Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ , ১ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (120 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০৯-২০১২

বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে নীলফামারীর দরিদ্র নারীদের তৈরি মাদুর

বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে নীলফামারীর দরিদ্র নারীদের তৈরি মাদুর
নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের একটি গ্রাম পশ্চিমপাড়া। এটি এখন মাদুর তৈরির এলাকা হিসেবে পরিচিত। দিনের যে কোন সময় সেখানে গেলে চোখে পড়বে মাদুর তৈরির দৃশ্য। দেখা যাবে কোন না কোন বাড়িতে নারীরা ব্যস্ত মাদুর তৈরির কাজে।
এই পশ্চিম পাড়া এলাকারই জাহিরা বেগম (৩০) চমৎকার মাদুর তৈরি করেন। মাদুর তৈরি করেই তিনি এখন স্বাবলম্বী। দারিদ্র্যকে দূর করেছেন এই কাজ দিয়ে। জাহিরা এখন শুধু নিজেই মাদুর তৈরি করেন না, অন্যকেও শিখাচ্ছেন এই কাজ। তার হাত দিয়ে এ পর্যন্ত এলাকার আরো ৭৫ জন নারী এ পেশায় এসেছেন।  তাদের সংসারও এখন স্বচ্ছলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিম পাড়ার জয়া বেগম, শিউলি আক্তার, মোর্শেদা বেগম, মারুফা আক্তার, সাবিনাসহ আরো অনেকেই জানিয়েছেন একথা।
জানা গেছে, নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নসহ ইটাখোলা ও চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের মোট ২৭৫ জন নারী মাদুর তৈরির ওপর ৪৫ দিনের মৌলিক প্রশিণ গ্রহণ করেন। বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস এ প্রশিণের আয়োজন করে। প্রশিণপ্রাপ্ত দরিদ্র এই নারীরা নিজেদের জোরালোভাবে সম্পৃক্ত করেন মাদুর তৈরির কাজে। এছাড়া এই ২৭৫ জন মহিলা তাদের স্ব স্ব এলাকায় প্রশিণ দিয়েছেন আরো অন্তত: ৫০০ জন দরিদ্র নারীকে। ফলে এখানকার প্রায় ৮০০ নারী মাদুর তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের তৈরি  মাদুরের গুণগতমান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় তা সমাদৃত হচ্ছে। তাই চাহিদা বাড়ছে দিন দিন।
শুধু তাই নয়, দেশ ছাড়িয়েও নীলফামারীর মাদুর যাচ্ছে বিদেশে। রফতানি হচ্ছে কানাডা, ডেনমার্ক, সুইডেন এবং প্রতিবেশি দেশ ভারতেও। দেশ-বিদেশে চাহিদা বাড়ায় মাদুর তৈরিতে এখানকার নারীদের সম্পৃক্ততাও দিন দিন বাড়ছে। ফলে একাজে সংশ্লিষ্টদের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মাদুর তৈরির কাজে দ নারী জাহেরা বেগম জানান, আগে তিন বেলা তারা পেট পুরে খেতে পারতেন না। স্বামী, দুই সন্তান আর শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে ছিল কষ্টের সংসার। তিনি বলেন, যখন এ কাজে আমি জড়িত ছিলাম না, তখন নানা সমস্যা লেগেই ছিল। স্বামীর একার উপার্জনে সংসারে অভাব থাকলেও আমাকে বসে থেকেই সময় কাটাতে হতো। মাদুর তৈরির কাজে জড়িত হওয়ার পর আমার আয় সংসারে যোগ হয়েছে। তাই সংসার এখন ভাল চলছে। জয়া বেগম জানান, তারা প্রতিদিন মাদুর তৈরি করে ১১০ টাকা হারে মাসে ৩ হাজার ৩০০ টাকা উপার্জন করছেন। বাড়িতে বসে এই টাকা রোজগার করা তাদের জন্য অনেক লাভের।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে আরডিআরএস নীলফামারীতে এই প্রকল্পটি চালু করে। যেখানে প্রশিণপ্রাপ্তরা নিজেরা ছাড়াও অন্যদের উৎসাহিত করে মাদুর তৈরিতে সম্পৃক্ত করছেন। প্রকল্প থেকে সুতা সরবরাহ করে প্রশিণপ্রাপ্ত ওই দরিদ্র মহিলাদের দিয়ে মাদুর তৈরি করা হয়। এসব মাদুর (ম্যাট) দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও তা সমাদৃত হচ্ছে।
আরডিআরএস-এর কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, সুইডেনের দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা এখানকার তৈরি মাদুরের অনেক প্রশংসা করেছেন। ডেনমার্ক, কানাডা এবং ভারতেও এই মাদুর রফতানি হচ্ছে। সমন্বয়কারী খন্দকার রাশেদুল আরেফীন জানান, মাদুর তৈরির প্রশিণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কর্মস্পৃহা বেড়েছে। এসব দরিদ্র নারীদের আর কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে হয় না।
কচুকাটা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য বকুল সরকার বলেন, অভাবের সংসারে মহিলারা কাজ করে আয় বাড়াচ্ছে এটা ভালো একটা দিক। তাদের তৈরি মাদুর দেশের বাইরে যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য অহংকার।
নীলফামারী সদর উপজেলায় এসব নারীদের কাজ স্বচে দেখে অভিভূত হয়েছেন জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম আযম। তিনি জানান, তার উপজেলায়ও মাদুর তৈরির প্রশিণের ব্যবস্থা করবেন। যাতে দরিদ্র নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি সরকারিভাবেও পদপে নেবেন বলে উল্লেখ করেন।

নীলফামারী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে