Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (85 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৭-২০১২

গৌরীপুরে শতাধিক শিক্ষক পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ

গৌরীপুরে শতাধিক শিক্ষক পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৯টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক পরিবার দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্তহীন থাকায় তাদের বেতন বন্ধ রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পরিবার পরিজন নিয়ে চরম অর্থকষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। আসন্ন ঈদে তাই এ শিক্ষকদের পবিবারে নেই ঈদের আনন্দ। জানা গেছে, সরকারের সব নিয়মনীতি অনুসারে নিয়োগভুক্ত হন তারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একাডেমিক স্বীকৃতিও লাভ করে। কিন্ত গত এক যুগ পেরিয়ে গেলেও ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষদের বেতনভুক্ত করা হয়নি। কবে থেকে বেতন পাবেন সে নিশ্চয়তা বা প্রতিশ্রুতিও পাননি। ফলে প্রতিটি শিক্ষক পরিবারের মাঝে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে হতাশ হয়ে এ পেশা ছেড়ে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন অনেক শিক্ষক। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় বোর্ডের একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এমপিওহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হচ্ছে ৯টি। সেগুলো হলো- খায়রুদ্দিন খান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গুজি খাঁ দেওয়ানবাগী নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সিধলা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নজরুল ইসলাম স্মৃতি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাচার সামাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, নাজির উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা, মহিশ্বরন দাখিল মাদ্রাসা, হাসানপুর দাখিল মাদ্রাসা ও শ্রীধরপুর দাখিল মাদ্রাসা। খায়রুদ্দিন খান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এইচ কবির জানান, বছরব্যাপী বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে যে কষ্ট পাই না, তার চেয়ে বেশি কষ্ট পাই দুই ঈদে। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, সারাবছর শিক্ষকতা করে যখন ঈদ উৎসবেও আর্থিক টানাপোড়েনে তাদের দিন কাটাতে হয় তখন এ কষ্ট বহুগুণে বেড়ে যায়। বিশেষ করে দুটি ঈদে নিজের বৌ-ছেলে-মেয়ে ও অন্য শিক্ষকদের হাতে যখন একটি টাকাও তুলে দিতে পারি না, তখন নিজেদের মানুষ হিসেবে ভাবতে কষ্ট হয়। সিধলা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশরাফুল কামাল রিপন বলেন, অন্য এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো আমরাও সরকারি নিয়মনীতি মেনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু মাস শেষে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি বেতন পান, আর আমাদের শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। পিতা-মাতা, স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের উৎসব আবদার মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত অন্যের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়। খায়রুদ্দিন খান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি শরাফ উদ্দিন খান পাঠান বলেন, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একযুগ বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিয়ে যাচ্ছেন, যা খুবই অমানবিক। আর কতকাল তারা এভাবে শিক্ষকতা করে যাবেন? তিনি সরকারের কাছে এমপিওহীন বিদ্যালয়গুলোকে এমপিওভুক্ত করার জোর দাবি জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এমপিওভুক্তকরণের বিষয়টি সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

ময়মনসিংহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে