Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.5/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৮-২০১২

রাজধানীতে তালাক বাড়ছে

মতিন আব্দুল্লাহ



রাজধানীতে তালাক বাড়ছে
ঢাকা সিটি করপোরেশনের হেলাফেলায় রাজধানীতে বাড়ছে বিয়েবিচ্ছেদের সংখ্যা। সামান্য বনিবনা না হওয়ায় স্ত্রী স্বামীকে, স্বামী স্ত্রীকে পাঠাচ্ছেন তালাকের নোটিশ। মধ্যস্থকারী হিসেবে সিটি করপোরেশনের যে ভূমিকা পালন করার কথা তার কিছুই করছে না সংস্থাটি। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ৯০ দিনে ৩০ দিন পর পর তিনটি সালিশ করার পর মিল না হলে তালাক কার্যকর করতে হবে। কিন্তু তালাকের আবেদন জমা পড়ার পর কোনো ধরনের সালিশ কার্যক্রম না করেই নির্দিষ্ট সময় পর পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে তালাক সনদ। ফলে সমঝোতার পরিবর্তে দিন দিন রাজধানীতে বাড়ছে তালাকের সংখ্যা।

২০০৫ সালে এক বছরে তালাকের সংখ্যা ছিল চার হাজার। ২০১০-এ তা বেড়ে সাড়ে পাঁচ হাজারে পেঁৗছেছে। ডিসিসির বিভিন্ন অঞ্চলে কথা বলে জানা গেছে, তালাকের সংখ্যা এখন আরও বেড়েছে। সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীতে বিয়েবিচ্ছেদের সংখ্যা বছরে ছয় হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

ডিসিসি সূত্র জানায়, বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনা বেশি ঘটছে উচ্চবিত্ত পরিবারে। পরকীয়া, পরনারী বা পরপুরুষে আসক্তি, যৌতুক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে বছরে প্রায় ছয় হাজার বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। দুই বছর ধরে তালাক-সংক্রান্ত কোনো পরিসংখ্যান রাখা হচ্ছে না। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার সালিশি কার্যক্রম পরিচালনা করার দায়িত্ব থাকলেও তারা তা করছেন না।

বিয়েবিচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তালাক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এ সব ব্যাপারে তার কিছুই জানা নেই। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে খোঁজ নিয়ে বলতে পারবেন। কারণ তিনি সংস্থার নির্বাহী প্রধান হিসেবে কাজ করছেন আট মাস ধরে। বিভিন্ন অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে সংসার ভাঙায় মেয়েরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। তালাকের আবেদনের বেশির ভাগই স্ত্রীর পক্ষ থেকে। ডিসিসির এক হিসাবে দেখা গেছে, স্ত্রীদের পক্ষ থেকে তালাকের আবেদন আসছে শতকরা ৮০টি, আর পুরুষের পক্ষ থেকে ২০টি। মনস্তত্ত্ববিদ, সমাজবিশ্লেষক, গবেষক, নারীনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের এটা নিয়ে রয়েছে বিচিত্র বিশ্লেষণ। তবে সবাই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, নানা কারণে এ রকম হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রধান দুটি কারণ, মেয়েরা আগের চেয়ে বেশি শিক্ষিত হচ্ছে তাই মুখ বুজে নির্যাতন সহ্য করতে নারাজ। দ্বিতীয়ত, মোবাইল অপারেটরগুলোর সহজলভ্য অফার, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও পর্নোগ্রাফির মতো সহজলভ্য উপাদানে আকৃষ্ট হয়ে তারা মূল্যবোধ ও নৈতিকতা হারাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ডিসিসির সালিশ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে নামে মাত্র। শুধু তালাকের সনদ দেওয়া ছাড়া আর কোনো কার্যক্রম নেই তাদের। উভয় পক্ষকে ডেকে পারস্পরিক সমঝোতার কার্যক্রম মোটেই হচ্ছে না। ডিসিসির বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতি মাসে মেয়র বরাবর প্রতিবেদন পাঠানোর নিয়ম থাকলেও তা পাঠানো হয় না। মেয়র সাদেক হোসেন খোকার শেষ সময় থেকে এমন হেঁয়ালিপনা শুরু হয়। আর এখন বিরাজ করছে এর চরম অবস্থা।

সালিশি বৈঠকের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অঞ্চল-১-এর নির্বাহী কর্মকর্তা ড. নাসির উদ্দিন বলেন, সামাজিক অস্থিরতা, মাদকাসক্তের প্রভাব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পরস্পরকে ছাড় না দেওয়া, মেয়ের মা কিংবা ছেলের মা-বোন ঘর ভাঙার জন্য অনেকাংশে দায়ী। এ ছাড়া ন্যায়বিচার পাওয়ার অনিশ্চয়তায় নারীরা তালাকের রাস্তা বেছে নেন। আগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের আইন বিভাগ থেকে সালিশ কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কিন্তু হঠাৎ বিয়েবিচ্ছেদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। ফলে ২০০৬ সালে পুরো এলাকাকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক সালিশ বোর্ড গঠন করে ঢাকা সিটি করপোরেশন। একই বছরের ১১ আগস্ট থেকে এ সব অঞ্চলভিত্তিক অফিসে ১০ জন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালিশ পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। এ সংখ্যা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। মূলত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় তালাকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম কবীর আহমেদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তালাকের আবেদন এলে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি এর সমাধানের।





জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে