Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৫ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.8/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৪-২০১২

জিয়া পরিবারের ২৫ মামলা

মতলু মল্লিক


জিয়া পরিবারের ২৫ মামলা
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে ২৫টি মামলা। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি, তারেক রহমানের ১৪, কোকোর ৫ এবং তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে একটি।

পাঁচটি মামলা থাকলেও বেগম খালেদা জিয়া এর সবগুলোতে জামিনে আছেন। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশে চারটি মামলা স্থগিত থাকলেও একটিতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা করা হয়। তবে ২০০৯ সালে একটি মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তারেক রহমানের বাকি মামলাগুলোর মধ্যে চারটি স্থগিত রয়েছে। তিনি চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বিদেশে গেলে গত বছর প্যারোল বাতিল করে সরকার। এরপর দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে পলাতক বিবেচনায় একাধিক মামলায় তার জামিন বাতিল করেন আদালত। এদিকে অর্থ পাচার মামলায় কোকোর ছয় বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা হয়। জোবায়দা রহমানের মামলাটি স্থগিত এবং তিনি এ মামলায় জামিনে আছেন। বর্তমান সরকারের সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে একটি করে। বাকি মামলাগুলো বিগত ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে করা।

খালেদা জিয়ার মামলা

গ্যাটকো দুর্নীতি : কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য গ্যাটকো লিমিটেডকে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রের এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে খালেদা জিয়া ও কোকোসহ ১৩ জনকে আসামি করে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্দসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলাটি করে দুদক। একই বছরের ৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। মামলাটির অভিযোগ (চার্জ) গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি : জিয়াউর রহমান চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলতি বছর ৮ আগস্ট নগরীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করে দুদক। এ মামলায় তিনি ৮ ডিসেম্বর হাজির হয়ে আবেদন করলে হাইকোর্ট আট সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। তবে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করেননি উচ্চ আদালত।

বড়পুকুড়িয়া দুর্নীতি : বড়পুকুড়িয়া কয়লাখনির ঠিকাদারি কাজে ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি করে দুদক। মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

নাইকো দুর্নীতি : নাইকো রিসোর্স কোম্পানিকে অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর মামলাটি করে দুদক। এ মামলার কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে।

তারেক রহমানের মামলা : অর্থ পাচার : সিঙ্গাপুরে প্রায় ২১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করে দুদক। মামলায় তারেকের বন্ধু বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকেও আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। মামলাটিতে বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জন : অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় মামলাটি করে দুদক। এ মামলায় তারেকের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকেও আসামি করা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

আয়কর ফাঁকি : বিভিন্ন করবর্ষে ২৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আয়কর ফাঁকির অভিযোগ এনে ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট মামলাটি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ মামলায় ওই মাসের ২৭ তারিখ হাইকোর্টের আদেশে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার জামিনের মেয়াদ কয়েকবার বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২ জুলাই এক আদেশে জামিনের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : বিস্ফোরক ও হত্যার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলায় আসামি করা হয়। মামলা দুটি ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে বিচারাধীন। সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

চাঁদাবাজিসহ ফৌজদারি অভিযোগ-সংক্রান্ত মামলা : এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৮ মার্চ গুলশান থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি করেন বিএনপি নেতা ও ঠিকাদার আমিন আহমেদ ভূঁইয়া। এ মামলায় তারেকের ব্যক্তিগত সহকারী মিয়া নুরুদ্দিন অপুকেও আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৮ মার্চ অভিযোগপত্র দেয়। পরে তারেক রহমানের পক্ষে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। ৮০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ গুলশান থানায় মামলা করেন জনৈক খান মো. আফতাব উদ্দিন। ওই থানায় একই বছরের ২৭ মে ৪ কোটি ৮৯ লাখ চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা করেন আবু সাঈদ সোহেল। একই থানায় ২০০৭ সালের মার্চে হারুন ফেরদৌস এবং ১৩ মে সৈয়দ শাহেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। একই বছর ১৪ এপ্রিল শাহবাগ থানায় মামলা করেন খায়রুল বাশার। এ ছাড়া ২০০৭ সালের মার্চে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে, একই মাসে কোম্পানি আইন ভঙ্গ ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গুলশান থানায় পৃথক তিনটি মামলা করে পুলিশ। চাঁদাবাজি ও ঘুষ গ্রহণের কয়েকটি মামলায় তারেকের বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে সহযোগী আসামি করা হয়। এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেককেও আসামি করা হয়েছে। মামলাগুলোর বিচারকাজ হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।

কোকোর মামলা : অর্থ পাচার : ৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৭২ মার্কিন ডলার এবং ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ৬০৪ সিঙ্গাপুর ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ কোটি টাকা) পাচারের অভিযোগে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ কাফরুল থানায় মামলাটি করে দুদক। এ মামলায় কোকো ছাড়াও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের ছেলে সায়মনকে আসামি করা হয়। গত বছর ১২ নভেম্বর এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এ মামলায় চলতি বছর ২৩ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত কোকোকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন।

চাঁদাবাজি : চাঁদাবাজির অভিযোগে গুলশান থানায় ২০০৭ সালের ২৭ মার্চ ও ১৬ মে পৃথক দুটি মামলা হয়। মামলা দুটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জন : ২ কোটি ৪ লাখ ৬১ হাজার ২০৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ১১ লাখ ২০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৩ এপ্রিল রমনা থানায় মামলা করে দুদক। মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

আয়কর ফাঁকি : ২৪ লাখ ৩৯ হাজার ২২৬ টাকার কর ফাঁকির অভিযোগে গত বছর ১ মার্চ মামলাটি করে এনবিআর। মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়টি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

ডা. জোবায়দার মামলা : অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করে দুদক। মামলায় জোবায়দা রহমানের মাকেও আসামি করা হয়। মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

এসব মামলা সম্পর্কে জিয়া পরিবারের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে করা প্রতিটি মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ দেশে কখনোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা কোনো মামলাই টেকেনি। ন্যায়বিচার হলে সব মামলায় জিয়া পরিবারের সবাই খালাস পাবেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে বিচার বিভাগেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তবে আইন ও আদালতের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। আশা করি আমরা ন্যায়বিচার পাব। প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের পর তৎকালীন গুরুতর অপরাধ দমন জাতীয় সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) করা শীর্ষ দুর্নীতিবাজের তালিকায় তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই বছর ৭ মার্চ তাকে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী। পরে গুরুতর অসুস্থতার কারণে ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক। সরকার গত বছর প্যারোল বাতিল করলেও তিনি লন্ডনেই চিকিৎসাধীন আছেন। এ ছাড়া গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেফতার হন কোকো। কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় ২০০৮ সালের মে মাসে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাময়িক মুক্তি দেয় তৎকালীন সরকার। সাময়িক মুক্তি পেয়ে বড় ভাই তারেকের মতো তিনিও থাইল্যান্ড চলে যান এবং এখনো সেখানে রয়েছেন। বিদেশ থেকে নিয়মিত আবেদন পাঠিয়ে সাময়িক মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে নিলেও গত বছর ১৯ আগস্ট সাময়িক মুক্তি বাতিল করে তাকে ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেয় সরকার।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে