Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯ , ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৫-২০১২

ছবি তুলেই ‘আপলোড’, সচেতনতার নতুন দিশা

ছবি তুলেই ‘আপলোড’, সচেতনতার নতুন দিশা
যখন-তখন মোবাইলে ছবি তোলা এবং সোজা দিয়ে দেয়া ফেসবুক-টুইটার-অর্কুটের পাতায় এই অভ্যাসটাই এখন এক সুতোয় গাঁথে একটা গোটা প্রজন্মকে। ছবির তালিকায় শুধু প্রেমিকার সাজ কিংবা আড্ডা নয়, ফ্যাশন শো, মিটিং-মিছিল-যানজট থেকে জমা পানির দুর্ভোগ, দুর্ঘটনা থেকে দুর্যোগ, অপরাধ থেকে অব্যবস্থা সবকিছুই।

অনেক ক্ষেত্রে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে দেয়া এমন ছবির সূত্রেই ধরা পড়ছে অভিযুক্ত। অপরাধ-দুর্নীতির ছবি বা ভিডিও ঘিরে এই সব সাইটে তুমুল আলোচনা বা বিতর্কে গড়ে উঠছে জনমত, কিছু ক্ষেত্রে যা মানসিক জোর বাড়িয়ে, আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে সুবিচার পাওয়ার লড়াইয়েও এগিয়ে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের যাবতীয় খুঁটিনাটির ছবি দেওয়া তো আছেই। বিয়ে থেকে হানিমুন, রান্না থেকে আড্ডা সবই হাজির এ সব সাইটের পাতায়।

কিন্তু সোশ্যাল নেটওয়াকির্ং সাইটে ছবি ‘শেয়ার’ করার এই প্রবণতা এগিয়ে দিচ্ছে ঠিক কোন দিকে? ব্যক্তিগত জীবনটাকে হাটখোলা করে আরও প্রশস্ত করে দিচ্ছে সাইবার অপরাধের পথ? নাকি জুগিয়ে দিচ্ছে যেকোনো সমস্যা-দুর্ভোগ-বিতর্কে বিশ্বজুড়ে তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা, গড়ে তুলছে জন-সচেতনতা? এ প্রশ্নে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ সওয়াল করছেন এ প্রবণতার সমাজের ভালো করার ক্ষমতা নিয়ে, কেউ বা এতেই দেখছেন অশনি সংকেত।

স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে কমবয়সী চাকুরে এ প্রজন্মের একটা বড় অংশই যখন-তখন মোবাইল হাতে ছবি তোলেন। আর সব ছবিই সোজা দিয়ে দেন ফেসবুক-টুইটার-অর্কুটে। মাস কয়েক আগে এক ভূমিকম্পে কলকাতার অফিসপাড়ায় হেলে পড়া বহুতলের ‘অ্যামেচার’ ছবি। সম্প্রতি ভারতের আসামে গুয়াহাটিতে এক তরুণীর শ্লীলতাহানির ভিডিও-ও এসব সাইটে দেখেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে কলকাতা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায়। অনেক ক্ষেত্রে আবার এভাবে ছবি আপলোড করা খুলে দিচ্ছে সাহায্যের পথও। রাস্তায় একটা দুর্ঘটনা দেখেছিলেন এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। অজ্ঞাতপরিচয় আহতের ছবি মোবাইলে তুলে তিনিই দিয়ে দেন দু’টি সাইটে।

মোবাইলে ছবি তুলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার এই সুযোগকে তাই সাধারণ মানুষের ক্ষমতাবৃদ্ধি হিসেবেই দেখছেন সমাজতত্ত্ববিদরা। তারা বলছেন, ঠিক যেভাবে বিভিন্ন সংস্থা বা দফতর সিসিটিভির নজরদারি চালায়, তেমনই সাধারণ মানুষেরও ক্ষমতা আছে নজরদারি করার সমাজের সর্বত্র এই বার্তাটা পৌঁছে দেয়া গেলে অপরাধ-দুর্নীতি-অব্যবস্থায় জড়িতদের কাছে এটা একটা হুঁশিয়ারি হয়ে উঠবে। এটা নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন।

তারা আরো বলছেন, অপরাধ, অব্যবস্থার ছবি তুলে এ সব সাইটে দিয়ে দেয়া মানেই তো পৌঁছে গেল গোটা বিশ্বের কাছে। এতেই একটা চাপ তৈরি হয়। অথচ হয়তো সূত্রপাত করেছিলেন খুব সাধারণ কেউ। আজকাল তো অভিযোগ, ক্ষোভ উগরে দেয়ার জায়গাও এই সাইটগুলোই। তখন নড়েচড়ে বসা ছাড়া উপায় থাকে না। সব কিছুরই খারাপ দিক থাকে। তা বলে ভাল দিকটাকে অস্বীকার করতে হবে?

আইনের লোকেরাও মানছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা বললেন, “কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে ধরতে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ছড়িয়ে পড়া ছবি আমাদের সাহায্য করে। তবে শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকরী হবে তা বিচারের উপরে নির্ভর করে।”

মোবাইলে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘শেয়ার’ করার এই প্রবণতাটা তবে কি মোটের উপর ভালো চোখেই দেখছে সমাজ? যা হয়ে উঠছে জন-সচেতনতা তৈরির হাতিয়ার?

কেউ কেউ বলছেন, এসব সাইটে লোকে সাধারণত হাল্কা মেজাজে সময় কাটায়। তখন সচেতনতা গড়ে তোলার মতো গুরুগম্ভীর বিষয়গুলো কি ততটা গুরুত্ব পায়? বরং অশালীনতা বা সাইবার অপরাধের সুযোগ অনেক বেশি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে