Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (36 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৪-২০১২

ফুসফুসে ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফুসফুসে ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

অন্যান্য অঙ্গে ক্যান্সার হবার চেয়ে তুলনামূলকভাবে ফুসফুসে ক্যান্সার হবার হার একটু বেশি। কারণ আর কিছু নয় ফুসফুসের ওপর প্রতিনিয়ত অত্যাচার চালানোই এজন্য দায়ী।

আমাদের চারপাশের পরিবেশে ক্যান্সার হবার মতো যতো উপাদানই থাকুক না কেনো জেনে হোক বা না জেনে হোক প্রায় সবকিছুই আমরা শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে ঢুকিয়ে দেই, তা ছাড়াও শরীরের অন্য কোথাও ক্যান্সার হলে সেখান থেকেও রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে তা চলে আসার সম্ভাবনা খুব বেশি, তাই ফুসফুসে তো ক্যান্সার হতেই পারে।

সাধারণত যারা খুব বেশি ধুমপান করেন তাদের এই ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা খুব বেশি। পাশাপাশি যারা ঝুকিপূর্ণ পেশায় জড়িত যেমন কারখানায় যারা কাজ করে, বা প্রচুর ধুলাবালির মধ্যে যাদের কাজ করতে হয় তাদের ও এই ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা খুব বেশি।এছাড়া বংশগত কারণেও এমন ক্যান্সার হতে দেখা যায়।

সাধারণত ৪০ উর্ধ্ব ধুমপায়ী বা তামাকসেবী লোকজনের মধ্যে এই ক্যান্সার দেখা দেয়, বৃদ্ধ বয়সে ক্যান্সার হবার ঝুকি আরো বাড়তে থাকে, তবে ৪০ এর কম বয়সের লোকজনেরও এই রোগ হতে পারে। কাশি এই রোগের অতিপরিচিত একটি লক্ষণ, দীর্ঘমেয়াদী কাশি সেই সঙ্গে হলদেটে কফ  হওয়া বা কফের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব ফুসফুসের ক্যান্সার এর লক্ষণ।এই ক্যান্সারে বুকে খুব ব্যথা হতে পারে যা সহজে সারতে চায় না। শ্বাস কষ্ট হওয়া, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা দেখা দেয়া, রুচিহীনতা, ঘন ঘন ক্লান্তি লাগা, ক্ষুদা মন্দা এই সবই ফুসফুস ক্যান্সার এর উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। অনেক রোগী এই রোগে ফুসফুসে পানি জমা, পাঁজরের হাড়ে ব্যথা এমনকি জন্ডিস নিয়েও আসতে পারে। কারো কারো আবার অভিযোগ থাকে শুধু একপাশের হাতে ব্যথা এবং কাশি। তাই বৃদ্ধ বয়সের ধুমপায়ী রোগী কোনো প্রকার শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসলে চিকিৎসকগণ ফুসফুস ক্যান্সারের কথা মাথায় রাখেন।

এই ক্যান্সার সন্দেহ হলে রোগীকে বুকের এক্সরে করাতে হয় এবং তাতে টিউমারের মতো কিছু পেলে তা থেকে বায়োপসি করে নিশ্চিত হতে হয় এটা সত্যিই ক্যান্সার কিনা বা ক্যান্সার হলেও এটা কোনো ধরনের ক্যান্সার। এছাড়া রোগীর কফ পরীক্ষা, নানা ধরনের রক্তপরীক্ষা, বুকের সিটি স্ক্যান, পেটের আলট্রাসনোগ্রাম সহ নানা ধরনের পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হতে পারে। আগেই বলেছি শরীরের অন্য কোথাও ক্যান্সার হলেও তা ফুসফুসে চলে আসতে পারে।

সেক্ষেত্রে চিকিৎসা পুরোপুরি ভিন্ন ধরনের হয় তাই এটা জানা খুব জরুরি যে ধরাপড়া ক্যান্সার টি সত্যিই ফুসফুসের ক্যান্সার না অন্য কোনো অঙ্গ থেকে এসেছে।

আরও পড়ুন: হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কীভাবে বুঝবেন?

অন্য যেকোনো ক্যান্সারের মতো ফুসফুসের ক্যান্সারের চিকিৎসাও বেশ জটিল। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা পড়লে অপারেশন এর মাধ্যমে ফুসফুসের অংশ বিশেষ বা রোগাক্রান্ত একপাশের ফুসফুস কেটে ফেলে দিলে রোগী সুস্থ হয়ে যায়। তবে রোগ যতো দেরিতে ধরা পড়ে চিকিৎসাও তত বেশি জটিল হয়। এক পর্যায়ে অপারশনের সঙ্গে সঙ্গে কেমোথেরাপি নেবারও প্রয়োজন হতে পারে। রোগ খুব বেশি দেরিতে ধরা পড়লে তা সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং অপারেশনের কোনো সুযোগ থাকে না, শুধু কেমোথেরাপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে সুস্থ হবার সম্ভাবনাও কমতে থাকে। এই ক্যান্সার ফুসফুস থেকে মস্তিস্ক এবং অস্থিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিশ্বের অনেক হাসপাতালে এই অবস্থাতেও অপারেশন করে চিকিৎসা করার দৃষ্টান্ত আছে।তাই খুব সহজেই নিরাশ হবার কিছু নেই। সঠিক সময়ে রোগ নির্নয় করা গেলে অধিকাংশ রোগীই পাঁচ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকতে দেখা যায় তবে সমস্ত শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে এই হার নগণ্য হয়ে দাঁড়ায়।

 

সচেতনতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে