Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯ , ১১ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-১৫-২০১২

প্রণবই হচ্ছেন ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি

নুরুল ইসলাম


প্রণবই হচ্ছেন ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি
সব জল্পনা-কল্পনার ইতি টেনে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখার্জিকেই ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইউপিএর প্রার্থী ঘোষণা করলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া ইউপিএ জোটভুক্ত দলগুলো এবং সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির সমর্থনে মোটামুটি ঐকমত্যের ভিত্তিতেই ভারতের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন প্রণব মুখার্জি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, প্রধান বিরোধী জোট বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ প্রণব মুখার্জির বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী দেবে না। সে ক্ষেত্রে প্রণব মুখার্জিই হতে যাচ্ছেন ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি। সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামকে প্রার্থী ঘোষণা করে নাটকীয়তার উত্তাপ ছড়ানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একঘরে হয়ে পড়েছেন। মাত্র একদিনের মাথায় তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টি গতকাল প্রণব মুখার্জির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। উত্তর প্রদেশের আরেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি-বিএসপিও সমর্থন দিয়েছে প্রণবকে। এমনকি সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টও প্রণবকেই সমর্থন করবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কারণ সিপিএম মনে করে, এর আগে তাদের যে ভুলের কারণে জ্যোতি বসু ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি, সে ভুলের পুনরাবৃত্তি করে এবার আরেক বাঙালির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা কিছুতেই ফিকে করা যাবে না। এরই মধ্যে নিজের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন চেয়ে সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে টেলিফোন করেছেন প্রণব মুখার্জি। ২১ জুন এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে বামফ্রন্ট। প্রণব মুখার্জির পক্ষে সমর্থন চেয়ে গতকাল রাতেই বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজকে ফোন করেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এরপর জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) নেতা ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে ফোন করেছেন প্রণব মুখার্জি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে
বোন আখ্যায়িত করে শেষ পর্যন্ত তার সমর্থন লাভের আশাবাদও ব্যক্ত করেন প্রণব। যে কোনো সময় মমতাকে তিনি ফোন করতে পারেন বলে তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে বলা হচ্ছে। বিজেপির একটি সূত্র জানায়, উপ-রাষ্ট্রপতি পদে কংগ্রেস তাদের প্রার্থীকে সমর্থন দিলে প্রণবকে সমর্থন দেবে বিজেপি। অন্যদিকে একজন বাঙালির রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে কাঁটা হয়ে পশ্চিমবঙ্গে 'মীর জাফর' উপাধি পেতে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের অন্যতম শরিক দল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরই মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামকে পাল্টা প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। জোটের মধ্যে এ বিদ্রোহের দৌড়ে সমাজবাদী পার্টির মুলায়ম সিং যাদবও সঙ্গে আছেন বলে জোর দাবি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর। যদিও মাত্র একদিনের মাথায় তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে সমাজবাদী পার্টির পাল্টা সুর। সমাজবাদী পার্টি এ মুহূর্তে কেন্দ্রের ইউপিএ সরকারকে অস্থিতিশীল করতে চায় না বলে গতকাল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহন সিং। কংগ্রেসকে 'উচিত শিক্ষা' দিতে অনড় মমতা দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে এপিজে আবদুল কালামকে আগাম অভিনন্দন বার্তাও পাঠিয়ে দিয়েছেন। ভোটের সব চিত্র স্পষ্ট হওয়ার পর গতকাল রাতেও কলকাতায় মমতা বলেছেন, খেলা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। কালামের প্রার্থিতার বিষয়ে আমরা এখনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের মনোভাবে কোনো পরিবর্তন হবে না। পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ জনগণ মনে করেন, মমতার এ ধরনের অবস্থান হঠকারী। এ অবস্থায় প্রধান বিরোধী দল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট গতকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেও প্রার্থী ঘোষণা থেকে বিরত থেকেছে। ২০০২ সালে বিজেপির মনোনয়নেই প্রথম দফা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন এপিজে আবদুল কালাম। গতকাল এনডিএর প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা এলকে আদভানি বলেন, তাড়াহুড়া করে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা কিংবা কোনো প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানাবেন না তারা। তিনি বলেন, 'আমরা সব প্রার্থীর বিষয়েই আলোচনা করেছি। প্রার্থিতা নিয়ে কে কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তাও আলোচনায় এসেছে। কে কাকে রাষ্ট্রপতি ভবনে পাঠাতে চান, আমরা সব বিষয়েই আলোচনা করেছি। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা নিয়ে আমরা যে কারও সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত। আমরা সব দলের সঙ্গেই আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমরা এনডিএর মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলব।' এ অবস্থায় ভারতজুড়ে এখন চলছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের হিসাব-নিকাশ। কার পক্ষে কত ভোট আছে সর্বত্র চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। স্বাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে এর আগে কোনোবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নাটকীয়তার পারদ এতটা তুঙ্গে ওঠেনি। মূলত দলগত ও জোটগত ভোটের নানা হিসাব-নিকাশ থেকেই এবার রাষ্ট্রপতি ভবনের নতুন অতিথি নিয়ে এত উত্তেজনা।
এখানে উল্লেখ করা দরকার, লোকসভা নির্বাচনে কোনো দল সরকার গঠনের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে রাষ্ট্রপতি কাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন, সে বিষয়ে ভারতের সংবিধানে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা নেই। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকেও সরকার গঠনের জন্য ডাকতে পারেন, আবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের চেয়ে জোটগতভাবে বেশি আসন পাওয়া জোটকেও ডাকতে পারেন। সরকার গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারের এই ধূসর জায়গা থেকেই এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এতটা নাটকীয়তা জমানোর প্রয়াস মমতা গংয়ের। আগামী লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সরকার গঠনের মতো নূ্যনতম আসন পাবে না_ এ ধারণা থেকে যতসব নাটকীয়তা। তবে শেষ মুহূর্তে আগুনে পানি ঢালল মুলায়ম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টি। এর আগে ২০০৮ সালে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের প্রতিবাদে তৎকালীন কংগ্রেস জোটের শরিক বামফ্রন্ট যখন সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়, তখনও জোটের বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে সরকার টেকাতে এগিয়ে আসেন মুলায়ম সিং যাদব। অথচ বামফ্রন্ট সমর্থন প্রত্যাহার করার পর কংগ্রেস জোটের তখনকার সরকারের অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এবারও মমতার ফাঁদে মুলায়ম যদি শেষ পর্যন্ত পা দিতেন, তাহলে শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রণবের জয়লাভই কঠিন হতো না, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের দ্বিতীয় মেয়াদের এ সরকারের অস্তিত্বও বিপন্ন হতো। এ মুহূর্তে দিলি্লর রাজনীতিতে জোর জল্পনা, মুলায়মের সমাজবাদী পার্টি ইউপিএতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাচ্ছেন মুলায়ম।
কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রণব
দলের মনোনয়ন লাভের পর সোনিয়া গান্ধী ও দলের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রণব মুখার্জি। গতকাল বিকেলে দিলি্লতে ইউপিএর বৈঠক শেষে জোটের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী আগামী ১৯ জুলাইয়ের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রণব মুখার্জির নাম ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে একই সঙ্গে ঐকমত্যের প্রার্থী হিসেবেই প্রণবকে নির্বাচিত করতে সব দলের প্রতি আহ্বান জানান সোনিয়া। এদিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট প্রণবের বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী দেবে না বলে জেনে যাওয়ার পর এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, প্রণবই হচ্ছেন রাইসিনা হিলসের রাষ্ট্রপতি ভবনের নতুন অতিথি। মমতা তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলেও এপিজে আবদুল কালাম গতকাল সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সঠিক সময়েই তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। কংগ্রসের তরফে গতকালই কালামকে অনুরোধ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার। অন্যদিকে ২৪ জুন অর্থমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে পরের দিনই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন প্রণব মুখার্জি। কালামের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, জয়ের নিশ্চয়তা না পেলে তিনি প্রার্থী হবেন না।
ভোটের হিসাব-নিকাশ
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভা এবং কেন্দ্রশাসিত দিলি্ল ও পুডুচেরিসহ সব রাজ্যের বিধানসভা সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। সর্বমোট ভোট ৪ হাজার ৮৯৬। এর মধ্যে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের সদস্য ৭৭৬ এবং ৪ হাজার ১২০ জন বিধায়ক। তবে অন্য যে কোনো ভোটের মতো ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একটি ভোটের মূল্য বা মান এক নয়। রাজ্যভেদে একটি ভোটের মূল্য বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে এবারের ৪ হাজার ৮৯৬ ভোটারের ভোটমূল্য ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮২। বিজয়ী প্রার্থীর প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪২ বা ৫০ শতাংশের কিছু বেশি ভোট।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের রয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৫ ভোট বা ৪১.০৭ শতাংশ। এর মধ্যে এককভাবে কংগ্রেসের ভোট ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৫৫ বা ৩০.৩ শতাংশ। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ৪.৪ শতাংশ। তবে ইউপিএ সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থনকারী সমাজবাদী পার্টির আছে ৬.৩৪ শতাংশ ভোট। গতকাল সর্বশেষ খবর পর্যন্ত ইউপিএর ভোটের হিসাব-নিকাশ এরকম, ইউপিএ-তৃণমূল+সমাজবাদী পার্টি+বহুজন সমাজ পার্টি। এক্ষেত্রে ভোটের হিসাব দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৪ হাজার ৩০৩। অর্থাৎ ম্যাজিক ফিগার থেকে মাত্র ২৫ হাজার ১৩৯ ভোট কম। তবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের গতকালের উপনির্বাচনের পর ভোটের এ হিসাবে কিছুটা হেরফের হতে পারে। এদিকে বামফ্রন্টের রয়েছে ৪.৭ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ ইউপিএ, সমাজবাদী পার্টি, মায়াবতীর বিএসপি এবং বামফ্রন্টের মোট ভোট ম্যাজিক ফিগারকে অনেকটাই ছাড়িয়ে যাবে। তাছাড়া ইউপিএ এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটবহির্ভূত অনেক ছোটখাটো আঞ্চলিক দলের কিছু ভোট তো রয়েছেই। এসব ভোটের বেশির ভাগ ইউপিএর ঝুলিতেই আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বামফ্রন্ট এখনও ইউপিএর প্রার্থী প্রণব মুখার্জির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেনি। যদি ধরে নেওয়া হয় বামফ্রন্ট সমর্থন দেবে না, তবু ছোটখাটো দলের সমর্থন নিয়ে তরী উৎরাতে কোনো সমস্যা হবে না। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান বিরোধী জোট এনডিএর রয়েছে মাত্র ২৭.৭ শতাংশ ভোট। এর মধ্যে বিজেপির মাত্র ২১.২ শতাংশ। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের ৪.৪ শতাংশ এবং জয়ললিতার এআইএডিএমকের ৩.৩ শতাংশ ভোট যদি এনডিএর পক্ষে যায় তাহলে তাদের ভোটের হিসাব দাঁড়াবে ৩৫.৪ শতাংশ। মুলায়মের সমাজবাদী পার্টি যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফাঁদে পা দিয়ে এপিজে কালামের প্রার্থিতার পক্ষে অটল থাকত তাহলে হয়তো সম্ভাবনার একটা জায়গা তৈরি হতো। সেক্ষেত্রে বামফ্রন্টের ভোট হতো নির্ধারক।
প্রণব যখন ঢাকায়
প্রণব মুখার্জির যখন ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার গুঞ্জন শুরু মাত্র, রাষ্ট্রীয় সফরে তখন তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকায় সম্পাদকদের সঙ্গে তার একান্ত বৈঠকে সমকাল সম্পাদক তখন তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, 'শোনা যাচ্ছে আপনি হতে যাচ্ছেন ভারতের ভাবী রাষ্ট্রপতি।' শুনে মৃদু হেসেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, সবকিছু নির্ভর করছে দলের ওপর। এ মুহূর্তে আমি কিছু ভাবছি না।
ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এ বাঙালি রাজনীতিকের নামটি রাষ্ট্রপতির তালিকায় তারপর থেকেই ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে প্রতিনিয়ত। সে দেশের গণমাধ্যমেও আলোচিত হতে থাকেন তিনি সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে।
সমকালের নয়াদিলি্ল প্রতিনিধি গৌতম লাহিড়ী জানান, গতকাল দিলি্লতে ইউপিএর বৈঠকে 'আমন্ত্রিত' না হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন না। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাসভবনে শরিক দলের বৈঠকে ইউপিএর চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী সংক্ষিপ্ত বিবৃতি পাঠ করে ঘোষণা করেন, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী। পঁচিশ বছর ধরে প্রচার ছিল প্রণব মুখার্জি গান্ধী পরিবারের আস্থাভাজন নন। সোনিয়া গান্ধীর মনোনয়ন সেই ইতিহাসের দাগ মুছে দিল। লেখা হলো নতুন ইতিহাস। সক্রিয় রাজনীতির সায়াহ্নে এসে প্রণব মুখার্জির রাজনৈতিক জীবনে সব থেকে বড় স্বীকৃতি। তাই মনোনীত হওয়ার পর প্রথম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন সভানেত্রীকে। সে সঙ্গে দলের সব নেতাকে। পরে নর্থ ব্লকের সামনে দাঁড়িয়ে সমর্থন চাইলেন প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তার বিরোধী তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বলেন, 'মমতা আমার ছোটো বোনের মতো।' তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে বলা হয়েছে প্রণব মুখার্জি সমর্থন নেওয়ার জন্য মমতাকে টেলিফোন করতে পারেন। যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জয়ী হন তাহলে এই প্রথম একজন বঙ্গসন্তান রাইসিনা হিলসের 'মহামহিম' হতে চলেছেন।
সোনিয়া গান্ধীর ঘোষণার পর প্রথম বাইরে থেকে সমর্থনকারী বহুজন সমাজ পার্টির মায়াবতী প্রণব মুখার্জিকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তার আগে সমাজবাদী পার্টির সাধারণ সম্পাদক রামগোপাল যাদব প্রণব মুখার্জিকে সমর্থন করার কথা জানান। পরে মুলায়ম সিং যাদব জানিয়ে দেন, প্রণব মুখার্জিকে সমর্থন করা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই। তিনি এও বলেন, 'এটা ঠিকই প্রথমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামকে প্রার্থী করতে চেয়েছিলাম। কংগ্রেস সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় এখন আর এগোনোর অর্থ হয় না।' আবদুল কালাম গতকাল বলেছেন, 'উচিত সময়ে উচিত সিদ্ধান্ত নেব।' শেষ পর্যন্ত প্রণব মুখার্জি প্রায় 'সর্বসম্মত' প্রার্থী হতে চলেছেন। বাম দলগুলো আগামী ২১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তার আগে সিপিএম পলিটব্যুরো নেতা বৃন্দা কারাত প্রণব মুখার্জি প্রার্থী হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে