Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ , ৩ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (71 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-১০-২০১২

গরমে স্বস্তি ঠাকুরগাঁওয়ের তরমুজে

গরমে স্বস্তি ঠাকুরগাঁওয়ের তরমুজে
চারদিকে কাঠফাটা রোদ। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ মানুষ। তবুও কাজ করতে হয়, কাজের জন্য বাইরে যেতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে যদি হাতের নাগালে পাওয়া যায় রসালো ফল তরমুজ, তবে তো কথাই নেই। অস্বস্তিকর গরমে এক ফালি তরমুজ জুড়িয়ে দেয় প্রাণ। এেেত্র ঠাকুরগাঁওয়ের সুস্বাদু তরমুজের কদর বেড়ে গেছে। জেলা, উপজেলা সদর ছাড়াও প্রত্যন্ত হাট-বাজারে মিলছে এই ফল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও যাচ্ছে প্রতিদিন।
গরমের সঙ্গে পাল্লা দেয়ার জন্যই হয়তো এবার ঠাকুরগাঁওয়ে তরমুজের ফলন হয়েছে বেশি। বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক, ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই। শহরের বাসিন্দা চাকরিজীবী খন্দকার জিয়াউল বাশার  বললেন, আগে গ্রীষ্মকালে ফলের মৌসুমে অন্য ফল যেমন আম, লিচুর প্রতি টান থাকলেও এতটা ছিল না তরমুজের প্রতি। বাসায়ও কারো তেমন চাহিদা ছিল না। কিন্তু এবার প্রচণ্ড গরমে আমি সুযোগ ফেলেই তরমুজের ফালি খাচ্ছি। বাসায়ও নিয়ে যাচ্ছি আস্ত তরমুজ।
ঠাকুরগাঁওয়ের ৫টি উপজেলাতেই এবার তরমুজের চাষ হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার আবাদ যেমন বেড়েছে তেমনি ফলনের পরিমাণ ও গুণগতমান ভালো হয়েছে। আকারেও হয়েছে অনেক বড়। এবার প্রতিটি তরমুজের ওজন হয়েছে ১৫ থেকে ২০ কেজি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ জেলায় ৬৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করা হয়। এতে ফলন হয়েছে হেক্টর প্রতি প্রায় ৪৫ মেট্রিক টন। এই হিসাব অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার ৩০ হাজার ৬শ’ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে।
মৌসুমের শুরু থেকেই জেলার প্রতিটি উপজেলা হতে প্রতিদিন শত শত মণ তরমুজ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। তরমুজ কেনার জন্য বেপারীরা আসছেন এখানে। বগুড়া থেকে আসা তরমুজ বেপারী মোতাহার হোসেন বলেন, গরমে তরমুজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই আমরা এখান থেকে তরমুজ কিনে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা সদরে পাঠাচ্ছি। আরেক বেপারী আবদুল বারেক বলেন, কৃষকের কাছ থেকে সময় মত তরমুজ কেনার ফলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। ব্যবসা বেশি হওয়ায় আমাদেরও লাভ হচ্ছে। আর বাজারের চাহিদাও মেটানো যাচ্ছে।
পীরগঞ্জ উপজেলার বীরহলি গ্রামের তরমুজ চাষী আবু জাহিদ জানান, এ বছর শিলাবৃষ্টি না হওয়ায় তরমুজ নষ্ট হয়নি। তাই বেশি ফলন পেয়ে তারা খুব খুশি।
কৃষক আবদুল গণি জানান, তার এক বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে খরচ হয় ১৫ হাজার টাকার মত। এতে উৎপাদিত তরমুজ তিনি বিক্রি করেছেন ৪৭ হাজার টাকায়। আশানুরুপ দাম পেয়ে আবদুল গণি খুব আনন্দিত এবং ভবিষ্যতে তিনি তরমুজ চাষ অব্যাহত রাখবেন বলে জানান।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেলায়েত হোসেন বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। রোগ-বালাই হয়নি। তাই এ বছর তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে।
এ জেলায় হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ৪৫ মেট্রিক টন। তরমুজের দামও ভালো পাওয়া গেছে। তাই কৃষকরা লাভের মুখ দেখেছেন। এ কারণে তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানান কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে