Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৮ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-৩০-২০১২

হাসিনার প্রস্তাব নাকচ খালেদার

হাসিনার প্রস্তাব নাকচ খালেদার
ঢাকা, ৩০ জুলাই- অন্তর্বর্তী সরকারে বিএনপিও অংশ নিতে পারবে। তারা এজন্য সংসদে প্রস্তাব দিতে পারেন। সবাই মিলে একটি ছোট মন্ত্রিসভা করে আমরা নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারি। গতকাল বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। ওদিকে প্রধানমন্ত্রীর এ প্রস্তাব নাকচ করে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন- অন্তর্বর্তীকালীন নয়, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে। ড্যাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়া আরও বলেন, এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। যদি এ সরকার বিকল্প কোন চিন্তা করে তাহলে তারা ভুল করবেন। ওদিকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রস্তাব নিয়ে নানা আলোচনা সর্বত্র। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন- এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। অবশ্য সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. এম জহির বলেছেন, সরকারের প্রধান কে হবেন সে প্রশ্ন বড় হবে না, কারণ ওই সরকারের মেয়াদ হবে খুব স্বল্প।
অন্তর্বর্তী সরকারে বিএনপি অংশ নিতে পারবে: প্রধানমন্ত্রী
আগামী নির্বাচনের সময় যে অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে তাতে বিএনপিও অংশ নিতে পারবে। তারা এ জন্য সংসদে প্রস্তাব দিতে পারে এবং সবাই মিলে একটি ছোট মন্ত্রিসভা করে আমরা নির্বাচন করতে পারি। বিবিসি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিবিসি ও বিবিসি ওয়ার্ল্ডের হার্ডটকে আলাদা সাক্ষাৎকার দেন। এতে তিনি সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের প্রশংসা করেন। বলেন- আবুল হোসেন পদ্মা সেতু দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে সম্ভবত পদত্যাগ করতেন না। তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন করতে পারেন নি। বরং তার সরকারই শতকরা ১০ ভাগ দরিদ্রতা কমিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকেরও কড়া সমালোচনা করেন। বলেন, তারা পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেও উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেন নি। বিশ্বব্যাংক চিঠিতে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে তারা বিগত সরকারের। সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পথ বন্ধ করতে সরকার সংবিধান সংশোধন করেছে। দলের নেতৃত্ব প্রশ্নে তিনি বলেন, তার পরে আওয়ামী লীগের নেতা কে হবেন- সে সিদ্ধান্ত তিনি দলের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, দল যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে সেভাবেই হবে। বিশ্বব্যাপী মন্দার পরও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা, অধিকারের বিষয়ে তার সরকার সচেতন। সরকার এ ব্যাপারে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘রক্তচোষা’ বলেছেন কেন? বিবিসি’র এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি কোন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে একথা বলেননি। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধানকে ৬০ বছর বয়সে সরে যেতে হয়। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বয়স ৭০-৭১। এছাড়া, গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ৩০-৪০ শতাংশ সুদ নেয়। তিনি দাবি করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন করতে পারেন নি। বরং তার সরকারই ১০ শতাংশ দারিদ্র্য কমিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ র‌্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালে বিএনপি সরকার র‌্যাব প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমান সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের চেষ্টা করছে। তবে রাতারাতি এটা বন্ধ করা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। লন্ডন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে ৫ দিনের যুক্তরাজ্য সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকার ধারণ করে বিবিসি। এতে পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতি, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগ, গ্রামীণ ব্যাংক ও এর প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মানবাধিকার, র‌্যাবের কর্মকাণ্ড, সংবিধান সংশোধন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গ সহ বিভিন্ন প্রশ্নের খোলামেলা জবাব  দেন প্রধানমন্ত্রী। বিবিসি ওয়ার্ল্ডের হার্ডটক অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ এখানে তুলে দেয়া হলো-
বিবিসি: সুশাসনের সক্ষমতা নিয়ে আপনার সরকারের ওপর থেকে বিশ্বব্যাংক আস্থা হারালো কেন? পদ্মা সেতু প্রকল্প আপনার দেশে অনেকদিন ধরে একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখা হয়। এতে বিশ্বব্যাংক ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি ঋণ দিতে  চেয়েছিল। কিন্তু তারা সেই ঋণচুক্তি বাতিল করেছে। কারণ, এ প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়া নিয়ে দুর্নীতির বিষয়ে তারা আপনার সরকারকে সতর্ক করেছিল। তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছিল। কিন্তু আপনার সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে তারা সন্তুষ্ট নন।
শেখ হাসিনা: হঠাৎ করেই তারা এই ইস্যুটি তুলেছে। তারপর আমরা- আমি এবং আমার অর্থমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাদেরকে বললাম- ঠিক আছে, আপনারা প্রমাণ দিন। কিন্তু তারা বাস্তব কোন প্রমাণ দিতে পারেননি যে দুর্নীতি হয়েছে। আসল কথা হলো...
বিবিসি: আমি দুঃখিত। পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়া নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে এ বিষয়টি কি আপনি অস্বীকার করছেন?
শেখ হাসিনা: অবশ্যই। অবশ্যই। শুনুন...
বিবিসি: আমি বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট নই। কারণ, এই অভিযোগ রয়েছে এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী সবেমাত্র আপনার সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন। সেটা কেন? যদি কোন অন্যায় না হয়েই থাকবে তাহলে তিনি পদত্যাগ করলেন কেন?
শেখ হাসিনা: অনেকে তাকে অভিযুক্ত করেছেন তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তিনি সাহসী কাজ করেছেন। তিনি যদি এই দুর্নীতিতে জড়িত থাকতেন তাহলে সম্ভবত তিনি পদত্যাগ করতেন না।
বিবিসি: প্রশ্নটা হলো একটি বিশেষ প্রকল্প নিয়ে। তা হলো একটি...
শেখ হাসিনা: না, না, আমাকে প্রমাণ করতে দিন...
বিবিসি: বিশ্বব্যাংক তাদের উদ্বেগ জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছে। তাতে দুর্নীতি নিয়ে কমপক্ষে চার ধরনের উদ্বেগের কথা বলা হয়। এখন ওই চিঠি প্রকাশ করে দেয়ার সুযোগ আপনার আছে- যাতে বাংলাদেশের জনগণ জানতে পারেন ওইসব উদ্বেগ ছিল কি কি নিয়ে। কিন্তু আপনি তা প্রকাশ করতে অব্যাহতভাবে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। কেন আপনি ওই চিঠি প্রকাশ করবেন না?
শেখ হাসিনা: চাইলেই তা করতে পারি না। কারণ, তাতে নিষেধাজ্ঞা আছে।
বিবিসি: না, তা প্রকাশ করলে তো বিশ্বব্যাংক খুশি।
শেখ হাসিনা: না, এটা সত্য কথা নয়। তারা সেটা করতে পারে না।
বিবিসি: অবশ্যই তারা পারে। তারা বলেছে...
শেখ হাসিনা: তাহলে তাদেরকেই প্রকাশ করতে বলুন।
বিবিসি: কিন্তু তারা বলেছে, তারা প্রকাশ করতে পারে না।
শেখ হাসিনা: কেন নয়? কেন নয়?
বিবিসি: কারণ, বিশ্বব্যাংক এভাবেই বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে। আপনার প্রকাশের অধিকার আছে। তাদের নেই।
শেখ হাসিনা: শুনুন, ওই চিঠির কোন মানেই নেই। তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে। তারা ওই চিঠির সঙ্গে বাস্তব কোন প্রমাণ সরবরাহ করতে পারে নি। শুধু একটি চিঠিই প্রমাণ করতে পারে না যে- দুর্নীতি হয়েছে। সময়ই বলে দেবে এবং আমরা আবারও এ অভিযোগের প্রমাণ দাবি করছি।
বিবিসি: বিরোধীরা বলছেন- ওই চিঠিতে আপনাকে এবং আপনার সরকারের অন্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এটা কি সত্য?
শেখ হাসিনা: শুনুন, আপনি যে কারও দিকে ইঙ্গিত করতে পারেন এবং বিরোধীরাও তা করতে পারে। এটাই বিরোধীদের কাজ। আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন এরই মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত করেছে। তারা বিশ্বব্যাংকের কাছে সমস্ত ডকুমেন্ট চেয়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এখন আমার প্রশ্ন হলো- কেন তারা অস্বীকৃতি জানালো? যদি তাদের হাতে প্রকৃত প্রমাণ থাকে তবে কেন তারা সব দলিল ও ডকুমেন্ট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে? আমি ব্যক্তিগতভাবেও এটা চেয়েছি। কিন্তু তারা দিচ্ছেন না। প্রথমে তারা আমার কাছে দু’টি চিঠি পাঠায়। তাতে আমার সরকার বা আমার মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ ছিল না। আমি দেখেছি তাতে আগের সরকারের কথা ছিল। তাই আমি বলি, আমাকে প্রমাণ দিন। তারা দু’বার এ কাজ করেছেন। কিন্তু তারা প্রমাণ দিতে পারেন নি। তাই উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া একজনকে দোষারোপ করা ঠিক নয়। এটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
শেখ হাসিনা বলেছেন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি ভারতের অভ্যন্তরীণ কারণে আটক রয়েছে। তবে এই চুক্তি না হলে সেটা তার জন্য রাজনৈতিক ক্ষতি হবে তা তিনি মনে করেন না। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের স্থানীয় কোন গোষ্ঠী উস্কে দিচ্ছে কিনা তাও তার সরকার ক্ষতিয়ে দেখছে বলে জানান হাসিনা। তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি আদৌ এ বছর বা আগামী বছর হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, এ রকম সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না। গেলবার আমরা যখন সরকারে আসলাম, আপনারা জানেন যে গঙ্গা পানি চুক্তি ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। সেই কঠিন কাজটা কিন্তু আমরা করতে পেরেছি। আমাদের সঙ্গে শুধু তিস্তা কিন্তু না, আপনারা শুধু তিস্তা তিস্তা করেন, আমাদের ৫৪টা নদী নিয়েই ভারতের সঙ্গে ডিসপিউট আছে। ৫৪টা নদীর পানির অংশীদারিত্ব নিয়েই কিন্তু সমস্যা। আমরা কিন্তু সবটাই একসঙ্গে চিন্তা করছি। হ্যাঁ, একটার পর একটা আমরা ধরছি। যে আস্তে আস্তে সমাধান করে ফেলব। তো তিস্তা নিয়েও আমাদের যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে মোটামুটিভাবে এটা একটা সমাধানের পথে গিয়েছিল। কিনু্ত এরপর যে ঘটনা ঘটছে সেটা কিন্তু আমাদের ব্যাপার না। সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কাজেই এর উত্তরটা আমি দেবো না। আপনি কি আশাবাদী এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি সব সময়ই আশাবাদী। আমরা আশাবাদী মানুষ। আপনি জানেন না যে আমি জাহান্নামের আগুনে বসে হাসি পুষ্পের হাসি। চুক্তি যদি না হয় আগামী বছরও এটা কি আপনার জন্য একটা রাজনৈতিক আঘাত বা ক্ষতি হতে পারে? এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি মনে করি না। আমার মনে হয় না। বরং, আমরা যেটা ভাবছি আমরা নিজেদের আয়োজনে নিজেদের জন্য এগোচ্ছি। আমরা সমস্ত নদীগুলো ড্রেজিং করছি। আমাদের পানি আরও বেশি পানি আমরা যাতে ধরে রাখতে পারি সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। নদীর নাব্যতা আমরা ফিরিয়ে আনছি। নৌপথগুলো আমরা আরও সচল করে দিচ্ছি। কাজেই আমরা কিন্তু আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না, কিভাবে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করে এগোতে পারি সেভাবেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আর তিস্তা পানি চুক্তি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আগ্রহী ছিল। যে কারণেই হোক সেটা হয়নি। হয়নি সামনে হবে। ভবিষ্যতে হবে। হবে না কেন? সমস্যা যতই হোক না কেন আস্তে আস্তে এক সময় তো সেটা সমাধান হয়। আরেক প্রতিবেশী মিয়ানমার। ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে সেখান থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু এসেছিল বাংলাদেশে। কিন্তু এবার আবার তারা যখন আসছিল, তারা আশ্রয় পায়নি। এটা কেন। আপনাদের সংশয়টা কোথায়। এর উত্তরে শেখ হাসিনা বলেছেন, না কেন আমাদেরকে আজকে অন্য দেশের নাগরিকদের আশ্রয় দিতে হবে। অন্য দেশের নাগরিকদের আমাদেরকে নিয়ে আসতে হবে কেন। সেটা আমাকে একটু বুঝিয়ে বলুন তো। আপনি জানেন যে, মিয়ানমারে প্রায় ১৪০টির মতো ছোট ছোট এথনিক গ্রুপ আছে। তাদের মধ্যে সব সময় দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। এটা হচ্ছে সে ধরনের একটা ঘটনা। যখন তারা আসতে চেষ্টা করছে আমরা কিন্তু তাদেরকে আমাদের বর্ডার গার্ড দিয়ে তাদের খাওয়া দাওয়া বাচ্চাদের দেখা, চিকিৎসা করা, টাকা-পয়সা দেওয়া এমনকি স্পিড বোড বা নৌকায় তেল দিয়ে তারা যাতে গন্তব্যে চলে যেতে পারে সে ব্যবস্থা করেছি। আমরা কিন্তু কোন অমানবিক আচরণ করিনি তাদের সঙ্গে। তারা তাদের দেশে ফিরে যাক এবং আমাদের তরফ থেকে সরকারের তরফ থেকে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আমাদের অ্যাম্বাসেডর নিজে ওখানে গেছেন। আমাদের ফরেন মিনিস্ট্রি সব সময় এ ব্যাপারে সক্রিয় ছিল। তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাসহ তাদের সবকিছু যাতে মিয়ানমার সরকার দেখে এজন্য যা যা করা দরকার আমাদের পক্ষ থেকে আমরা তা করেছি। এখন কথা হচ্ছে যে এক দেশ থেকে কিছু একটা ঘটলে অমনিই আমাদের জাগায় ঢুকবে। আর তাদের আমাদের আসতে দিতেই হবে- এ ধরনের চিন্তা ভাবনা কেন। কেন এখানে আসতে দিতে হবে। এটাই তো বুঝি না। ১৯৯২ সালের পর একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, রোহিঙ্গাদের মাঝে কিছু জঙ্গিবাদী সংগঠন তৈরি হচ্ছে। যাদের সঙ্গে কিছু কিছু ইসলামী জঙ্গির যোগসাজশ ছিল বলে তখন সন্দেহ হচ্ছিল। আপনাদের কি সেরকম কোন সন্দেহ আছে যে, রোহিঙ্গাদের প্রবেশ করতে দিলে সে রকম কিছু একটা হতে পারে। হাসিনা জানান, মিয়ানমার গভর্নমেন্ট আমাদেরকে সেটা জানিয়েছে, আমাদের দেশের কোন কোন রাজনৈতিক মহল, রাজনৈতিক দল এদেরকে উস্কানি দিচ্ছে বা এদের সহায়তা করছে। এ ধরনের তাদের কিছু অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা এগুলো খতিয়ে দেখছি। তদন্ত করছি। তদন্ত করা সাপেক্ষে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
অন্তর্বর্তীকালীন নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারই সমাধান: খালেদা
নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া। বলেছেন, কোন অন্তর্বর্তীকালীন নয়, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে। নইলে কোন নির্বাচনই হতে দেয়া হবে না। জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ইফতার-পূর্ব আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার ব্যর্থ ও অযোগ্য। দেশ পরিচালনায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। দেশের জনগণের এখন দাবি, এই সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। এ দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। যদি এ সরকার বিকল্প কোন চিন্তা করে তাহলে তারা ভুল করবেন। অন্য কোন উপায়ে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। নির্দলীয় সরকার ছাড়া অন্য কোন উপায়ে নির্বাচন হলে তাতে কোন রাজনৈতিক দল অংশ নেবে না। অন্য কোন পন্থায় নির্বাচন এ দেশে করতে দেয়া হবে না। বিরোধী নেতা বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট ও টাকা পাচারের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বচোর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ সরকার দেশের অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করছে। এ খবর এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে বলেই তারা বিশ্বচোর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তাই ক্ষমতার জন্য নয়, দেশরক্ষার জন্য ঈদের পর আন্দোলন করতে হবে। সে জন্য দেশবাসীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। খালেদা জিয়া বলেন, আজ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এজন্য সরকারকে বিদায় দিতে ড্যাব সদস্যদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মহাজোট আমলে চাকরিচ্যুত চিকিৎসকদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে। এ চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইফতার-পূর্ব আলোচনা সভায় বিকল্পধারা চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গণি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার, ড. আবদুল মঈন খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক আজিজুল হক,  মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। ইফতারের আগে জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ জীবন, মুসলিম উম্মাহ্‌র মঙ্গল ও খারাপ সময় থেকে দেশবাসীকে রক্ষার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ইফতারে বিএনপি স্থায়ী কমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা এবং সারা দেশের ড্যাব প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্দলীয় সরকার ছাড়া অন্য পদ্ধতিতে রাজি নয় বিএনপি
‘নির্দলীয়’ সরকারের বাইরে অন্য কোন প্রস্তাবে রাজি নয় বিএনপি। সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের স্বার্থে নির্দলীয় সরকার গঠনই বিরোধী দলের প্রধান দাবি। যে কোন নামেই এ সরকার গঠন করা যেতে পারে। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে গঠিত কোন পদ্ধতিতেই নির্বাচনে যাবে না বিরোধী দল। সেটা অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা কিংবা যে নামেই গঠন করা হোক। কারণ আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচন অতীতেও সুষ্ঠু হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। গতকাল লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ডকে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি’র নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতারা এ মন্তব্য করেন। নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভার নেতৃত্বে নির্বাচন আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব বিভ্রান্তিমূলক। সরকারকে সুনির্দিষ্টভাবেই ‘নির্দলীয়’ সরকারের ঘোষণা দিতে হবে। তবেই নাম ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত বিরোধী দল। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই। সেটা যে নামেই হোক। নির্দলীয় সরকার ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতিতে আমরা রাজি নই। অন্য কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে সেখানে বিএনপি অংশ নেবে না। আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হচ্ছে- ‘নির্দলীয়’ সরকার হতে হবে। এখানে অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা কোন সুস্পষ্ট প্রস্তাব নয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কোন কিছু গঠন করা হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের জন্য আন্দোলন করছি। এখন প্রধানমন্ত্রী বিদেশে অবস্থান করে কি ধরনের প্রস্তাব দিয়েছেন সেটা পরিষ্কার নয়। সরকার যদি স্পষ্ট কোন প্রস্তাব দেয় তবে দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। তবে সেটা অবশ্যই নির্দলীয় হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কোন সরকার হলে সেটা অন্তর্বর্তীকালীন হোক আর যে নামেই হোক নির্দলীয় হবে না। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, যে ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন সে ব্যাপারে আমাদের নতুন করে বলার কিছু নেই। আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। আমাদের দাবি সেটার অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। এখন তত্ত্বাবধায়ক শব্দটির প্রতি সরকারের আপত্তি থাকে তারা অন্য কোন নামে সেটা পুনর্বহাল করতে পারে। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের অধীনে কোন কিছু গঠন হলে সেটা তো নির্দলীয় হবে না। আর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কোন পদ্ধতিতে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। বিষয়টি বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথার কোন বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। কখন প্রস্তাব দেন, কখন সরে যান ঠিক নেই। সংবিধান সংশোধনের আগে সাজেদা চৌধুরী ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বে গঠিত সংশোধন কমিটিকে বলেছিলেন- তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বহাল থাকবে। কিন্তু তিনি সরে গিয়ে সেটা বাতিল করেছেন। এখন তো মহাজোটের মধ্যে এরশাদ ছাড়া সবাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান। এমকে আনোয়ার বলেন, এখন তো প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংককে দুর্নীতিবাজ বলছেন আর অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের কাছে চুক্তি পুনর্বিবেচনার জন্য ছুটে গেছেন। বিএনপি’র সিনিয়র এ নেতা বলেন, নির্দলীয় সরকার গঠনে বিকল্প কোন প্রস্তাব দিলে বিএনপি বিবেচনা করবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি কোন সরকার গঠনের উদ্দেশে আন্দোলন করছে না। সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের স্বার্থে আমরা নির্দলীয় সরকার চাই। এখন সরকার যে নামেই করুক, সেটা সুনির্দিষ্টভাবে নির্দলীয় সরকার হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হবেন কে?
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে। কে হবেন ওই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. এম জহির প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে মনে হচ্ছে তিনি কিছুটা নমনীয় হয়েছেন। এখন বিরোধীদলকেও কিছুটা নমনীয় হতে হবে। তারপর সরকার ও বিরোধীদলের সমন্বয়ে অন্তর্বর্র্তীকালীন সরকার গঠিত হতে পারে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন সে প্রশ্ন বড় হবে না। কারণ ওই সরকারের মেয়াদ হবে খুব স্বল্প। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠায় সং্‌িবধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে বলেও মত দেন এ সংবিধান বিশেষজ্ঞ। সোমবার রাতে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনের সময় যে অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে তাতে বিএনপিও যোগ দিতে পারবে। বিরোধীদল সংসদে এজন্য প্রস্তাব দিতে পারে এবং সবাই মিলে একটি ছোট মন্ত্রিসভা করে আমরা নির্বাচন করতে পারি। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মামলার শুনানিতে সর্বপ্রথম তত্ত্বাবধায়কের বিকল্প প্রস্তাব হাজির করেছিলেন দেশের শীর্ষ স্থানীয় দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক এবং ড. এম জহির। ব্যারিস্টার রফিক এবং ড. জহির দুই জনই সরকারি দল থেকে পাঁচ এবং বিরোধী দল থেকে পাঁচ জন সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পক্ষে মত দেন। প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ প্রসঙ্গে রফিক-উল হকের মত, প্রধান উপদেষ্টার পদে বিচারপতিদের না রাখাই ভাল। সাবেক প্রধান বিচারপতিদের দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে যে কমিটি প্রধান উপদেষ্টা পদে নিয়োগের জন্য একজন যোগ্য ব্যক্তিকে খুঁজে বের করবে। ড. এম জহির ১৫ দিনের মেয়াদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষপাতী। যে সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি কাজ করবেন নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে