Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৮-২০১২

ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল স্বীকার করলেন খালেদা জিয়া

মাহমুদ আজহার



ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল স্বীকার করলেন খালেদা জিয়া
২০০৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ ক্ষেত্রে দলের নীতিনির্ধারকেরাও তাকে সঠিক পরামর্শ দেননি বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠায় পরবর্তী প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিনকে প্রধান উপদেষ্টা করলেও ওয়ান-ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি এড়ানো যেত বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

গত বৃহস্পতিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে বেগম জিয়া বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। একপর্যায়ে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ও কে এম হাসানকে নিয়ে কথা উঠলে তিনি এসব কথা বলেন। তবে ওই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে চেষ্টা করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, 'তখন এমন একটি অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল যাতে এর বাইরে বিকল্প কিছু করার ছিল না।' কিন্তু তার কোনো ব্যাখ্যাই ধোপে টেকেনি। বেগম জিয়া স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বলেন, 'বিচারপতি কে এম হাসানকে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় তার স্থলে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করা যেত। তিনি আওয়ামী লীগ পছন্দ করুন কিংবা অন্য কোনো দল পছন্দ করুন, তাতে কোনো সমস্যা ছিল না।' বিএনপি চেয়ারপারসন উদাহরণ টেনে বলেন, 'বিচারপতি লতিফুর রহমানও তো আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন। তাতে তো কোনো সমস্যা হয়নি।' এ সময় তিনি ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টির জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নিজেদের নেওয়া ওই সময়ের সিদ্ধান্তকেও দায়ী করেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, 'ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান উপদেষ্টা করা অবশ্যই ভুল ছিল। এটা আমরা তখন বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে বুঝতে পেরেছি। তা ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করা ঠিক নয়। অবশ্য সংবিধানে এর একটি বিধান রয়েছে, যা হলো সর্বশেষ ধাপ। তবে ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টির বিষয়টি আগাম বলা সম্ভব ছিল না।' স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, 'বৈঠকে নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিশেষ করে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ভূমিকা নিয়েও কথাবার্তা হয়।' ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াও মনে করেন ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান উপদেষ্টা করা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না।

প্রসঙ্গত, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদ শেষে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিচারপতি কে এম হাসানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিরোধিতা ও তুমুল রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াউজদ্দিন আহম্মেদ ২৯ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার শপথ নেন। কিন্তু তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করেন। জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের পদ থেকে সরেও দাঁড়ান। পর দিন ১২ জানুয়ারি ড. ফখরুদ্দীন আহমদ প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন।





জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে