Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৯ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-২৯-২০১৬

কোহলির ‘১৮’-এর পেছনের কান্নাভেজা গল্প

কোহলির ‘১৮’-এর পেছনের কান্নাভেজা গল্প

মুম্বাই, ২৯ এপ্রিল- এপ্রিলকত কারণই তো থাকে খেলোয়াড়দের জার্সি নম্বরের পেছনে! কখনো কোন ‘পজিশনে’ খেলেন তার ওপর নির্ভর করে জার্সি নম্বর, কিংবা খেলোয়াড়ের কোনো সংস্কারের ওপর... অথবা নিছকই কোনো নম্বরের প্রতি নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের আকর্ষণ। ব্যাপারগুলো ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলেই বেশি। ‘১০’, ‘৭’—নম্বরগুলো ফুটবলে যতটা মানে রাখে, ক্রিকেটে ঠিক ততটা নয়। ক্রিকেটে বেশির ভাগ সময়ই জার্সি দেওয়া হয় নিছক আনুষ্ঠানিকতা মেনে। তারপরও ক্রিকেটারদের জার্সি নম্বর নিয়ে কিছু কিছু গল্প থাকে, যেগুলো মনে দাগ কেটে যাওয়ার মতো। বিরাট কোহলির জার্সি নম্বরের পেছনের গল্পটাও তেমনই।

কোহলির জার্সি নম্বরটা খেয়াল করেছেন কখনো? ভারতীয় দলে হোক, কিংবা আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু—সব জায়গাতেই ২৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের জার্সির পেছনে শোভা পায় ‘১৮’ সংখ্যাটা। কিন্তু ১৮-ই কেন? পছন্দ করুন বা না করুন, বর্তমান সময়ের ক্রিকেটের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন তিনি। ভারতীয় দলে, ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে শচীন টেন্ডুলকারের উত্তরসূরি ভাবা হয় তাঁকে। কোহলির জার্সি তো ১০-ও হতে পারত!

কিন্তু কোহলির ১৮-ই পছন্দ। না, কোনো সংস্কার নয়, সংখ্যাটা তাঁর প্রিয় বলেও নয়। ‘১৮’-র সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর জীবনের, ক্রিকেটে আসার অনুপ্রেরণার একটা গল্প।

তারিখটা ছিল ১৮ ডিসেম্বর, ২০০৬। কোহলির জীবনে অনেক বেদনার, চিরদিনের জন্য মনে দাগ রেখে যাওয়ার একটা দিন। এদিন যে পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানের বাবা প্রেম কোহলি। তখনো অবশ্য ভারতের মূল দলের আশপাশেও তিনি নেই, দিল্লির হাজারো ক্রিকেট-পাগল তরুণের ভিড়ে স্বপ্ন নিয়ে মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।
ওই একটা দিনই তাঁকে প্রচণ্ড নাড়া দিয়ে গিয়েছিল। সেটি শুধু মাথার ওপর বটবৃক্ষ হয়ে থাকা বাবার ছায়া সরে গেছে বলেই নয়, বাবার ভালোবাসার ছোঁয়া হারিয়েছেন বলেও নয়; প্রেম কোহলিই যে ছিলেন বিরাট কোহলির আজকের বিরাট হয়ে ওঠার প্রেরণা। প্রথম ব্যাট ধরা শেখানো থেকে শুরু করে, ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা গড়ে দেওয়া, কোহলির ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে নিয়ত সঙ্গ দিয়ে যাওয়া—বাবাই ছিলেন কোহলির ভরসা হয়ে।

সেই ভরসা যখন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন, সেটি মানসিকভাবে বেশ বড় ধাক্কা দিয়ে গেছে। পাশাপাশি হয়তো কোহলির চোয়ালটাকে আরও শক্ত করে তুলেছে প্রতিজ্ঞায়—যে করেই হোক, বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। আজকের ভারত টেস্ট অধিনায়কের তখন বয়স ১৮ পূর্ণ হয়নি।

ওই প্রতিজ্ঞাই হয়তো আরও বেশি করে ক্ষুধার্ত করে তুলেছিল কোহলিকে। এরপরই যে শুরু হয়েছিল কোহলি স্বপ্নযাত্রা—ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের অধিনায়ক হয়ে ২০০৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতা, ধীরে ধীরে ভারতীয় দলে নিয়মিত হওয়া, আজকের ‘শচীন টেন্ডুলকারের উত্তরসূরি’ হয়ে যাওয়া... সবই ওই ১৮ ডিসেম্বর, ২০০৬ সালে ১৮ বছর বয়সী তরুণের নতুন করে নিজেকে চেনার ফল।

আজ ক্রিকেটে এত কিছু যে করছেন কোহলি, এত হাসি-কান্নার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, সেগুলো ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য বাবা হয়তো পাশে নেই। তবে ‘১৮’ জার্সিটাকে পিঠে ঠিকই বয়ে নিয়ে চলছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান। যেন প্রতিটি এক শতে বাবার পিঠ চাপড়ে দেওয়া, বা প্রতিটি শূন্যতে বাবার স্নেহের পরশটা পিঠে ঠিকই টের পান। সূত্র: জি নিউজ।

আর/১০:২০/২৯ এপ্রিল

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে