Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯ , ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (22 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-১৮-২০১১

অস্বচ্ছতার মধ্যেই নিরীক্ষক নিয়োগ

অস্বচ্ছতার মধ্যেই নিরীক্ষক নিয়োগ
দেশের বিভিন্ন মুঠোফোন কোম্পানির নিরীক্ষণের জন্য নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগের এখনো সুরাহা হয়নি। অথচ নিরীক্ষা শেষ করে অর্থও দাবি করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
বিটিআরসি গত এপ্রিল মাসে দুটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়। প্রয়োজনীয় দলিলাদি ছাড়াই নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ফজল অ্যান্ড কোম্পানি ও আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোম্পানিকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় দেশের নানা স্তরের আদালতে আপত্তি-পাল্টা আপত্তি জানানো হয়েছে। বিষয়টি এখনো বিচারাধীন। উচ্চ আদালত বা আপিল বিভাগ বিটিআরসির এ নিয়োগ-প্রক্রিয়া বৈধতার পক্ষে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো রায় দেননি। অথচ দুটি বড় মুঠোফোন কোম্পানি গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের নিরীক্ষা করেছে বিটিআরসি।
ইতিমধ্যে গ্রামীণফোনের গত ১৫ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও প্রদেয়-অপ্রদেয় করের হিসাব নিরীক্ষা করা শেষ। মুঠোফোন কোম্পানিটির কাছে পাওনা চেয়ে ২১ দিনের সময় দিয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। পৌনে পাঁচ মাসে (১৭ এপ্রিল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর) এ কাজটি শেষ করেছে বিটিআরসির নিয়োগ করা নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ফজল অ্যান্ড কোম্পানি।
আর বাংলালিংকের কাজ ধরার কিছুদিনের মধ্যেই অর্থাৎ গত ১৯ এপ্রিল ?কারিগরি প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি মুঠোফোন কোম্পানির নিরীক্ষায় অক্ষম? জানিয়ে কাজ বাদ দিয়েছে আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোম্পানি। পরে তাদের বদল করে আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরীর ফার্মকে বাংলালিংকের নিরীক্ষার জন্য নিয়োগ দেয় বিটিআরসি।
নিরীক্ষক নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা: গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করে বিটিআরসি। দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে যথাযথ শর্তাবলি স্পষ্ট না করেই কারিগরি প্রস্তাব চাওয়া হয়।
দরপত্র জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখ ছিল ১৮ অক্টোবর। পরে ১৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত কারিগরি প্রস্তাব বাছাই করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছয়টি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়। এদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কারিগরি প্রস্তাব যাচাই না করেই তাদের আর্থিক কর্মপরিকল্পনা চায় বিটিআরসি। বিটিআরসির কার্যপরিধি (টার্ম অব রেফারেন্সেস) সরবরাহ করা হয় গত ২ ফেব্রুয়ারি। আর সংক্ষিপ্ত তালিকার ছয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৮ অক্টোবর।
সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত নীতিমালা (পিপিআর-২০০৮) অনুযায়ী, কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কমপক্ষে ৪২ দিন সময় দেওয়ার কথা। সেখানে বিটিআরসি কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাবের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব মিলিয়ে মাত্র সাড়ে ২৩ দিন সময় দেয়।
২২ ফেব্রুয়ারি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফজল অ্যান্ড কোম্পানি ও আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোম্পানিকে কর্মপরিকল্পনাসহ তথ্যচিত্র উপস্থাপনের জন্য আহ্বান করে বিটিআরসি। পরবর্তী সময়ে এদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়।
ফজল অ্যান্ড কোম্পানির অবস্থান: ফজল অ্যান্ড কোম্পানিকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নালিশে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। পেশাগত অযোগ্যতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ২০০০ সালের ১ এপ্রিল থেকে আইসিএবির ওই নির্দেশ কার্যকর করা হয়। এ ছাড়া গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বরে তৈরি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকা অনুযায়ী, ফজল অ্যান্ড কোম্পানি দ্বিতীয় সারির (?বি? গ্রেডের) নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান।
নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সিনিয়র পার্টনার আবুল বাশার আগে র‌্যাংকসটেলের (বেসরকারি ল্যান্ডফোন) প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ছিলেন। আর কারিগরি সহযোগিতার জন্য নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত শেখ কামরুজ্জামান ও মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে বৈদেশিক কল আদান-প্রদানের (ভিওআইপি) অভিযোগ করেছিল খোদ বিটিআরসি। গত বছরের ১৯ মার্চ ওই দুই ব্যক্তি অবৈধ ভিওআইপিতে জড়িত বলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন খোদ বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ। এই দুজন র‌্যাংকসটেলে সুইস রুমে কর্মরত ছিলেন।
নিয়োগ বাতিলে সিপিটিইউর আদেশ: নিরীক্ষা নিয়োগ নিয়ে বিটিআরসির দরপত্র-প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে অপর একটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত কারিগরি ইউনিটে (সিপিটিইউ) আপত্তি জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সিপিটিইউ গত ৮ মে বিটিআরসিকে ওই নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মতামত দেয়। সিপিটিইউ বলেছে, এ দুই কোম্পানির নিয়োগ-প্রক্রিয়া সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত নীতিমালার (পিপিআর-২০০৮) পরিপন্থী।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ: সিপিটিইউর নির্দেশ জানার পরে তা মেনে নিতে গত ২৪ মে বিটিআরসিকে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু ২৬ মে মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো চিঠিতে বিটিআরসি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মানতে আপত্তি জানায়। লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সাজেদা পারভীনের সই করা ওই চিঠিতে জানানো হয়, ?জনস্বার্থে বিটিআরসি অডিট কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।?
অস্বচ্ছতার অভিযোগে বিটিআরসির বক্তব্য: বিটিআরসির দাবি, নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হয়নি। এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সরাসরি নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এসব টেলিযোগাযোগ কোম্পানির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা চলবে।
আদালতের সর্বশেষ হাল: এ নিয়োগ নিয়ে গত মে মাস থেকে আদালতে নালিশ ও আপিলের পর্ব চলছে। শেষ পর্যন্ত গত ২৫ আগস্ট আদালত ?মুঠোফোন অপারেটরদের হিসাব নিরীক্ষার জন্য বিটিআরসির নিয়োগ করা অডিট ফার্মের নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের জন্য দেওয়া? হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। ছয় সপ্তাহের এ স্থগিতাদেশের সময় শেষ হয়েছে ৫ অক্টোবর। এর আগে গত ১৯ আগস্ট বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে বিটিআরসির ?অডিট ফার্ম নিয়োগ অবৈধ ও বাতিল? ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। নিরীক্ষা কোম্পানি কে এম আলম অ্যান্ড কোম্পানি মামলাটি করেছিল।
এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম প্রথম আলোকে জানান, স্থগিতাদেশের সময়ে (৫ অক্টোবরের মধ্যেই) বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। বিষয়টির আইনি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সব পক্ষের অপেক্ষা করা উচিত ছিল।
তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে