Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.7/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-৩০-২০১২

নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু করলে সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে

নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু করলে সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে
পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘নিজস্ব অর্থায়নে’র নানা বিপদ তুলে বিশেষজ্ঞরা বললেন, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগিদের অর্থায়নেই সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা উচিত। রোববার সকালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন’ বিষয়ক এক সেমিনারে এ মত জানান তারা। একইসঙ্গে এত বিশাল প্রকল্পে অর্থায়নে সরকারের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

সেমিনারে সাবেক তত্ত্বাধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, যেখানে দেশের ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিতে চাইলে বিদেশি ব্যাংকের কাছ থেকে আগে নিশ্চয়তা পেতে হয়- সেখানে আমরা কিভাবে নিজস্ব অর্থে এমন অর্থায়ন করবো।

জনাব খান অর্থ ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনা করেছেন।

আকবর আলি খানসহ অন্যরা এ ব্যাপারে চীনসহ অন্যান্য দেশের উদাহরণ তুলে ধরেন, যেসব দেশের অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিশালী হলেও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ছাড়া এমন বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে না।

এমন প্রকল্পে নিজস্ব অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা হিসেবে সেমিনারে তারা যেসব দিক তুলে ধরেন তার মধ্যে রয়েছে, এক. বিশ্বব্যাংকসহ অন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিদের অর্থায়ন না থাকলে নির্মাণকাজে ভালো ঠিকাদাররা আসে না; দুই. ভালো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান না হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনগুণের বেশি সময় লাগবে। তিন. দেশীয় উৎসের ঋণে সুদ দিতে হবে বিশ্বব্যাংক সহ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারীদের প্রদেয় সুদের দশগুণ; তিন. বেশি সময় ও সুদের কারণে প্রকল্পের খরচ অনেক বেশি বেড়ে যাবে।

রোববার ইকনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং ব্র্যাক এক্সিকিউটিভ এমবিএ আয়োজিত এ সেমিনারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আকবর আলি খান ছাড়াও সেমিনারে অংশ নেওয়া সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক অর্থ সচিব সিদ্দিকুর রহমান, যমুনা সেতুর সাবেক প্রকল্প পরিচালক এ বি এ মুবীন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আইনুন নিশাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ বিজনেসের পরিচালক মামুন রশীদসহ সব বক্তাই বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণের পক্ষে মত দেন।

২৯০ কোটি ডলারের প্রকল্পটিতে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে সরকার সহযোগিতা করছে না জানিয়ে বিশ্বব্যাংক তাদের ১২০ কোটি ডলার ঋণ বাতিলের পর সরকার ঋণচুক্তি পুনর্বিবেচনায় বিশ্বব্যাংকসহ অন্য উন্নয়ন সহযোগিদের রাজি করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

অবশ্য সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছে, উন্নয়ন সহযোগিরা না এলে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

ইআরএফ ও ব্রাকের সেমিনারে আকবর আলি খান বলেন, “বিশ্বায়নের এই যুগে আবেগপ্রবণ না হয়ে অর্খনৈতিক বিবেচনার বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের ঠিক হবে না।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের দেশ এখনো পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প নিজেদের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। এরপরও তা করা হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি নিজস্ব অর্থে করতেও চায় তা হলেও এর ভালো ঠিকাদার পাবে না। এটা দেখা গেছে যে উন্নয়নশীল বিশ্বে বিশ্বব্যাংক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান ঠিকাদাররা কোনো কাজ করতে চায় না।

তিনি জানান, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে যে সুদ গুণতে হয়, অভ্যন্তরীণ ঋণে সুদের হার তার ১০ গুণ।

তিনি বলেন, নির্মাণকাজে যদি ভালো ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া না হয় তবে তিন বছরের বদলে কাজ শেষ করতে দশ বছর লাগবে। ততদিনে নদীর বর্তমান অবস্থা নাও থাকতে পারে।

তিনি বলেন যে বড় প্রকল্পের জন্য প্রচুর উসাহের মধ্যে অর্থনীতির মূল দিকগুলোর প্রতি সরকার মনোযোগ হারাচ্ছে বলে তিনি ভয় পাচ্ছেন। একই সময়ে অনেকগুলো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করার বিপদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল রিজার্ভ থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ঠিকাদারদের আস্থায় নিতে চীন এমন বড় প্রকল্পে বিশ্বব্যাংককে সম্পৃক্ত করে।

বিএনপি সরকারের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন যে ভাড়া ও দ্রুত ভাড়া বিদ্যুতের বেলায় যেমনটি ঘটছে- পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করতে গেলেও এমন বিপর্যয়কর অবস্থা হবে।

দেশের ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে সরকার ভাড়া ও দ্রুত ভাড়া বিদ্যুতে ভর্তুকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো এখন তারল্য সংকটে ভুগছে এবং পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রেও তাই হবে।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নিজেদের অর্থায়নে বড় প্রকল্পের ভালো উদাহরণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা। কাজ শুরুর দশ বছর পরেও শেষ হয়নি।

এ বি এ মুবীন বলেন, অনেকে পুঁজিবাজার থেকে পদ্মা সেতুর অর্থায়নের কথা বলেন। কিন্তু ব্যাংকিং খাতের ওপর পুঁজিবাজার উচ্চমাত্রায় নির্ভরশীল। ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ উঠিয়ে নিলেই বাজারে ধস নামে।

নিজস্ব অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রকল্পের খরচ বেড়ে যাবে বলে জানান ড. আইনুন নিশাত।

সভাপতির বক্তব্যে এ বি মির্জ্জা  আজিজুল ইসলাম বলেন শাসন ব্যবস্থা দুর্নীতিমুক্ত হলে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের বিকল্প উৎস থেকে অর্থ যোগান দেয়া সম্ভব।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে