Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ১০-১৮-২০১১

সৌভাগ্যের মাঠে বৃষ্টির ঝাপটা

সৌভাগ্যের মাঠে বৃষ্টির ঝাপটা
বেলা ১টা ৩০ মিনিট। প্রেসবক্স থেকে মাঠে দুই রকম প্রস্তুতিই দেখা যাচ্ছিল। একপাশে ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের গা-ঘামানো। কিন্তু আরেক পাশের ছবি দেখে সন্দেহ জাগছিল, আদৌ গা-গরম হচ্ছে কি না! মেঘের গুরুগম্ভীর গর্জনের মধ্যেই যে ততক্ষণে টিপটিপ বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে! অন্য প্রস্তুতিটা বৃষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের। উইকেট তো ঢাকা পড়েছেই, মাঠের প্রায় অর্ধেকটাই কাভারের নিচে।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ হলে খেলা শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগের বৃষ্টি নিয়ে এত কিছু বলার ছিল না। কিন্তু এটা চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। এখানে বৃষ্টি মানেই একটা কিছু এবং সেটা খেলার ২৪ ঘণ্টা আগে হলেও। বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি, টেস্টের অর্ধেকটা ভেসে গেছে?এমন উদাহরণ এ মাঠে অনেক। বিসিবির মাঠসংশ্লিষ্ট লোকজন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের আকাশে মেঘ দেখলেই ?ঘর পোড়া গরু? হয়ে যান। কাল সকালে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দাঁড়িয়েও যেমন গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান শফিকুর রহমান বলছিলেন, ?ওয়েদার ফোরকাস্ট কিন্তু ভয়াবহ। কামনা করছি খেলাটা হোক...।?
এটা বোধ হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই বড় এক দুর্ভাগ্য, ক্রিকেটের আধুনিক যুগে সব রকম সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এ দেশের কোনো কোনো টেস্ট ভেন্যুতে দাঁড়িয়ে বিসিবি কর্মকর্তাদের অবস্থা হয়ে যায় দুস্থ কৃষকের মতো। আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে হয়, ফসল হবে তো (পড়ুন ?খেলা হবে তো?)? আর আজকের ম্যাচের আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আসলেই উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর বিপদসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আগামী চার দিনও নাকি চট্টগ্রামে হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা। তার মানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজকের শেষ ওয়ানডের পর শঙ্কার মধ্যে পড়ে যেতে পারে প্রথম টেস্টের শুরুটাও। ২১ অক্টোবর থেকে এ মাঠেই শুরু হওয়ার কথা বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্ট।
কাল এই প্রতিবেদন লেখার সময় বেলা ২টায় মাঠ ভেসে যাচ্ছিল প্রবল বৃষ্টিতে। গা-গরম বাদ দিয়ে দৌড়ে ড্রেসিংরুমে ঢুকে পড়েছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপের সময় বলা হয়েছিল, পানিনিষ্কাশনব্যবস্থা ভালো না হলেও বৃষ্টির সময় চট্টগ্রামে পুরো মাঠ ঢাকার ব্যবস্থা করা আছে। কিন্তু সেটা দেখা গেল না। মাঠকর্মীরা মাঠের বেশ খানিকটা ঢেকে ফেললেও পুরোটা নয়। যেটুকু খোলা পড়ে থাকল, দুপুরের মিনিট চল্লিশেকের বৃষ্টির পর কাল রাতে আবার বৃষ্টি হয়ে থাকলে এবং আজ সকালে কড়া রোদ না উঠলে ওসব জায়গায় পা পিছলে যেতে পারে মাঠ পর্যবেক্ষণ করতে নামা আম্পায়ারদের। টেস্ট ভেন্যুর এই হাল দেখে মনে মনে বাংলাদেশের ক্রিকেট কর্মকর্তাদের পিণ্ডি চটকাতে পারেন তাঁরা। তাঁদের তো আর জানা নেই, ফতুল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আধুনিক পানিনিষ্কাশনব্যবস্থার জন্য ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়ার পরও সেই টাকা ফেরত চলে গেছে নির্ধারিত সময়ে কাজ না হওয়ায়।
তবে বৃষ্টি-বাধা পেরিয়ে আজ ঠিকঠাকভাবে খেলা হলে অন্তত ম্যাচের আগে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশই। খেলাটা জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এবং গত বিশ্বকাপে এটি বাংলাদেশ দলের জন্য সৌভাগ্যের মাঠ হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে। ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৮ রানে অলআউট হওয়ার পর চট্টগ্রামে এসে পর পর দুই ম্যাচে ইংল্যান্ড এবং হল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও জেতায় এখানে সর্বশেষ তিন ম্যাচেই জয় দেখেছে বাংলাদেশ। কাল বৃষ্টি নামার আগে প্রসঙ্গটা তুললে বাংলাদেশ দলের অনেক ক্রিকেটারই স্বীকার করলেন, চট্টগ্রামের মাঠ তাঁদের কাছে চাপ থেকে বেরিয়ে আসার একটা খোলা জানালা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই জানালাটা খুলে যেতে পারে আরও হাট করে। খেলা দূরের কথা, ড্যারেন স্যামির দলের ক্রিকেটাররা জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামকে চোখের দেখাই প্রথম দেখলেন কাল! বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে ম্যাচ ছিল না ক্যারিবীয়দের। ২০০২ সালে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে এসে চট্টগ্রামে একটি ওয়ানডে ও একটি টেস্ট খেললেও দুটি ম্যাচই হয়েছিল এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে। ২০০৬ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হওয়া বিভাগীয় স্টেডিয়াম সম্পর্কে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সব ধারণাই তাই তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে। কাল সকালে তো মাঠে এসে ভুল করে স্বাগতিক দলের ড্রেসিংরুমেই ঢুকে পড়ছিল দলটা!
অধিনায়ক স্যামি অবশ্য বোঝালেন, চট্টগ্রামে তারা হঠাৎ আসা আগন্তুক হলেও সেটা সমস্যা হবে না, ?উইকেট খুবই ভালো মনে হচ্ছে। আশা করছি, এ মাঠে বাংলাদেশের সাফল্যের দিনটা এবার শেষ হবে। আমাদের ভালো প্রস্তুতি আমাদের জয়ের সম্ভাবনাও বাড়াচ্ছে।?
স্যামি যে উইকেটের কথা বললেন, সেটা বাংলাদেশের জন্য পয়মন্ত। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া সাফল্য এসেছে এই উইকেটেই। তার চেয়েও বড় কথা, আজকের ম্যাচের উইকেট নাকি বাংলাদেশের স্পিনারদের জন্য খুশি হওয়ার মতো। সিরিজ হেরে গেলেও শেষ ম্যাচে চট্টগ্রামের মাঠ মুশফিকুর রহিমদের জন্য আবারও হয়ে উঠতে পারে নিজেদের ফিরে পাওয়ার মঞ্চ।
তার আগে অবশ্য খেলাটা হতে হবে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খেলা হওয়ার জন্য অবশ্যপূরণীয় শর্ত ছিল দুটি?আজ ম্যাচের আগ পর্যন্ত আর বৃষ্টি হওয়া যাবে না এবং সকাল থেকেই থাকতে হবে কড়া রোদ।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে