Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (25 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-৩০-২০১২

মালয়েশিয়াগামী ২৬ বাংলাদেশীর মৃত্যু সাগরে, মিয়ানমারে বন্দি ৮২

মালয়েশিয়াগামী ২৬ বাংলাদেশীর মৃত্যু সাগরে, মিয়ানমারে বন্দি ৮২
কক্সবাজার, ৩১ জুলাই: দালালের হাত ধরে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মালয়েশিয়াগামী ১০৮ বাংলাদেশীর করুণ পরিণতি ঘটেছে আন্দামান সাগরে। অনাহারে ২৪ জন মারা গেছেন, দুই দালালসহ ৮২ জন মিয়ানমারের কারাগারে বন্দি, শিশু হওয়ায় দুইজনকে কারাদণ্ড না দিয়ে নিরাপত্তা হেফাজতে রেখেছে মিয়ানমারের মন প্রদেশের কর্তৃপক্ষ। সোমবার এ খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে যেখান থেকে তারা যাত্রা করেছিলেন সাগরে- সেই কক্সবাজারের পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছেন, এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঠেকাতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের আরো বেশি ভূমিকা কাম্য।

এর আগে এই দুর্ভাগা ১০৮ জনকে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে উল্লেখ করে মিয়ানমারের একটি দৈনিক কয়েকটি খবর প্রকাশ করলেও বার্তা২৪ ডটনেট’র অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এরা সবাই বাংলাদেশি।

গত ২৫ মে মিয়ানমারের দৈনিক ইরাবতি জানায়, দেশটির মন প্রদেশের ইয়ে শহরের কাছের এইম দেইন গ্রামের উপকূলে আন্দামান সাগর থেকে ৮৪ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে তারা সাগরে ভাসছিলেন।
 
বার্মিজ ভাষা বলতে না পারলেও তারা গ্রামবাসীকে বোঝাতে সক্ষম হন যে তারা মালেয়শিয়া যাচ্ছিলেন এবং তাদের সাথে থাকা ২৪ জন খাবার ও পানির অভাবে মারা গেছেন- যাদের লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে।
 
পত্রিকাটি তাদের খবরে জানায়, এইম দেইন গ্রামের স্থানীয়রা তাদের খাবার ও পানির যোগান দেয়। পরে তাদের আটক করে নিয়ে আসে বার্মিজ নৌবাহিনী ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
 
এত বেশি সংখ্যক লোককে বন্দি করে রাখার মতো কারাগার না থাকায় ছোট্ট শহরটির পুলিশ কর্তৃপক্ষের তাদের শহরের একটি ফুটবল স্টেডিয়াম মাঠে আটকে রাখেন। মিয়ানমারের অভিবাসন আইন ভঙ্গ করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় স্থানীয় আদালতে।
 
গত ১৯ জুনের এক খবরে দৈনিক ইরাবতি জানায়, আটকৃতদের মধ্যে ৮২ জনকে ১ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে স্থানীয় আদালত। তবে কারাগারের অভাবে তাদের ফুটবল স্টেডিয়ামেই আটক রাখা হচ্ছে এখনো। অন্যদিকে দুই শিশুকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে শহরের দক্ষিণে অপর একটি ছোট্ট শহর কাওজারের কাছের থায়ে কোং গ্রামে।
 
এদিকে বার্তা২৪ ডটনেট অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই ১০৮ বাংলাদেশীর বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। দালাল ও মন প্রদেশের অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে তাদের আত্মীয় স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন যে, যেই ট্রলার থেকে আটককৃতরা গত ২৫ মে মিয়ানমারের মন প্রদেশে বন্দি হন-সেই ট্রলারেই ছিলেন তাদের স্বজনরা।
 
এমন তথ্যের ভিত্তিতে এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত যাদের নাম ও সংক্ষিপ্ত পাওয়া গেছে তারা হলেন জেলার টেকনাফ উপজেলার কুতুবদিয়া পাড়ার আবদুর রহিমের ছেলে নুরুল আবছারসহ একই গ্রামের আটজন ও সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ঘোনা পাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কালা মিয়ার ছেলে নুরুল আবছার (২০), তার ভাতিজা মো. ইউনুছ (১৮), পাশের ইউনিয়ন রশিদ নগরের আমির হামজার ছেলে নুরুল ইসলাম, বড় ধলিরছড়া গ্রামের মৃত সৈয়দ আহমদের ছেলে সাইফুল ইসলাম, আবুল হোছনের ছেলে নুরুল আজিম, কালা’র ছেলে দেলওয়ার হোছেন, ধলিরছড়া জেটি রাস্তার মো. হোসেনের ছেলে আমির হোসেন (১৬), পশ্চিম বড় ধলির ছড়ার নুরুল আজিমের চেল আবুল হোসেন (২৩), লামার পাড়ার আবু শামার ছেলে কামাল উদ্দিন (২২), মোরাপাড়ার আবদুল গণির ছেলে নুরু মিস্ত্রী।
 
এরা সহ চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, রামু, ও উখিয়া টেকনাফ উপজেলার ১০৮ যুবক চাকরির আশায় দালালের হাত ধরে সাগরে পথে মালয়েশিয়া পাড়ি দেয় গত ১০ মে।  টেকনাফের সাবরং এলাকা থেকে যাত্রা করে তাদের ট্রলারটি।

এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে কক্সবাজার পুলিশ প্রশাসন কিছু না জানলেও পুলিশ সুপার সেলিম মো. জাহাঙ্গীর জানান, ‘‘আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। কেউ যেনো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যেতে না পারে সেজন্য পুলিশকে সর্তক অবস্থানে রাখা হয়েছে।’’

তিনি বলেন, “এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে আরো বেশি ভূমিকা রাখতে এগিয়ে আসতে হবে। তারা সীমান্ত এলাকায় কাজ করে, আর মানবপাচার হয় সীমান্ত দিয়ে। তবে তারা যদি এ ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতা চান আমরা তা দিতে প্রস্তুত।”

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে