Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২১-২০১২

অধিকতর তদন্তের জালে গ্রেনেড হামলা মামলা

অধিকতর তদন্তের জালে গ্রেনেড হামলা মামলা
সম্পূরক অভিযোগপত্র আর অধিকতর তদন্তের জালে আটকে আছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার। ২০০৪ সালে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমাবেশে সেদিনের সেই ভয়াবহ ঘটনার বিচার আট বছরেও শেষ হয়নি।
পুরনো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন এজলাসে ঢাকার ১নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. শাহেদ নুর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচারকাজ চলছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক ও হত্যা  মামলায় এ পযর্ন্ত ৬৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
প্রথম দফায়  গ্রেনেড সংগ্রহ ও সরবরাহকারী, আক্রমণের পরিকল্পনাকারী আসামিদের শনাক্ত এবং অন্তর্ভূক্ত না করেই অভিযোগ পত্র দাখিল করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিনিয়র সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ফজলুল কবির।
সে সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্যানেলের প্রধান রেজাউর রহমান মামলা দু’টির অধিকতর তদন্তে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়- ঘটনার সময় গ্রেনেড হামলা এবং বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মানুষ হতাহতের ঘটনা তদন্ত করে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
তবে বিশেষ ধরনের গ্রেনেড সংগ্রহ ও সরবরাহের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত  হয়নি। একটি প্রভাবশালী মহল এ গ্রেনেড সংগ্রহ ও সরবরাহের জন্য দায়ী। তারা তদন্ত ও বিচার কাজের বাইরে রয়েছেন। এ জন্যই মামলা দু’টির অধিকতর তদন্ত হওয়া দরকার।
এ আবেদনের পর আদালত মামলা দু’টি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
সেসময় মামলা দু’টির সাক্ষ্য গ্রহণ চলাকালে এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটির পুনরায় তদন্ত চেয়ে আদালতে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট মামলাটি অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন আদালত। দুই মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সে আদেশের পর ২০০৯ সালের ১৩ আগস্ট অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর সম্পূরক অভিযোগপত্র দিতে দুই বছরে কমপক্ষে ১২ বার সময় নেওয়া হয়।
গ্রেনেড হামলার ৪৬ মাস পর ২০০৮ সালের ১১ জুন প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। এ অভিযোগপত্রে ২২ জনকে আসামি করা হয়।
আরো ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলেও আহসানউল্লাহ কাজল ও মো. মাসুদ তদন্তকালে মারা যান এবং ওমর ফারুক, শুভ, ফেরদৌস ও বাবুর সঠিক নাম ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়।
প্রথম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, বিএনপি নেতা শাহ মোফাজ্জল হুসাইন কায়কোবাদ, বিএনপির ঢাকা মহানগর শাখার নেতা ও ৫৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুর ইসলাম আরিফ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও ব্রিগেডিয়ার আব্দুর রহিম, ডিজিএফআইর সাবেক কর্মকর্তা লে.  কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) বর্তমান প্রধান মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, হুজি’র নায়েবে আমির মাওলানা মাওলানা আব্দুল হান্নান ওরফে সাব্বির, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির (আইডিপি) আহ্বায়ক মাওলানা আবদুস সালাম, কাশ্মিরি জঙ্গি আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম, মাওলানা আব্দুর রউফ, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, বাবু ওরফে রাতুল বাবু, পুলিশের সাবেক ডিসি (পূর্ব) মো. ওবায়দুর রহমান, পুলিশের সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, ও সাবেক মেজর জেনারেল এটিএম আমিন।
সম্পূরক অভিযোগপত্রের ৩০ আসামির মধ্যে তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, কায়কোবাদসহ এখনও ১২ জন পলাতক আছেন।
আগের অভিযোগপত্র ও সম্পূরক অভিযোগপত্র মিলিয়ে এ মামলায় ৫২ জন আসামি। এদের মধ্যে ১২ জন পলাতক রয়েছে।
এছাড়া, মামলা তদন্ত কর্মকর্তার বিভিন্ন আবেদনের প্রেক্ষিতে বোমা হামলার যড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে আসামি করা হয়।  
 মামলায় এ পযর্ন্ত  আট জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরা হলেন- মুফতি হান্নান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, আরিফ হাসান সুমন ও রফিকুল ইসলাম সবুজ।    
অপরদিকে, মামলার তদন্তে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪শ’ ৮ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে সিআইডি। সাক্ষিদের মধ্যে আরো আছেন- আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, পুলিশ সদস্য, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও গুলিস্তান এলাকার বিভিন্ন বিপণি বিতানের নিরাপত্তা কর্মী ছাড়াও আরো ১৩শ’ জন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে