Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ , ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-১৫-২০১২

একজন নিরহঙ্কারী মিতভাষী

একজন নিরহঙ্কারী মিতভাষী
৪৫ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এবারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দৌড়ে শামিল হলেন ভারতের নিরহঙ্কারী ও মিতভাষী অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়। ক্ষমতাসীন ইউপিএ জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভের মধ্য দিয়ে ভারতের রাজনীতি ও কংগ্রেসের মধ্যে নিজের অপরিহার্যতা প্রমাণ করলেন তিনি। ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবন_ সব ক্ষেত্রেই তিনি একেবারেই মিতভাষী। প্রয়োজনের বাইরে যে কোনো কাজেই তার আপত্তি রয়েছে। শত শত সম্মানের মুকুট মাথায় নিয়েও একেবারেই নিরহঙ্কারী প্রণব মুখোপাধ্যায়। ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী শুভ্রা এবং দুই পুত্র ও এক কন্যাসন্তান নিয়ে প্রণবের সংসার। বড় ছেলে অভিজিত কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মেয়ে শর্মীষ্ঠা নৃত্যশিল্পী। অবসরে বই পড়তে, বাগান করতে ও গান শুনতেই বেশি ভালোবাসেন। রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। প্রণবের আরেকটি পছন্দের কাজ বই লেখা। রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে এ পর্যন্ত তার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশিত হয়েছে। লেখক হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। রাজনীতিকের পাশাপাশি লেখক পরিচয় দিতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।
প্রণব মুখোপাধ্যায় সিউড়ির বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। এ কলেজটি সে সময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। বিভিন্ন সময় ভারতের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ, অর্থ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের বিরল কৃতিত্বের অধিকারী তিনি। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য। দলের প্রতি আনুগত্য ও অসামান্য প্রজ্ঞা এ বাঙালি রাজনীতিবিদকে কংগ্রেস দলে ও এমনকি দলের বাইরেও বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র করেছে। দেশের প্রতি অবদানের জন্য তাকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ ও শ্রেষ্ঠ সাংসদ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ১৯৮৪ সালে ব্রিটেনের ইউরোমানি পত্রিকার এক জরিপে তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাঁচ অর্থমন্ত্রীর একজন হিসেবে বিবেচিত হন। ১৯৩৫ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক রাজনৈতিক পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন প্রণব। বাবা কামদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় ১৯২০ সাল থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
কর্ম ও রাজনৈতিক জীবন
প্রণব মুখোপাধ্যায় নিজের কর্মজীবন শুরু করেন কলেজ শিক্ষক হিসেবে। এরপর পশ্চিমবঙ্গের বাংলা পত্রিকা দেশের ডাকে সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ট্রাস্টি হিসেবেও নিযুক্ত হন তিনি। নিখিল ভারত বঙ্গ সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন। কর্মজীবনের নানা সফলতার হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন তিনি। প্রায় পাঁচ দশক ধরে ভারতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ১৯৬৯ সালে তিনি প্রথমবার কংগ্রেস দলের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৫, ১৯৮১, ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ সালেও তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে কেন্দ্রীয় শিল্পোন্নয়ন উপমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম মন্ত্রিপরিষদে যোগদান করেন।
১৯৭৪ সালে শিপিং ও ট্রান্সপোর্ট মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, উপমন্ত্রী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকা ের পর একটি দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হন তিনি। সে সময় রাজীব গান্ধী তাকে নিজের মন্ত্রিপরিষদে স্থান দেননি। কিছুদিনের জন্য তাকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। এ সময় তিনি রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস নামে নিজস্ব একটি দলও গঠন করেছিলেন। তবে ১৯৮৯ সালে দলীয় কোন্দল মিটিয়ে ফেলার পর এ দল নিয়ে তিনি আবার কংগ্রেসে যোগ দেন।
পরে ১৯৯১ সালে পিভি নরসীমা রাও তাকে পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান নিযুক্ত করলে তার রাজনৈতিক কর্মজীবন চাঙ্গা হয়ে ওঠে। নরসীমা রাওয়ের মন্ত্রিসভায় পরে তিনি ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি রাওয়ের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ সাংসদ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০০৪ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট ইউপিএ কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করে। এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং রাজ্যসভার সদস্য হওয়ায় প্রণব মুখোপাধ্যায় লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতার দায়িত্ব পান। এ বছরই তিনি প্রথমবার জঙ্গিপুর আসন থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন।
সাফল্য
ভারতের ইতিহাসে এই মৃদুভাষী ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিকের অবদান অনস্বীকার্য। দেশের রাজনীতি বা অর্থনীতিতেই শুধু নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। ২০০৮ সালের ১০ অক্টোবর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইসের সঙ্গে 'সেকশন ১২৩ চুক্তি' সই করেন। তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংকের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৪ সালে প্রণব মুখোপাধ্যায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত গ্রুপ অব টোয়েন্টিফোরের সভাপতিত্ব করেন। ১৯৯৫ সালের মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিনি সার্ক মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলনেও সভাপতিত্ব করেন। ২০০৬ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি অসামান্য সাফল্য অর্জন করেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করেন। পরে নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফিকেশন চুক্তি স্বাক্ষর না করেই নিউক্লিয়ার সাপ্নায়ারস গ্রুপের থেকে বেসামরিক পরমাণু বাণিজ্যের অনুমতি আদায় করে নেন তিনি। কর্মজীবনে অসাধারণ সাফল্যের জন্য ২০০৭ সালে তাকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ দিয়ে সম্মানিত করা হয়। ২০১০ সালে এশিয়ার বর্ষসেরা অর্থমন্ত্রীর খেতাব জিতে নেন তিনি। শুধু মন্ত্রী বা সাংসদ হিসেবেই নয়, কংগ্রেসের ভরসাও তিনি। সোনিয়া গান্ধী রাজনীতিতে যোগদানের পর কংগ্রেস সভানেত্রীকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে দলের প্রতি তার দায়িত্ব পালন করেন এবং সোনিয়ার আস্থাভাজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। এমনিতে রাজনীতির সুবাদে তিনি নেহরু ও গান্ধী পরিবারের বিশেষ আস্থাভাজন বলেই পরিচিত। ভারতের বর্তমান অর্থমন্ত্রী প্রণব আগামী ২৪ জুন পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য লড়াই করবেন।

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে