Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.4/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-২৭-২০১২

রোজাদারের অহঙ্কার শোভনীয় নয়

মুফতি এনায়েতুল্লাহ


রোজাদারের অহঙ্কার শোভনীয় নয়
রমজান মাসের প্রথম দশক রহমতের। এই দশক হলো রহমত আহরণ করার; সঞ্চয় করার। যাদের এখনও শক্তি সামর্থ্য আছে, ইবাদত-বন্দেগি করার মতো শারীরিক সক্ষমতা আছে, তারা রমজানকে যথাসম্ভব কাজে লাগান। ইবাদত-বন্দেগি করে পরপারের পাথেয় সঞ্চয় করুন। যৌবন চলে গেলে, শক্তি-সামর্থ্য শেষ হয়ে গেলে আর সম্ভব হবে না। মানুষ কখন রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়বে_ তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই আজ আপনার পক্ষে যা সম্ভব তা আগামীর জন্য রেখে দেওয়ার চিন্তা করা ভুল। পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত এই বাস্তবতা সত্য বলে প্রমাণিত হয়ে এসেছে। সুতরাং সময় থাকতে আমাদের সেভাবেই চলা উচিত।
এই পৃথিবী নশ্বর। সবাইকে একদিন এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে। মানুষ মাত্রই মরণশীল। মানুষ নিজেকে যতই শক্তিশালী ভাবুক না কেন, যত বড় মনে করুক না কেন, আল্লাহর শক্তির কাছে তা একেবারেই সামান্য। এ কথা মনে রাখতে হবে যে, মানুষের শক্তি-সামর্থ্য তো আল্লাহর পক্ষ থেকেই প্রাপ্ত। তিনি যাকে যেটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন তার বাইরে মানুষের কিছুই করার ক্ষমতা নেই; শক্তি নেই। কিন্তু মানুষ যখন নিজেকে অনেক বেশি শক্তিশালী ভাবতে শুরু করে তখন সে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কথা ভুলে যায়। নিজের ক্ষুদ্রতার কথা ভুলে গিয়ে আত্মম্ভরিতায় ভোগে। একটা হামবড়া ভাব নিজের ভেতরে লালন করে_ তখনই শুরু হয় নানা ঝামেলা, জগৎ-সংসার হয়ে ওঠে অশান্ত।
পৃথিবীর শুরু থেকে আল্লাহ প্রদত্ত সব ধর্ম আত্মম্ভরিতার বিরুদ্ধাচরণ করেছে। সর্বশেষ ধর্ম ইসলামও আত্মম্ভরিতাকে সমর্থন করে না। ইতিহাস সাক্ষী, মক্কার কুরাইশ বংশের নেতৃবৃন্দ ও মদিনার ইহুদি সম্প্রদায় শুধু আত্মম্ভরিতার ধোঁকায় পড়ে ইসলামকে সত্যধর্ম জেনেও তা গ্রহণ করেনি। হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) আল্লাহর শেষ নবী বলে মেনে নেয়নি। ফলে তাদের পতন হয়েছে। কোনো মুমিন বান্দা যেন সেই খারাপ অভ্যাসে পতিত না হয়, সেজন্য আল্লাহতায়ালা বছরের বারো মাসের মধ্যে এক মাস রোজার কর্মসূচি দিয়ে মানুষের মনের অহঙ্কারবোধকে ক্ষুণ্ন করে মানুষকে পরিপূর্ণ মুমিন বানাতে চান।
পবিত্র কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, মুমিনের যতগুলো গুণ এবং বৈশিষ্ট্য থাকার কথা, তার মধ্যে একটা হচ্ছে সে অহঙ্কার করবে না, দাম্ভিকতার পদভারে হাঁটবে না। অহঙ্কারমুক্ত জীবনযাপনের জন্য তাকওয়া বড় ধরনের পাথেয়। আর তাকওয়া ও পরহেজগারী অর্জনের জন্যই রমজান মাস এসেছে। তাকওয়া শব্দের অর্থ হচ্ছে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন। আর বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করলেই অহঙ্কার ও আত্মম্ভরিতা কমে যাবে। অহঙ্কার থেকে বাঁচার জন্য জ্ঞানার্জন করতে হবে, পাশাপাশি আল্লাহভীতি ও পরকালমুখী মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
অহঙ্কার ছাড়াও মানুষের আরও যেসব খারাপ অভ্যাস আছে, সেগুলোও রমজান মাসে ধীরে ধীরে আমাদের পরিত্যাগ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। রমজান মাস হলো ব্যক্তিগত ও সামাজিক নীতি-নৈতিকতা, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি পরিবর্তন করার সুবর্ণ সময়। রোজার ইতিবাচক প্রভাব হলো অযৌক্তিক এবং রূঢ় আচার-ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকে দৃঢ়তা দেওয়া। চরিত্রহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা, বিরক্তি, রাগ এককথায় চারিত্রিক সংস্কারের একটা মোক্ষম পরিবেশ সৃষ্টি হয় পবিত্র রমজান মাসে। এখন সেই উপলব্ধির সময় চলছে। তাই আমরা যদি দৃঢ়ভাবে প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো আত্মস্থ করে নিতে পারি, তাহলে বছরের বাকি সময়ে তা আমাদের মাঝে ক্রিয়াশীল থাকবে। আমাদের নিজেদের ভেতরকার দুর্বলতাগুলো এক করে কেটে যেতে থাকবে। ভবিষ্যতে এসব খারাপ অভ্যাস আর আমাদের মনে বাসা বাঁধতে পারবে না। এভাবেই তাকওয়ার এক অপূর্ব আবহ সৃষ্টি হবে মানুষের মনে। যে তাকওয়া সৃষ্টির জন্যই রোজার বিধান।
হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের অংশ বিশেষ উদ্ধৃত করে আজকের লেখা শেষ করছি। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজান সবর, ধৈর্য ও ত্যাগ-তিতীক্ষার মাস। আর সবরের প্রতিফল হলো আল্লাহর কাছ থেকে জান্নাত প্রাপ্তি। এটি পারস্পরিক হৃদ্যতা এবং সৌজন্য প্রদর্শনের মহিমা। এই সুসংবাদ কেবল রোজাদারদের জন্য। কাজেই আমরা যারা আত্মম্ভরিতার ব্যাধিতে আক্রান্ত তাদের উচিত হলো ধৈর্য অবলম্বন করা। তবেই তো আমরা রমজানের পূর্ণ রহমত লাভে ধন্য হবো। সিক্ত হবো রহমতের বারিধারায়। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে এ সুসংবাদের অধিকারী করে তুলুন।

ইসলাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে