Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (31 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২৬-২০১২

সফল একটি অনুষ্ঠান সুরে সুরে পরম্পরা

মনির বাবু


সফল একটি অনুষ্ঠান সুরে সুরে পরম্পরা
টরন্টো, ২৬ জুন- গত শনিবার বহু প্রতিক্ষিত “সুরে সুরে পরম্পরা” সঙ্গীত সন্ধ্যা বিপুল উৎসাহ আর আনন্দে অনুষ্ঠিত হল। ব্যতিক্রমী এ সংগীত সন্ধ্যাটি বিপুল দর্শক-শ্রোতাদের সমাগমে ছিল জমজমাট। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে টরন্টোর বাংলা কমিউনিটিতে উজ্জল নক্ষত্র হয়ে জ্বলজ্বল করছে যে পরিবারটি তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন নুরুল আলম লাল এবং তঁার সুযোগ্য দুই সন্তান সজীব ও রাজীব। “সজীব” আজ টরন্টোর সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। আর রাজীব টরন্টোর দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটিতে এখন সুপরিচিত মুখ। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর রাজীবকে ফিরে পেয়ে টরন্টোর সংগীত পিপাসুরা ছিলেন আনন্দে আত্মহারা।
টরন্টোর বাংলা কমিউনিটিতে এখন অনেকটা প্রচলিত যে, কোন গানের অনুষ্ঠান শুরুর আগে দর্শকরা ঐ অনুষ্ঠানে রাজীব তবলা বাজাবে কি বাজাবেনা এর উপর নির্ভর করে অনুষ্ঠানের গুনগত মান আগাম অনুমান করে থাকেন। বলাবাহুল্য রাজীব তবলা বাজালে ঐ অনুষ্ঠানের একটা নুন্যতম গুণ বজায় থাকে, এ ধারনা সবার। আর এই রাজীব-ই এদিন তার বাবা ও বড় ভাইয়ের গানের সঙ্গে ছিল তবলায়। এই পরিবারের অন্য আরেক সদস্য যিনি পর্দার আড়ালে থেকে উল্লেখিত তিনজনকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে উজ্জল হতে সাহায্য করেছেন তিনি হলেন তামান্না আলম, যিনি অনুষ্ঠানে তাঁর স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়েছিলেন। যা ছিল দর্শকদের বাড়তি পাওনা।
পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঠিক সন্ধ্যা সাতটায় টরন্টো শহরের সুপরিচিত অনুষ্ঠান সঞ্চালক আহমেদ হোসেন এবং দিলারা নাহার বাবু’র উপস্থাপনায় উপরে উল্লেখিত এই চারজনের সমবেত কন্ঠে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “সকাতরে কাঁদিছে সকলে ও আনন্দলোকে মংগল আলোকে” গান দিয়ে শুরু হয় “সুরে সুরে পরম্পরা”। তারপর বিরতী পর্যন্ত প্রায় দু’ঘন্টাব্যাপি পিতা-পুত্রের বিরামহীন একের পর এক পরিবেশনা। দর্শকদের টান-টান উত্তেজনার মাঝে কখনও নুরুল আলম লাল এককভাবে, কখনও সজীব এককভাবে আবার কখনো পিতা–পুত্র যৌথভাবে নজরুলের গান, আধুনিক গান, পুরানোদিনের গান, গজল গেয়ে চলেছেন। আর এর-ই মাঝে দর্শকরা ক্রমাগতভাবে দারুনভাবে উপভোগ করে দুইভাইয়ের কী-বোর্ড ও তবলার সুনিপুন কারুকার্যতা, মনে হচ্ছিল যেন দুইভাই অনেকদিন পর একসংগে বাজাতে পেরে সবকিছু উজাড় করে দিয়ে একে অপরের সঙ্গে অতিতের স্মৃতি রোমন্থন করে চলেছে। তাঁদের বাজানোর মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছিল একে অপরের প্রতি মমত্ববোধ, কে কাকে কত বেশী বাজানোর সুযোগ করে দেবে যেন এর-ই ছিল প্রতিযোগিতা। আর দর্শকরা উপভোগ করেন এক বিরল অভিজ্ঞতা। রাজীবের তবলা বাজানো শুধু দর্শকদেরই বিমুগ্ধ করেনি, বড় ভাই সজীবের উচ্ছাস আর বিস্ময়ও চাঁপা পড়ে থাকেনি। এর-ই মাঝে দর্শকদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও চলে আসে বিরতি’র ঘোষনা।

পনেরো মিনিটের বিরতির পর শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এই পর্বে অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন শেখর গোমেজ এবং ম্যারী রাকীব রাশেদীন। অনুষ্ঠানের প্রথমার্ধে যেখানে ছিল পিতা নুরুল আলম লালের পরিবেশনার প্রাধান্য, সেখানে দ্বিতীয় পর্বে ছিল পুত্র সজীবের প্রাধান্য। সজীবের উল্লেখযোগ্য পরিবেশনার মধ্যে ছিল বাংলাদেশের অকালপ্রয়াত দুই কৃতিসন্তান তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরকে নিয়ে ওর নিজের লেখা, সুর করা গানের পরিবেশনা। এই গানটি পরিবেশনার সময় দর্শক-শ্রোতা-শিল্পী সবার চোখ সিক্ত হয়ে উঠে, অডিটোরিয়ামের পরিবেশ হয়ে উঠে ভারী। এখানে উল্লেখ্য যে মিশুক মুনীরের সঙ্গে এই পরিবারের অনেকদিনের আত্মিক সম্পর্ক ছিল। আরো উল্লেখযোগ্য পরিবেশনার মধ্যে ছিল শচীন দেব বর্মনের “কে যাস্ রে ভাটির গান গাইয়া” নচিকেতার “বৃদ্ধাশ্রম”, আরো অনেক এরকম হৃদয়স্পর্শী গান। তবে এর-ই মাঝে যখন সর্বশেষ পরিবেশনা “তাক ধুম তাক ধুম বাজায় বাংলাদেশের ঢোল” পরিবেশিত হচ্ছিল তখন দর্শক-শ্রোতারা নিজ নিজ আসন ত্যাগ করে উচ্ছসিত হয়ে মঞ্চে এসে গানে অংশগ্রহন করেন।

এই অনুষ্ঠানের আরেকটি দিক অনেক দর্শকদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করেছে তা হল এ অনুষ্ঠানে নিয়োজিত নিবেদিত প্রান স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। এইসব স্বেচ্ছাসেবকরা টরন্টো বাংলা কমিউনিটির অতি পরিচিত সেলিব্রেটিবৃন্দ, কেউবা জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী, কেউবা জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী, কেউবা জনপ্রিয় কলামিস্ট, কেউবা জনপ্রিয় নাট্যাভিনেতা প্রমুখ। অন্যসব অনুষ্টানে দেখা যায় এইসব সেলিব্রেটিদের অনুষ্ঠান দেখার জন্য দর্শকরা লাইন করে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন, আর এই অনুষ্ঠানে দেখা গেল এইসব জনপ্রিয় ব্যক্তিবৃন্দ গেটে দাঁড়িয়ে টিকিট চেক করেছেন বা দর্শকদের আসনগ্রহন করতে সাহায্য করছেন। যা কি-না টরন্টো’র বাংলা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক বিরল দৃষ্টান্ত। এরকম কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল যে, তারা তাদের প্রিয় ‌'লাল ভাই' আর সজীব-রাজীবের অনুষ্ঠান সফল করার জন্য নিবেদিত। তাদের কথায় “এতো আর যার-তার অনুষ্ঠান নয়, এ যে আমাদের আদরের-ভালবাসার আমাদের স্টার-সজীবের অনুষ্ঠান, আমাদের শ্রদ্ধেয় লাল ভাইয়ের অনুষ্ঠান”। স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে মঞ্জু, ইন্টু, শান্তা, বাবুনী, শাম্মী, শর্মী, আসিফ, কনক, আহমেদ, ময়না, মনির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

কানাডা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে