Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৮-২০১২

শায়খুল হাদিস আল্লামা আজীজুল হক আর নেই


শায়খুল হাদিস আল্লামা আজীজুল হক আর নেই
ঢাকা, ৮ আগষ্ট- উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ,  ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা আজীজুল হক আর নেই। গতকাল  দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর আজিমপুরে নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শায়খুল হাদিস দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি পাঁচ ছেলে, আট মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। দেশ-বিদেশে তার হাজার হাজার ছাত্র রয়েছে। তার পরিবারের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ প্রায় ৭০ জন সদস্য কোরআনে হাফেজ। শায়খুল হাদিসের পরিবার সূত্রে জানা  গেছে, তার নামাজে জানাজা আজ বেলা ১১টায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। আজিজুল হক দেশ-বিদেশে হাদিস বিশারদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ছয় দশকেরও  বেশি সময় তিনি হাদিসের চর্চা ও পাঠদানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতির পুরোধা। চারদলীয় জোট প্রতিষ্ঠাকালে তিনি ছিলেন অন্যতম শীর্ষ নেতা। ১৯৯৩ সালে বাবরী মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে যে লংমার্চ হয়েছিল তাতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শায়খুল হাদিস। মোহাম্মদপুর সাতমসজিদ জামেয়া রাহ্‌মানিয়া মাদ্‌রাসাসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলেছেন। তৎকালীন ঢাকা জেলার মুন্সীগঞ্জ মহকুমার বিক্রমপুর পরগনার লৌহজং থানার ভিরিচ খাঁ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে ১৯১৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন শায়খুল হাদিস। তাঁর পিতার নাম আলহাজ এরশাদ আলী। গ্রামের মক্তবে কিছুদিন পড়ার পর সাত বছর বয়সে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জামেয়া ইউনুসিয়া মাদ্‌রাসায় ভর্তি হন। সেখানে মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ)-র তত্ত্বাবধানে চার বছর লেখাপড়া করেন। ১৯৩১ সালে ঢাকা বড় কাটারা মাদ্‌রাসায় ভর্তি হয়ে ১২ বছর লেখাপড়া করে কৃতিত্বের সঙ্গে মাদ্‌রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ধাপ দাওরায়ে হাদিস পাস করেন। এ সময়ে আল্লামা জাফর আহমদ উছমানী, আল্লামা রফিক কাশ্মিরী, মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী, মাওলানা মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) প্রমুখ বিজ্ঞ হাদিস বিশারদদের কাছে কোরআন-হাদিসের জ্ঞান লাভ করেন। ১৯৪৩ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভারতের বোম্বের সুরত  জেলার দাবেল জামেয়া ইসলামিয়ায় ভর্তি হন। সেখানে মাওলানা শাব্বির আহমাদ উসমানী (রহ.), মাওলানা বদরে আলম মিরাঠী (রহ.) প্রমুখের কাছে শিক্ষা লাভ করেন। শাব্বির আহমাদ উসমানী (রহ.) বুখারী শরীফের যে আলোচনা করেন তা তিনি নোট করে রাখেন। পরবর্তী জীবনে এ ব্যাখ্যাই তার জীবনের বিশেষ সম্বল হয়ে ওঠে। সর্বশেষ ভারতের দারুল উলুম  দেওবন্দ থেকে মাওলানা ইদরিস কান্ধলবি (রহ.)-র তত্ত্বাবধানে তাফসির বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।
ভারতের দাবেলে জামেয়া ইসলামিয়ায় উচ্চশিক্ষা শেষে ঢাকার বড় কাটারা মাদ্‌রাসায় ১৯৪৬ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। ১৯৫২ সালে লালবাগ মাদ্‌রাসার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বুখারী শরীফসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের পাঠদান করেন। সেখানে কৃতিত্বের সঙ্গে বুখারী শরীফের অধ্যাপনায় ব্যাপৃত থাকায় তাকে ‘শায়খুল হাদিস’  খেতাব দেয়া হয়। এ সময়েই বুখারী শরীফের বঙ্গানুবাদ প্রকাশিত হয়। তিনি ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে বুখারী শরীফের অধ্যাপনা করেন।
১৯৮৬ সালে জামিয়া মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া নামে মোহাম্মদপুরে মোহম্মাদী হাউজিং এ একটি মাদ্‌রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি হাদিসের একজন গবেষক হিসেবে অধ্যাপনার পাশাপাশি সারা দেশেই ইসলামের দাওয়াত নিয়ে হাজির হন। তাঁর বয়ান শুনতে হাজার হাজার লোক জমায়েত হতো। তিনি লালবাগ কেল্লা জামে মসজিদ, মালিবাগ শাহী মসজিদ ও আজিমপুর স্টেট জামে মসজিদে খতিব হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় ঈদগাহেও ইমামতি করেছেন বেশ কয়েক বছর। ছাত্রজীবনেই ইংরেজ খেদাও আন্দোলনে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এ সময় ইংরেজবিরোধী আন্দোলনের কারণে নির্যাতন সহ্য করেন। পাকিস্তান আমলে মাওলানা আতহার আলী, মুফতি শফী (রহ.) প্রমুখের সঙ্গে নেজামে ইসলাম পাটির কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর সে সময় উলামায়ে কেরামের একমাত্র দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর ডাকে খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। তখন তিনি সিনিয়র নায়েবে আমীর হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৮২ সালে হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর সফরসঙ্গী ও মুখপাত্র হিসেবে ইরান, ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন। এ সময় ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধের জন্য আয়াতুল্লাহ খোমেনি ও প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন।
১৯৮৭ সালে তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন। এ সময় তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৯ সালে ৮ই ডিসেম্বর  খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ সালে সমমনা ইসলামী কয়েকটি দল নিয়ে ইসলামী ঐক্যজোট গঠন করেন। তিনি এর  চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোট ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ১টি আসন (সিলেট-৫) লাভ করে। ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদে বাবরী মসজিদ ভাঙা হলে এর প্রতিবাদে শায়খুল হাদিস মিছিল, মিটিং ও আন্দোলনে সক্রিয় হন। ১৯৯৩ সালের ২রা-৪ঠা জানুয়ারি বাবরী মসজিদ পুনঃনির্মাণের উদ্দেশে ঢাকা থেকে যশোর  বেনাপোল হয়ে অযোধ্যা অভিমুখে লংমার্চের নেতৃত্ব দেন। এ লংমার্চে পাঁচ লক্ষাধিক লোক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। বাবরী মসজিদ ভাঙার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওকে বাংলাদেশে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং বিমানবন্দর  ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেন। ফলে তৎকালীন সরকার ৯ই এপ্রিল ১৯৯৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করে। জনগণের বিক্ষোভের মুখে অবশেষে ৮ই মে ১৯৯৩ সালে সরকার শায়খুল হাদিসকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। শায়খুল হাদিসের অনন্য অবদান বুখারী শরীফের বঙ্গানুবাদ। প্রথমে সাত খণ্ডে ও বর্তমানে ১০ খণ্ডে সমাপ্ত বুখারী শরীফের এটি বিশদ ব্যাখ্যা। গ্রন্থটি আলেম ও সাধারণ শিক্ষিত সবার কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ১৮০০ পৃষ্ঠার এ বৃহৎ গ্রন্থটি ‘ফজলুল বারী শরহে বুখারী’ নামে পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ‘মুসলিম শরীফ ও অন্যান্য হাদিসের ছয় কিতাব’ নামে অনবদ্য এক হাদিস গ্রন্থ সঙ্কলন করেছেন তিনি।





জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে