Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (18 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৬-২০১২

আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলেন ডেসটিনির পাঁচ কর্মকর্তা

আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলেন ডেসটিনির পাঁচ কর্মকর্তা
ঢাকা, ৬ আগষ্ট- ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীন, গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদসহ পাঁচজন আজ সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছেন।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর কলাবাগান থানায় রফিকুল আমীন, হারুন-অর-রশিদসহ ডেসটিনির ২২ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বাদী দুদকের উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম। যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১০ জন পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ থেকে তিন হাজার ২৮৫ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫২৪ টাকা অন্যত্র স্থানান্তরের অভিযোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে।
লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ ও রফিকুল আমীন ছাড়া অন্য যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাঁরা হলেন: রফিকুল আমীনের স্ত্রী ফারাহ দীবা, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গোফরানুল হক, পরিচালক সাঈদ-উর-রহমান, মেজবাহ উদ্দিন স্বপন, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, ইরফান আহমেদ সানি, জমসেদ আরা চৌধুরী, শেখ তৈয়েবুর রহমান ও নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস; ডায়মন্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা জাকির হোসেন, আজাদ রহমান, আকরাম হোসেন সুমন, শিরিন আক্তার, রফিকুল ইসলাম সরকার, মজিবুর রহমান, সুমন আলী খান, সাইদুল ইসলাম খান ও আবুল কালাম আজাদ।
রফিকুল আমীন মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, দুদক বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে বিভ্রান্ত হয়ে মামলাটি করেছে। যে বা যারাই দুদককে তথ্য দিয়েছে, তারা অন্যায় করেছে।
দুদক সূত্র জানায়, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন ও ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কিন্তু এ দুটি প্রতিষ্ঠানের একটির ব্যাংক হিসাবে মাত্র ৫৬ লাখ টাকা ও আরেকটিতে চার কোটি ৮৭ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বাকি টাকা অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সরিয়ে ফেলেছেন। ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের পরিচালকেরা নিজ নিজ স্বার্থে বেতন-ভাতা, সম্মানী, লভ্যাংশ ও প্রণোদনা এবং কমিশন নেওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে ফেলেছেন।
দুদকের উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদারের দায়ের করা এজাহারে বলা হয়, গাছ লাগানো ও স্ট্যাম্প বিক্রির নামে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেড দুই হাজার ৩৩৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা সংগ্রহ করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৮০টি গাছ লাগিয়ে ২৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা সংগ্রহ করে; বাকি দুই হাজার ৩৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা তারা সংগ্রহ করে গাছ না লাগিয়েই। ২০০৬ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটেছে।
পাশাপাশি নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এক অনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ চুক্তি অনুযায়ী ট্রি প্ল্যান্টেশনের কমিশন বাবদ এক হাজার ৩৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪০ টাকা সরিয়ে নিয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। ভুয়া খরচ দেখানো হয়েছে ২১৪ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকার। ট্রি প্ল্যান্টেশন থেকে কোনো ধরনের লাভ না হওয়া সত্ত্বেও লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে ছয় কোটি ৬০ লাখ টাকা, যার পুরোটাই পরিচালকদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে গেছে। আর ট্রি প্ল্যান্টেশনের নামে ব্যাংকে রয়েছে মাত্র চার কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
দুদকের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলামের দায়ের করা মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের হিসাব থেকে ২৭০ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৮২৪ টাকা ঋণ হিসেবে ১৪টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডায়মন্ড বিল্ডার্স লিমিটেডে ৮৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ দেখানো হলেও বাস্তবে ওই প্রতিষ্ঠানে মাত্র নয় কোটি ৫৮ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫ টাকা বিনিয়োগের দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইভাবে কোনো লাভ না হওয়া সত্ত্বেও ডায়মন্ড বিল্ডার্স থেকে ৬৮ কোটি ৮৭ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৭ টাকা লভ্যাংশ তুলে নিয়েছেন পরিচালকেরা। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম করে শুধু ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে মোট ১৪৭ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা লভ্যাংশ নিয়েছেন তাঁরা।
এ ছাড়া জনগণের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের জন্য ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৬টি শেয়ার সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা থাকলেও ইস্যু করা হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার ৬৫টি। বাকি ১১ লাখ ৭১ লাখ ১৮৬টি শেয়ার ইস্যু না করে জনগণের অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ডেসটিনি মাল্টিপারপাসের ব্যাংক হিসাবে ৫৬ লাখ টাকা ও নগদ তহবিল মিলিয়ে এক কোটির কিছু বেশি টাকা অবশিষ্ট আছে। বাকি টাকা সরিয়ে ফেলেছেন তাঁরা।
এজাহার অনুযায়ী, হারুন-অর-রশিদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ১৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা; এর মধ্যে তোলা হয়েছে ১৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে রয়েছে পাঁচ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। রফিকুল আমীন ও ফারাহ দীবার ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ৮১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা; এর মধ্যে তোলা হয়েছে ৭৩ কোটি ২৭ লাখ এবং ব্যাংকে আছে আট কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে