Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (26 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৪-২০১২

মুহিতের প্রতিদ্বন্দ্বী মিসবাহ

চয়ন চৌধুরী


মুহিতের প্রতিদ্বন্দ্বী মিসবাহ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সম্প্র্রতি ওই আসনের বর্তমান এমপি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ একই আসনে দলীয় টিকিটে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। অ্যাডভোকেট মিসবাহ ঘনিষ্ঠজনদের কাছে এমন আগ্রহের কথা বলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় আগামী
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর আগেই ওই আসনে প্রার্থিতা নিয়ে সিলেট আওয়ামী লীগে টানাপড়েন শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে পরাজিত করেন মহাজোট প্রার্থী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নির্বাচনের পর সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা মুহিত আর নির্বাচন করবেন না বলেই এতদিন ঘনিষ্ঠ মহলে বলে আসছিলেন। রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ততার জন্য অর্থমন্ত্রী প্রত্যাশিত সময় দিতে না পারায় ওই সময় সিলেট আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের সঙ্গে তার কিছুটা দূরত্বও সৃষ্টি হয়। গত ১৩ জুলাই সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেট-১ আসনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ওইদিন সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সবকিছু ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানোর মাধ্যমে মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠেই নেমে পড়েন অর্থমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই অর্থমন্ত্রী নির্বাচনের এত আগে মাঠে নেমেছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। একাধিক সূত্র জানায়, মহাজোট সরকারের আমলে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম জনসভার ৫ দিন আগে গত ১৯ মার্চ জাতীয় সংসদে সিলেটের সব এমপি ও জেলা-মহানগরের শীর্ষ নেতারা প্রস্তুতি সভায় মিলিত হন। ওই সভায় অর্থমন্ত্রী মুহিত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আবারও সিলেট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা জানান। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জুন 'আলোকিত সিলেট-অগ্রযাত্রার সাড়ে তিন বছর' শিরোনামে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তিও উপস্থাপন করেন তিনি।
অন্যদিকে জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনের কথা প্রকাশ্যে না বললেও সম্প্র্রতি সিলেটে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট মিসবাহও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে আসছেন। প্রথমে অ্যাডভোকেট মিসবাহ সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবলেও এখন জাতীয় নির্বাচনের কথাই ভাবছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়। সিলেট আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা সমকালকে বলেন, অর্থমন্ত্রী মুহিত আর নির্বাচন করবেন না বলে সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে দলীয় টিকিট পাবেন বলে শোনা গিয়েছিল। দলীয় নেতাকর্মীরাও কামরানকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে বেশ আগ্রহী ছিলেন। তারা মনে করেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসন ধরে রাখতে হলে কামরানের মতো জনপ্রিয় প্রার্থী প্রয়োজন। কামরান জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হলে এই সুযোগে মেয়র পদে অ্যাডভোকেট মিসবাহ দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের কথা ভেবেছিলেন।
অর্থমন্ত্রী মুহিত আবারও নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় মেয়র কামরান আর জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে দলীয় সূত্র জানায়। এ অবস্থায় অ্যাডভোকেট মিসবাহ নিজেই জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তবে অ্যাডভোকেট মিসবাহ এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে এখনও মুখ খুলছেন না। তিনি সমকালকে বলেন, অনেক দিন ধরেই আমার জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছে আছে। এখন দলীয় প্রধান (শেখ হাসিনা) আমাকে যেখানে দেবেন, সেখানেই আমি নির্বাচন করব। অ্যাডভোকেট মিসবাহ বলেন, নির্বাচনে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে দলের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসন আবার শেখ হাসিনাকে উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি।
অন্যদিকে সিলেটে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে (সিলেট-১) আমি পুনরায় অংশগ্রহণ করব। এ জন্য সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে দল ও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সিলেট সার্কিট হাউসে ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ততার জন্য গত সাড়ে তিন বছর এলাকার জনগণকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে না পারার জন্য 'দুঃখ প্রকাশ'ও করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পাশাপাশি তিনি আজীবন সিলেটের উন্নয়নে সম্পৃৃক্ত থাকারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে