Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯ , ২ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৭-২০১২

ধসের দেড় বছরে পুঁজিবাজার ছেড়েছে ৯ লাখ নিঃস্ব বিনিয়োগকারী

ধসের দেড় বছরে পুঁজিবাজার ছেড়েছে ৯ লাখ নিঃস্ব বিনিয়োগকারী
২০১০ সালের ডিসেম্বরের ভয়াবহ ধসের পর থেকে আস্থা ও তারল্য সংকটে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন প্রায় নয় লাখ বিনিয়োগকারী। এদের অধিকাংশ নিজের বিনিয়োগের প্রায় সবটুকু খুয়েছে পতনপ্রবণ বাজারে।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবের সংখ্যা ২৫ লাখ। এর মধ্যে সেকেন্ডারি মার্কেটে চালু রয়েছে মাত্র ১০ লাখ বিও হিসাব। ২০১১ সালের ৩০ জুন দেশের শেয়ারবাজারে সক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৩৪ লাখের বেশি। এক বছরের মাথায় সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ২৫ লাখে। এ হিসাবে গত এক বছরে নয় লাখ বিও হিসাব বন্ধ হয়ে গেছে। এরমধ্যে রয়েছে সাত লাখ সেকেন্ডারি মার্কেটের ও দুই লাখ আইপিওর বিও হিসাব।

পুঁজিবাজারে লেনদেন করতে হলে একজন বিনিয়োগকারীকে একটি বিও হিসাব থাকতে হয়। সিডিবিএল বলছে, ২০০৯ সালের ৩০ জুন শেয়ারবাজারে সক্রিয় বিও হিসাব ছিল প্রায় ১৪ লাখ। ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ লাখে। ২০১১ সালে বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪ লাখ। এর মধ্যে প্রায় নয় লাখ বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ রয়েছে।
 
এ বিষয়ে কাজী ফিরোজ রশিদ সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশিদ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে গত দেড় বছরে ২৫ হাজার ২৪২টি বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে। অথচ ২০০৯ জুলাই থেকে ১০ সালের জুলাই পর্যন্ত ৫০ হাজার নতুন বিও হিসাব খোলা হয়েছে।” নামে মাত্র প্রণোদনা এবং সরকারি মন্ত্রীদের শেয়ারবাজার না বুঝে কথা বলার কারণে বাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০১০ সালের ৩১ জুন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ছিল প্রায় ছয় হাজার ১৫২ পয়েন্টে। এক বছর পর ২০১১ সালের ১ জুন এটি কমে দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার ৬৬৯ পয়েন্টে। আর ২০১২ সালে ২৩ জুন ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল চার হাজার ২৫৫ পয়েন্টে।

অথচ গত দুই বছর বাজারে নতুন অনেক ভালো কোম্পানি যুক্ত হয়েছে। নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির ফলে সূচকে বাড়তি কিছু পয়েন্ট যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ঘটছে উল্টো ঘটনা। সেই হিসাবে সূচকের প্রকৃত পতন হয়েছে অনেক বেশি।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, “বাজার খারাপ থাকলে বিনিয়োগকারীরা বাজারবিমুখ হয়ে পড়বেন, এটাই স্বাভাবিক। যেসব বিনিয়োগকারী উত্থান সময় এক বা একাধিক বিও হিসাব খুলে বাজারে এসেছিলেন, তারা এখন নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন। হয়তো তারা ভাবছেন, বাজারের যে অবস্থা তাতে হয়ত শিগগিরই এখান থেকে লাভবান হওয়া কঠিন।”

তিনি আরো বলেন, “শেয়ারবাজারে যত বিও হিসাব রয়েছে তা কখনোই সেকেন্ডারি বাজারের নিয়মিত লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। আমার মতে, যত বিও হিসাব থাকে, তার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নিয়মিত লেনদেন করে। বাকি ৫০ শতাংশ শুধু আইপিওর জন্য ব্যবহার করা হয়। অনেকেই আছেন যাদের নামে এক সময় ৩০-৪০টি বিও হিসাব ছিল। যেহেতু বিও হিসাব সক্রিয় রাখতে হলে প্রতি বছর কিছু ফি দিতে হয়, তাই অনেকে হয়ত নামে-বেনামে থাকা এসব একাধিক বিও হিসাব বন্ধ করে দিচ্ছেন।”

মির্জা আজিজ বলেন, “এখনো আইপিও শেয়ারের কারণে অনেকে বাজারে রয়েছেন। যদি এসব আইপিও থেকে কাঙ্ক্ষিত লাভ না আসে, তাহলে বর্তমানে সক্রিয় বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশও বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরি।”

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে