Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০ , ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (41 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৩-২০১২

দুই নেত্রী মোসাহেবদের সরান কাল শোক ও ইবাদত করব

পীর হাবিবুর রহমান


দুই নেত্রী মোসাহেবদের সরান কাল শোক ও ইবাদত করব
মাননীয় দুই নেত্রী স্তাবকদের সরান। মোসাহেবদের হাজার মাইল দূরে ঠেলে দিন। ওরা আপনাদের বন্ধুবেশী শত্রু। ওরা মানুষ ও দেশের শত্রু। ওরা সুবিধাবাদী আজ্ঞাবহ দাস। ওরা আপনাদের অনেক ক্ষতি করেছে। ওরা আপনাদের মাঝখানেই দেয়াল তোলেনি, ওরা গণতন্ত্রের মাঝখানে বিচ্ছেদের দেয়াল তুলেছে। ওরা কখনো আপনাদের সত্য বলার সাহস রাখেনি। সত্যকে আড়াল করে আপনাদের সাময়িক সন্তুষ্ট করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়। আপনারা যখন যে ক্ষমতায় ওরা ঠিক ঠিক মতো আপনাদের আশপাশে ভর করে ফায়দা লুটে আর চারদিকে দেয়াল তোলে। এই দেয়াল দলের অগণিত নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মী ও বিবেকবান স্বজনকে দূরে ঠেলে দেয়। বহুদূর সরিয়ে দেয়। কেউ অভিমানে সরে যায়। কেউ গভীর বেদনা নিয়ে আড়ালে চুপ হয়ে যায়। কেউ বা ক্ষোভ, অপমান, হতাশায় যন্ত্রণাবিদ্ধ হয়ে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়। তবুও এদের কেউ এ দেয়াল অতিক্রম করে আপনাদের কাছে সত্য বলতে পারেন না। আপনারা দুনিয়া ঘুরে এসে চোখ খুলে একবার কি ভেবেছেন_ এ দেশের মতো লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপকেরা আর কোথাও দলীয় অন্ধ কর্মীর মতো চলেন? বিভক্তির সীমারেখা টেনে পেশাজীবীরা দলীয় কর্মীদের চেয়ে আপনাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশে নির্লজ্জ প্রতিযোগিতায় যেভাবে লিপ্ত হন তা কি কখনো আপনাদের বা দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে এনেছে? স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও সিভিল সোসাইটি থেকে রাজনৈতিক সচেতন মানুষ বার বার জাতীয় ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যের নিরন্তর কোরাস গাইছে। তবুও জাতীয় ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য হয় না। জাতির নেতৃত্ব দেবেন আপনারা, আপনারাই তো জাতীয় ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য না হওয়ার কারণ কী, তার উত্তর দেবেন। আপনাদের নেতৃত্বে গণতন্ত্রের সংগ্রামে কত মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে! কত মায়ের বুক খালি হয়েছে! আপনাদের নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্রের নবযাত্রার ২১ বছর পর এসেও কেন গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি তার উত্তর আপনাদেরই তো দিতে হবে। আপনারাই সংসদ নেতা ও বিরোধী দলের নেতা ছিলেন ২১ বছর। আপনারাই এখনো আছেন দেশের রাজনীতির দুই ধারার নেতৃত্বে উজ্জ্বল মহিমায়। গণতন্ত্রের সংগ্রামে আপনাদেরও অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। আপনাদের জীবন-মৃত্যুর মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে লড়তে হয়েছে। রাজনীতির জন্য আপনাদের খেসারতও দিতে হয়েছে। কেউ অনেক বেশি, কেউবা কম মাত্র। তবু কেন ২১ বছরে সংসদ কার্যকর হলো না? তবু কেন মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো না? তবু কেন দিনে দিনে রাজনীতি, দুর্নীতি, দলীয়করণ প্রতিহিংসার ধারায় প্রতিযোগিতামূলকভাবে আগ্রাসী রূপ নিল? তবু কেন রাজনীতিতে রাজনীতিবিদদের বদলে, রাজনৈতিক কর্মীদের বদলে ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীরা উঠে এলো? কোথাও কম, কোথাও বা বেশি। প্রশাসনসহ পেশাজীবীরা দলকানা দাস হয়ে গেল দিনে দিনে। সে তো আপনাদেরই নেতৃত্বের ছায়ায় ছায়ায়। মাননীয় দুই নেত্রী, এ দেশের জনগণ আপনাদের বার বার গণরায়ে অভিষিক্ত করেছে। আপনাদের নেতা-কর্মীরা বার বার আপনাদের নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থেকেছেন। আজ মানুষ ও নেতা-কর্মীদের অন্তহীন বেদনাভরা প্রশ্নের উত্তর আপনারা কি দেবেন না? দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা সরকারি আনুকূল্য ও সহযোগিতা পান না কেন? ব্যাংক-ঋণের চড়া সুদ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের দুয়ার খুলতে দিচ্ছে না। এতে অর্থনীতির চাকা ঘুরছে না। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে সোনার ছেলেদের মুক্তি মিলছে না। মধ্যস্বত্বভোগী দালাল, ফড়িয়া, মন্ত্রীপাড়া ও সচিবালয়ের তদবিরবাজ আর রাজনৈতিক ছায়ায় গজিয়ে ওঠা আদর্শহীন টাউটেরা ক্ষমতার ছায়ায় আখের গুছিয়ে নেয় বলে আপনারা ক্ষমতায় থাকতে মানুষের ভাষা পেঁৗছাতে দিতে চায় না। শেয়ার কেলেঙ্কারির নায়কেরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। শেয়ারবাজারে গরিবের অর্থ যারা লুট করেছেন তারা সবাই আপনাদের দুজনের ছায়ায় ছায়ায় বাস করেন, ক্ষমতার বেনিফিশিয়ারি হন। আপনারা ক্ষমতা হারালে দলের লাখো লাখো নেতা-কর্মীর ওপর যখন নির্যাতনের কালো ছায়া নেমে আসে তখন তারা দায় নেন না। তবুও আপনারা এদের কেন আশ্রয় দেন, প্রশ্রয় দেন?

মাননীয় দুই নেত্রী, স্বাধীনতা-উত্তরকালে স্তাবক-মোসাহেব বেঁটে মুসলমান খন্দকার মোশতাক রোজ টিফিন ক্যারিয়ারে করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্য খাবার নিয়ে আসতেন। মোসাহেবির চূড়ান্ত নগ্নতায় নেমে মোশতাক শেখ মুজিবের অনুকরণে পাইপ টানারও চেষ্টা করতেন। পরিষ্কার ঝকঝকে প্লেট মোশতাকের সহচর তাহের উদ্দিন ঠাকুর মুছে দিতেন। '৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির মহান নেতা শেখ মুজিব পরিবার-পরিজনসহ জীবন দিলে বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের চেহারা নিয়ে চাটুকার মোশতাক-তাহের ঠাকুরেরা ক্ষমতার মসনদে বসেছিলেন খুনিদের নিয়ে। সেদিন তাজউদ্দীন ছিলেন সরকার থেকে নির্বাসনে। '৭৫-এর ৩ নভেম্বর রাতের অাঁধারে ঘাতকের বুলেটে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এ এইচ এম কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন_ আদর্শের বন্ধুই বড় বন্ধু। দলের লাখো নেতা-কর্মী জেল-জুলুম, নির্যাতন সয়েছেন। ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। সেদিনের ইতিহাস বেশি দূরের নয়। আপনাদের ছায়ায় ছায়ায় রাজনীতি একসময় ছিল আদর্শবাদিতার। ত্যাগ-তিতিক্ষার। আজ রাজনীতিতে ভোগবিলাস, বিত্ত-বৈভবের অহঙ্কার কেমন করে দানবের সর্বগ্রাসী রূপ নিল? আপনারা নেতৃত্বের মহিমায় উজ্জ্বল থাকতে কেমন করে রাজনীতি থেকে ঐতিহ্যের গৌরব নির্বাসিত? দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী-নেতার চেয়ে কেমন করে বিত্তশালীরা টাকার বিনিময়ে নিয়ে যান মনোনয়ন? কেমন করে ঘটে যায় মনোনয়ন-বাণিজ্য নামে রাজনীতির হারাম ঘটনাটি? কেমন করে মন্ত্রীর পদ বিক্রির খবর রটে মানুষের মধ্যে? কেমন করে সংসদ বর্জন অব্যাহত থাকে এত শহীদের রক্ত উপেক্ষা করে? এত রক্তের বিনিময়ে কেমন করে এরশাদ পতনের পর রাজনীতি নির্লজ্জভাবে হয়ে ওঠে অর্থ কামানোর নিরাপদ বাহন? কেমন করে গণতন্ত্রের দুই নেত্রীর ছায়ায় রাজনীতির সে াতধারা বহমান থাকাবস্থায় মন্ত্রী, এমপি, আমলা ও তাদের সিন্ডিকেট দুর্নীতির উল্লাস করে? কেমন করে দিনে দিনে সৎ ও আদর্শবাদী মানুষেরা আপনাদের কাছ থেকে দূরে চলে যায়? কেমন করে তারা সমাজে অবহেলিত হয়ে ওঠে? কেমন করেই বা দুর্নীতির বরপুত্রেরা কদর পায়?

মাননীয় দুই নেত্রী, দেশ রাজনীতিবিদেরাই পরিচালনা করবেন। রাজনীতি সংশোধিত হয়ে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে হাঁটবে নাকি জাতির জীবনে ঘোর অন্ধকার নেমে আসবে সহিংসতার পথে, সে সিদ্ধান্ত আপনারাই নেবেন। আজ আমি আপনাদের কাছে একটি বিনয়ী অনুরোধ রাখতে এসেছি। সাধারণ মানুষের গভীর অনুভূতি উপলব্ধি করে এক নেত্রীর কাছে সবিনয় অনুরোধ_ তোষামোদকারীদের সরান। মানুষের ভাষা শুনুন। দলের লাখো লাখো নেতা-কর্মীর চোখের ভাষা দেখুন। যারা আপনার সন্তুষ্টির জন্য বলে বেড়ান পদ্মা সেতুর চুক্তি বাতিলের পেছনে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের হাত রয়েছে, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন_ মধ্যরাতে মন্ত্রীর এপিএসের কাছে পাওয়া টাকার বস্তাও কি তবে তার? এই মোসাহেবেরা সুবিধা ও ক্ষমতার মোহে লাভের ধান্দায় আপাতত আপনাকে খুশি করার চিন্তা করছেন। তাল মিলিয়ে তাল মিলিয়ে দাসত্ব করছেন। এই নির্বোধ দাসদের চেয়ে আপনি চিন্তা করুন সৃজনশীল সমালোচকেরা কি আপনার বড় বন্ধু নন? আপনার কাছে আরেকটি অনুরোধ_ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের নেতা নন। তিনি এখন জাতির নেতা। আওয়ামী লীগকে যারা পছন্দ করেন না, আওয়ামী লীগকে যারা সমর্থন করেন না তারাও গভীর শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় এই মহান নেতাকে লালন ও ধারণ করেন। মহান মুজিবের মতো দেশপ্রেমিক নেতা এই জাতির জীবনে আসেনি। কখনো আসবেও না। তার মতো জাতির জনকের ছবি আওয়ামী লীগের অনেক দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজের পোস্টারে যখন দেখি তখন বুকে রক্তক্ষরণ হয়। মহান শেখ মুজিবের নামে আপনার কাছে অনুরোধ_ দলীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুন যত্রতত্র তার ছবি ব্যবহার না করার জন্য। একই সঙ্গে কোনো হইচই নয়, চাঁদাবাজি নয়, গভীর শোক ও বেদনার সঙ্গে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে জাতীয় শোক দিবস পালনের শিক্ষা দিন।

আরেক নেত্রীর কাছে অনুরোধ_ জীবনের পড়ন্ত বেলার দিকে যাচ্ছেন। এ দেশ আপনাকে সম্মানের আসন বার বার দিতে কার্পণ্য করেনি। রাজনীতিকে গণমানুষের স্বার্থে, দেশের কল্যাণে, গণতন্ত্র ও শান্তির পথে নিতে কীভাবে ভূমিকা রাখবেন তার পথ বের করুন। আপনার কাছে শেষ অনুরোধ_ আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশ দিয়ে গেছেন বলেই আপনি একটি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বার বার। আপনার স্বামী এই মহান নেতার ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বীরউত্তম খেতাবেই ভূষিত হননি, রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন। আপনার কাছে আজ গণমানুষের গভীর আবেগ-অনুভূতি ধারণ করে একটি বিনীতি অনুরোধ_ জাতির বেদনাবিধুর জাতীয় শোক দিবসের রজনীতে কেক কেটে হাতে তালি দিয়ে আপনার জন্মদিনের উৎসব পালন করবেন না। একজন জাতীয় নেত্রী হিসেবে, গণতন্ত্রের নেত্রী হিসেবে আপনার প্রতি আমরাও শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে যখন একদল অন্ধ বিবেকশূন্য মোসাহেবের আনা বিশাল সাইজের কেক কাটার আনন্দঘন জন্মদিন পালনের অশ্লীল দৃশ্য দেখি তখন বুকের ভেতরটা ডুকরে কেঁদে ওঠে। এটা আমাদের সংস্কৃতিবিরোধীও। যারা এটা চালু করেছেন তারা আপনার মিত্র নন, বন্ধু নন, শত্রুর চেয়েও ভয়ঙ্কর। দোহাই আল্লাহর, লাখো লাখো সাধারণ মানুষের কথা ভেবে রাজনৈতিক গৌরবের বর্ণাঢ্য অতীতের দিকে তাকিয়ে আপনি এই কেক কেটে জন্মদিন পালনের উৎসব বন্ধ করুন। যদি আপনার জন্মদিন হয় সে রাতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করুন। গরিবকে খাওয়ান। দোয়া মাহফিলে আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন চাওয়ার পাশাপাশি মহান শেখ মুজিবের আত্দার মাগফিরাত কামনা করেও মুনাজাত করান।

মাননীয় দুই নেত্রী, আপনাদের পাশ থেকে মোসাহেব-স্তাবকদের সরান। কাল আমরা গভীর বেদনার সঙ্গে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে শোক পালন করব। জাতির মহান নেতার জন্য দোয়া-দরুদ-নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করব। আমরা পবিত্র শবেকদরে আমাদের গুনাহ মাফ চেয়ে ভাগ্য বদলের জন্য মুনাজাত করব। মাননীয় দুই নেত্রী, চাটুকারদের আশপাশে রেখে মহান আল্লাহর কাছে মনপ্রাণ উজাড় করে মুনাজাতও করতে পারবেন না। নিমগ্ন চিত্তে এই রজনীতে ইবাদত-বন্দেগিও করা যাবে না। কারণ চাটুকারেরা আল্লাহর ইবাদত রেখে আপনাদের বন্দনা শুরু করবে, যা আপনারাও চান না। তাই এই তোষামোদকারীদের সরান। আমরা শোক ও ইবাদত করব।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে