Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-৩০-২০১২

‘হুমায়ূনকে হারিয়ে আমরা বিষাদ সিন্ধুতে পড়েছি’

‘হুমায়ূনকে হারিয়ে আমরা বিষাদ সিন্ধুতে পড়েছি’
কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজকে সমবেদনা জানিয়েছেন নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সপরিবারে দেখা করে তিনি সদ্যপ্রয়াত লেখকের মাকে সান্ত্বনা জানান। এ সময় তিনি বলেন, হুমায়ূনের মতো মানুষকে হারিয়ে আমরা বিষাদ সিন্ধুতে পড়েছি। এই দেশে যে উনি কিভাবে জন্মেছিলেন, তা বোঝা খুবই কঠিন। এই দেশে দু’-একজন মানুষ যা ছিল তাও চলে গেল। দেশ তো খালি হয়ে গেল। পরে ড. ইউনূস ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে হুমায়ূনের স্বপ্ন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে আমার ভূমিকার সুযোগ থাকলে সাদরে গ্রহণ করবো। সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাবো। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ড. ইউনূস রাজধানীর পল্লবীতে হুমায়ূনের ছোট ভাই আহসান হাবীবের বাসায় যান। সেখানে হুমায়ূনের মা আয়েশা ফয়েজ ও তার সন্তান এবং নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। সবাইকে সমবেদনা জানান। বাসায় প্রবেশ করেই ড. ইউনূস হুমায়ূনের মা আয়েশা ফয়েজের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। কান্না থামাতে জড়িয়ে ধরেন তার দুই হাত। এ সময় আয়েশা ফয়েজের সামনে মেঝেতেই বসে পড়েন ড. ইউনূসের মেয়ে দিনা ইউনূস। তিনিও আয়েশা ফয়েজের হাত ধরে মাথা নিচু করে বসে থাকেন। অশ্রু ফেলেন নীরবে। সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ব্যস্ততার কারণে বাবা হয়তো আসতে পারবেন না। তবে আমি মাঝে-মধ্যেই আপনাকে দেখতে আসবো। ড. ইউনূস বলেন, হুমায়ূন ছিলেন অদ্ভুত লেখক। পড়তে পড়তে তার বই শেষ হয়ে যেত, কিন্তু মগজে যে জিনিস ঢুকে পড়তো, তা আর বের হত না। সারাক্ষণই অনুরণিত হতো। গত নভেম্বর মাসে নিউ ইয়র্কের বাসায় তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ওই সময় তাকে অফুরন্ত মনে হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। অসুখ-বিসুখের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি এড়িয়ে গেছেন। কথা বলেছেন শুধু সাহিত্য ও মানুষ নিয়ে। এদেশের মানুষের ভবিষ্যৎ কি হবে তাই নিয়ে আশঙ্কা করেছেন। ড. ইউনূস বলেন, তখন আমি জাপানে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ তার মৃত্যুর খবর পেলাম। এমন সংবাদ যা মানুষকে কাঁবু করে ফেলে। তার মতো লেখকের মৃত্যুর পর মনে হলো- তার অভাব এদেশের মানুষ কিছুতেই গ্রহণ করতে পারছে না। যে দেশের মানুষ বই পড়ে না সে দেশের মানুষকে তিনি বই পড়া শিখিয়ে গেছেন। তার একটি বই প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার কপি বিক্রি হয়ে যায়। তিনি বলেন, হুমায়ূন ছিলেন বিশাল ব্যক্তিত্বের মানুষ। সকল মানুষের কথা বলেছেন নিজের ভঙ্গিতে। স্বকীয়তা এনেছেন সাহিত্য ও নাটকে। ইউনূস বলেন, হুমায়ূন আহমেদ কখন যে আমাদের ভেতরে ঢুকে গেছেন বুঝতে পারিনি। শিক্ষিত মানুষ বই পড়ে তাকে ভালবেসেছে আর সাধারণ মানুষ তার নাটক-সিনেমা দেখে ভালবেসেছে। হুমায়ূন প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতে তার চোখে পানি চলে আসে। আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, তার মধ্যে জাদু ছিল। সেই জাদুতে তিনি মানুষকে মুগ্ধ করেছিলেন। হুমায়ূন মারা যাওয়ার পর আমার মেয়েও অনেক কেঁদেছে। ইউনূসের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী আফরোজি ইউনূস ও মেয়ে দিনা এবং কম্পিউটার জগৎ পত্রিকার সম্পাদক ভুঁইয়া ইনাম লেনিন। উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই কার্টুনিস্ট ও উন্মাদ পত্রিকার সম্পাদক আহসান হাবীব, তার স্ত্রী আফরোজা আমিন ও মেয়ে এষা। আরও উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূনের তিন বোন সুফিয়া হায়দার শেফু, মমতাজ শহীদ শিখু ও রোকসানা আহমেদ মনি। কিছু সময় পর সেখানে নুহাশ এলে ইউনূস তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে ড. ইউনূস তার পরিবার নিয়ে বাসায় চলে যান।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে