Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (29 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৬-২০১২

রফিক-জহিরের দেখানো পথে হাসিনার অন্তর্বর্তী সরকার!

ইলিয়াস সরকার


রফিক-জহিরের দেখানো পথে হাসিনার অন্তর্বর্তী সরকার!
সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব দলের অংশগ্রহণে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের যে বিকল্প প্রস্তাব তুলেছেন তা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদনের আপিল শুনানিতেই তুলেছিলেন দেশের খ্যাতিমান দুই আইনজীবী।

বছর খানেক আগে অনুষ্ঠিত ওই শুনানিতে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করার কথা তোলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও ড. এমএ জহির। তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার রফিক এ নিয়ে মুখ খুলেছেন ফের। প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রস্তাব তোলার মাধ্যমে সমঝোতার দ্বার খুলতে শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দুই নেত্রীকে সমঝোতার তাগিদ দিয়েছেন বর্ষীয়ান এ আইনজীবী।

‌এর আগে আপিল শুনানিতে তাদের তোলা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবের পর এ নিয়ে আর কোন আলাপ-আলোচনাই ছিলো না কোন মহলেই। বরং দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের অনঢ় অবস্থানে থেকেই এগিয়ে যাচ্ছিলো ক্ষমতাসীন মহাজোট নেতা আওয়ামী লীগ।

কিন্তু গত ৩০ জুলাই লন্ডনে বিবিসি বাংলা সার্ভিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে তার অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে সব দলের অংশগ্রহণে অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাব তোলেন।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় সরকার গঠনে তারা (বিরোধী দল) যদি অংশীদারিত্ব চায় সেটা আমরা দিতে পারি। সবাই মিলে আমরা (নির্বাচন) করতে পারি। তখন একটা ছোট মন্ত্রিসভা করে ইলেকশন করতে পারি।”

এর আগে ২০১১ সালের ২৯ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদনের আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে সহায়তাকারী) হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও ড.এম জহির এমনই মত দেন।

রফিক-উল হকের মতে, সংসদ ভেঙে দেওয়ার আগে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্য থেকে ৫ জন করে ১০ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে একটি কমিটি করতে হবে। এ কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের একটি খসড়া তালিকা প্রণয়ন করবেন। এছাড়া সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত তিন প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের কমিটির প্রণয়ন করা তালিকা থেকে এ কমিটি প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য ১০ উপদেষ্টা নির্ধারণ করবেন।

শুনানিতে ড. জহির তখন বলেন, “জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার আগেই সরকারি ও বিরোধী দলের ৫ জন করে মোট ১০ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। তারা সবাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই সরকারের প্রধান (প্রধান উপদেষ্টা) হবেন রাষ্ট্রপতি নিজেই। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকবে রাষ্ট্রপতির অধীনে।”

রাষ্ট্রপতি তথা প্রধান উপদেষ্টার কর্মপরিধি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ-বদলিসহ নির্বাচন কমিশনের পরামর্শে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজ করবেন। তবে রাষ্ট্রের কোন নীতি নির্ধারণী কাজ এ সরকার করতে পারবেন না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে পারবেন না।”

যদিও আপীল শুনানির সেই বক্তব্য বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবে মোটেই কর্ণপাত করছে না প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

এরই মধ্যে দলটির প্রধান খালেদা জিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “অন্তর্বর্তী নয়, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে।”

বিরোধী দলের এমন অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নতুন কোন ফর্মুলা দেবেন, নাকি চলতি অবস্থানেই অনঢ় থাকবেন তা বুঝতে হয়তো আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।

তবে এ নিয়ে এরই মধ্যে মুখ খুলেছেন ব্যারিস্টার রফিক।

প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাব ও বিরোধী দলীয় নেতার তা প্রত্যাখ্যানের প্রেক্ষাপটে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের পর মনে হচ্ছে, সমঝোতার দ্বার খুলছে। আমার মনে হয়েছে, সমঝোতা হবেই। এখন বিরোধী দলের ইতিবাচকভাবে এগিয়ে আসা উচিত।”

প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তারা বলতে পারত, ওই সরকারে কারা থাকবে, কাদের কয়জন থাকবে। আর তার প্রধান কে হবে?”

তবে নির্দলীয় ব্যক্তিকেই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান করা উচিত বলে মনে করেন ব্যারিস্টার রফিক।
দুই নেত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা দ্বন্দ্বে যাবেন না, সমঝোতা করুন। একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধার সঙ্গে কথা বলুন, টিটকারি করবেন না।”

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে। ১৯৯৬ সালের ২৮ মার্চ রাষ্ট্রপতি এ সংশোধনী স্বাক্ষর করেন। এ সংশোধনী অনুযায়ী, এক জন প্রধান উপদেষ্টা ও অনধিক ১০ জন উপদেষ্টা নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে।

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সন্নিবেশিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টের তিন আইনজীবী এম সলিমউল্লাহ খান, মো. আবদুল মান্নান খান ও রুহুল কুদ্দুস বাবু (বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।

২০০৪ সালের ২৪ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে রিটটি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এ রায়ের বিরুদ্ধে রিটের তিন বাদী আপিল বিভাগে আপিল করেন। এম সলিমউল্লাহ মারা যাওয়ায় এবং রুহুল কুদ্দুস বাবু হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ায় আপিলটি মো. আবদুল মান্নান খান বনাম বাংলাদেশ হিসেবে কার্যতালিকায় আসে।

২০১১ বছরের ১ মার্চ এ আপিলের শুনানি শুরু হয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। এর পর ১০ মে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সর্ম্পকিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেন।

তবে একই সঙ্গে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ বলেন, তত্ত্ববাবধায়ক সরকারের অধীনে আরও দু’টি সংসদ নির্বাচন হতে পারে।

এরপর গত বছরের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে