Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.7/5 (28 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৮-২০১২

আন্দোলনের সুযোগ দিতে চায় না আওয়ামী লীগ

আন্দোলনের সুযোগ দিতে চায় না আওয়ামী লীগ
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিরোধী দল আন্দোলনের কথা বললেও এ ইস্যুতে আন্দোলনের সুযোগ দিতে চায় না সরকারি দল। ইতিমধ্যে দলের নেতারা নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির বিকল্প আর কি হতে পারে এবং সেই সরকার ব্যবস্থার রূপরেখা এবং আইনি কাঠামো কেমন হবে এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছেন। লন্ডনে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে বিরোধী দলকে অংশ নেয়া এবং এসংক্রান্ত আলোচনার যে আহ্বান জানিয়েছেন এটিকে দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন নেতারা। এবং প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সূত্র ধরে নেতারা কথাও বলছেন। দলীয় সূত্র জানায়, কোন অবস্থাতেই আগের তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় সায় দেবে না আওয়ামী লীগ। এ ধরনের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে দলের নীতিনির্ধারক ফোরামের। এর বাইরে সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার সব দরজাই খোলা রাখছে দলটি। প্রয়োজনে নির্বাচনের আগে সংবিধান সংশোধন করার ক্ষেত্রেও আপত্তি থাকবে না ক্ষমতাসীন দলের। দলীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের বাকি সময়ের মধ্যেই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার একটি সুরাহা চায় ক্ষমতাসীন দল। এজন্যই বিরোধী দলের প্রতি আলোচনা ও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে মতামত দেয়ার জন্য সরকারি দলের নেতারা বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক না হলেও একই আদলে সব দলের মতামতের ভিত্তিতে কোয়ালিশন সরকার হতে পারে। এই সরকারের প্রধান কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। এবং এই আলোচনার জন্য ক্ষমতাসীন দল প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, দেরিতে হলেও ১৮ দলীয় জোট তাদের ভুল বুঝতে  পেরেছে। বিএনপি একটি রূপরেখার কথা বলেছে। সে হিসাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ঈদের পর রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথার পর এ বিষয়ে আর কোন  ধোঁয়াশা থাকার কথা নয়। কারণ, তিনি সবার অংশগ্রহণ ও সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন করতে চান। আলোচনার মাধ্যমেই সঙ্কটের সমাধান সম্ভব বলে জানান তিনি।
দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, কোন অবস্থাতেই আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফেরা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিএনপি আলোচনার আগ্রহ দেখালে আওয়ামী লীগ সংলাপের উদ্যোগ নেবে।
সংলাপ উদ্যোগে আওয়ামী লীগ শুধু বিরোধী দলকেই গুরুত্ব দিচ্ছে না। এ ইস্যুতে যাতে সকলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় সেজন্য সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। এবং প্রক্রিয়ায় সমাধান  বের হলে বিরোধী দল কোন কৃতিত্ব দাবি করতে পারবে না বলেও মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এছাড়া, নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান করার ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ছাড় দেয়া হতে পারে বলেও নেতারা আভাস দিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে প্রেসিডেন্টকে ওই সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব দেয়া হতে পারে।
দলীয় সূত্র জানায়, ঈদের পর অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা কি হতে পারে তা নিয়ে দলীয় ফোরাম ও মহাজোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সরকারের শরিক জাতীয় পার্টি, জাসদ এবং ওয়ার্কার্স পার্টিও চাইছে এ বছরই অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে।
সূত্র জানায়, দল ও জোটের মধ্যে আলোচনা ছাড়া এ বিষয়ে প্রধান বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং পেশাজীবীদের মতামতও নেয়া হবে।
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলে এতদিন যে আলোচনা ছিল তা থেকেও অনেকটা পিছিয়ে এসেছে দলটি। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে প্রয়োজনে কিছুটা ছাড় দেয়ার পক্ষে দলের নেতারা। তবে বিরোধী দলের দাবির কাছে হার মানা বা পুরো দাবি মেনে নেয়ারও পক্ষপাতী নন তারা। এ কারণেই সবার সঙ্গে আলোচনা করে মতামত নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা ঠিক করতে চায় আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য শরিক দলগুলোও চায় প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়ে আলোচনার যে সুযোগ সৃষ্টি করেছেন তা কাজে লাগাতে। এ নিয়ে জোটের শরিক ১১ দলের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। শরিক দলগুলোর নেতারা চান নির্বাচনকালীন যে সরকারই হোক তার রূপরেখা এখনই স্পষ্ট করা উচিত। এ বিষয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান মল্লিক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা নির্ধারণ করা জরুরি। আমরা আগে থেকেই এটি বলে আসছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে আইডিয়ার কথা বলেছেন, এ বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিতে আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করবো। তিনি বলেন, ১১ দল আলাদা বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে। ১১ দলের শরিকরাও মনে করেন বিষয়টি অচিরেই সুরাহা হওয়া উচিত।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে