কাসের সেই শ্বাসরুদ্ধকর বর্শা খেলাটি ছিল দর্শকদের জন্য বড় বিস্ময়। সব মিলিয়ে পুরো একটি প্যাকেজ আয়োজন।
হিরা মিয়ার কাছে  সার্কাস এখন শুধু শিল্প নয়; সংসার চালানোর হাতিয়ার। তবে একা সার্কাস দেখিয়ে সামান্য আয়ে সংসার চলে না।  তাই সার্কাস দল না থাকলেও স্বপরিবারেই রাস্তায় রাস্তায় খেলা দেখিয়ে পেশাটি ধরে রাখছেন তিনি।
একসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লোকজ মেলা বা স্বতন্ত্রভাবে টিকিটের মাধ্যমে সার্কাসের আয়োজনের প্রথা ছিল।  নামি-দামি সার্কাস দল দেশের বিভিন্ন এলাকায় আসর বসাতো। মানুষকে নির্মল বিনোদন দিয়ে উপার্জন করতো হিরা মিয়ার মতো সার্কাস শিল্পীরা। কিন্তু আকাশ সংস্কৃতির দাপটে যাত্রা-সার্কাসের সেই কদর আর নেই।
হিরা মিয়ার পরিবারের এসব সদস্যরাও দেশের নামি-দামি সেইসব আয়োজনের অংশীদার ছিল এক সময়।
হিরা মিয়ার ভাগ্নে জীবন জানান, তার মামার সঙ্গে তিনি দি লক্ষণ দাস সার্কাস, দি রওশন সার্কাস, ফাইভস্টার সার্কাসসহ বিভিন্ন সার্কাস দলে চাকরি করেছেন। কিন্তু এখন আর সেসব দলের কোনো আয়োজন নেই। সময়ের পরিক্রমায় প্রায় সব দলই ভেঙে গেছে।
হিরা মিয়া জানান, অনেক টাকা খাটিয়ে সার্কাস দল চালিয়ে লোকসানের দায় কেউ ঘাড়ে নিতে চায় না। তাছাড়া লোকজন আধুনিক নানা বিনোদন বেছে নিয়েছে।
তবে নির্মল এই বিনোদনটির এখনও কিছু মানুষের মধ্যে চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি।
হিরা মিয়ার ভাগ্নে জানান, মামার গুরু ছিলেন নরোত্তম দাস। সবাই জানেন হিরা মিয়ার বাবা নরোত্তম দাস। আমরাও তাকে নানা হিসেবেই জানি।
জীবনের মা হিরা মিয়ার বোন নিলুফা বলেন, নরোত্তমই মানুষ করেছেন আমাদের। সার্কাস শিখিয়ে জীবন-জীবিকা চালানোর পথ দেখিয়েছেন। আজ সার্কাস দল নেই, তাই আমার ভাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেই দল করেছেন।
আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করেও জীবন চলতে চায় না। পরিশ্রমের বিনিময় জোটে না। নির্ভর করতে হয় মানুষের দয়ার ওপর। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্শা খেলার মতো খেলায় অংশ নিয়েও মানুষের কাছে শেষ পর্যন্ত হাতই বাড়াতে হয়।
তিনি জানান, গুলজারের মতো ওস্তাদও মারা গেছেন বর্শার আঘাতে। এরপরও অর্থের তাড়নায় খোলা জায়গায় বেশি ঝুঁকি নিয়েই চালাতে হয় ছুরি। যে কোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণহানির মতো ঘটনা। তারপর আছে স্থানীয় মাস্তান আর পুলিশের উপদ্রব। তারা রাস্তা-ঘাটে আসর জমাতে দেয়না অনেক সময়ই।
অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত বিড়ম্বনা তো আছেই। বৃষ্টি-বাদলার দিনে বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না।
এভাবেই বিনোদন ফেরি করে বেড়ানো মানুষগুলো তাদের জীবন-জীবিকার কথা বলে যাচ্ছিলেন। শত যাতনা সত্ত্বেও তাদের নামতে হয় পথে। 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে