Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (121 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০৯-২০১২

শিবালয়ের মরিচ যাচ্ছে বিদেশে। উপযোগী মাটি আর পরিকল্পিত চাষে মরিচের উৎপাদন বেড়েছে কয়েকগুন।

শিবালয়ের মরিচ যাচ্ছে বিদেশে।
উপযোগী মাটি আর পরিকল্পিত চাষে মরিচের উৎপাদন বেড়েছে কয়েকগুন।
বাম্পার ফলন আর ভালো দাম পেয়ে শিবালয়ের মরিচ চাষিরা মহাখুশি। অন্য এলাকার কৃষকরা যখন বোরো ধান তুলতে ব্যস্ত তখন শিবালয়ের প্রায় প্রতিটি কৃষক পরিবার ব্যস্ত ক্ষেত থেকে মরিচ তুলতে। কেবলমাত্র  উপযোগী মাটির কারনে এক সময় এখানকার কৃষকরা মরিচ চাষ করতো। বাব দাদার সেই অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বদলে এই প্রজন্মের কৃষকরা এখন মরিচ চাষ করছে পরিকল্পিত ভাবে। ফলে ফলন পাচ্ছে কয়েকগুন বেশি। আর এই মরিচ এখন রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে।
শিবালয়ের মরিচ বেঁচা কেনার সবচাইতে বড় হাট ঢাকা-আরিচা সড়ক সংলগ্ন বরঙ্গাইল হাট। প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫ট্রাক মরিচ এই হাট থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা সহ বিদেশে যাচ্ছে।  হাটের আরতদার উজ্জল ট্রেডার্সের মালিক মহম্মদ জহিরুল হক জানালেন  প্রতিদিন এই হাটে  ৫হাজার মণ মরিচ বেঁচা কেনা হচ্ছে। এরমধ্যে বিদেশে রপ্তানী করা হচ্ছে বেশ একটা বড় অংশ। তিনি জানান মৌসুমের শুরুতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দলে বেচাঁ কেনা হয়েছে।  বর্তমানে ভরা মৌসুমে বেঁচা কেনা হচ্ছে ১২ তেকে ১৫ টাক কেজি দরে।
মরিচ চাষের পাশাপাশি মরিচ ব্যবসার সাথে জড়িত মহম্মদ ইসমাইল শিকদার। তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। তিনি জানান মুলত উপযোগী মাটির কারনেই শিবালয় উপজেলা এবং সংলগ্ন ঘিওর ও হরিরামপুর উপজেলার একটি অংশ মরিচ চাষ হয় ব্যপক ভাবে। এই মরিচের ওপরেই এই এলাকার কৃষকরা নিভলশীল। তিনি জানান বর্তমানে পরিকল্পিত ভাবে তারা মরিচ চাষ করছেন। এতে ফলন কয়েকগুন বেড়ে গেছে। হিসাব দিয়ে তিনি বলেন এক বিঘা জমিতে সাত থেকে আটশ চারা রোপন করা যায়। প্রতিটি চারা দুই টাকা বাবদ খরচ হয় ১৬শ টাকা। এক বিঘা জমিতে চাষ করতে খরচ হয় এক হাজার টাকা। ইউরিয়, টিএসপি, এবং পটাশ সারের জন্য বিঘাপ্রতি খরচ হয় ১৫ থেকে ১৬শ টাকা। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কিটনাশক বাবদ খরচ হয় ৫শ টাকা। এর সাথে যোগ হবে মরিচ তোলা জন্য প্রতিকেজিতে দুই থেকে তিন টাকা এবং হাটে আনতে মণ প্রতি ২৫ থেকে ৩০টাকা। স্বাভাবিক বৃষ্টি হলে সেচের প্রয়োজন হয়না। তবে সেচ দিতে হলে বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় দুই হাজার টাকা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বিঘা প্রতি উৎপাদন হয় ৩৫ থেকে ৬০ মণ। তিনি জানান পৌষ মাসের প্রথমেই চারা রোপন করতে হয়। ফলন শুরু হয় চৈত্র মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে। শ্রাবণ মাসে বর্ষার পানি মরিচ ক্ষেতে না ঢোকা পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। মৌসুমের শুরু এবার তারা মরিচ বিক্রি করেছেন ৩৫ তেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। বর্তমানে বিক্রি হচ্চে ১২ থেকে ১৫টাকা কেজি দরে। এই হিসাব দিয়ে তিনি বলেন শেষ পর্যন্ত প্রতি বিঘা জমিতে তার প্রায় বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা লাভ থাকবে। তিনি জানান কেও কেও আরও বেশি লাভ করতে পারবে। তিনি আরও জানান মরিচ চাষের আগে ক্ষেতে থাকে পিয়াজ বা রসুন। পিয়াজ রসুন থাকতেই মরিচের চারা রোপন করতে হয়। পিয়াজ রুসন তুলে নিলেও থেকে যায় মরিচ গাছ। তিনি বলেন এক হিসাবে এক জমিতে একই সাথে দুটি অর্থকরি ফসল চাষ করা হচ্চে তাদের এলাকায়।  
বরঙ্গাইল হাটেই বিদেশে রপ্তানীর জন্য মরিচ প্যাকিং করতে দেখাগেল মনসুর জেনারেল ট্রেডিং কম্পানির কর্মচারীদের। এদের একজন আলমগীর হোসেন জানালেন প্রতিদিন তারা দুই হাজার কেজি মরিচ বিদেশে পাঠাচ্ছে। ইউরোপ,আমেরিকা সহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে তারা মরিচ রপ্তানী করছে। মালয়েশিয়াতেও প্রচুর পরিমানে মরিচ রপ্তানী হয় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, তারা ছাড়াও আরও চারটি প্রতিষ্টান মানিকগঞ্জের মরিচ বিদেমে রপ্তানী করছে। তিনি জানান মানিকগঞ্জের মরিচ স্বাদে ভালো এবং র্দীঘদিন টাটকা থাকে বলে বিদেশে এর চাহিদ বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে কৃসি সম্প্রুসারণ বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল কাদের জানান এ বছর মানিকগঞ্জে চার হাজার হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। এর বেশির ভাগই শিবালয় উপজেলায়। তিনি জানান এখানে মুলত বিন্দু জাতের মরিচ চাষ হয়। এই মরিচ স্বাদে খুব ঝালও নয় আবার কমও নয়। স্বাদের কারনেই এর চাহিদা বাড়ছে। তিনি বলেন মরিচ চাষে কৃষকদের নানান ভাবে সহযোগীতা করা হচ্চে। তবে তিনি বলেন সংরক্ষনের ব্যবস্থা না থাকায় ভরা মৌসুমে মরিচের দাম পড়ে যায়। সংরক্ষনএবং ঋণের ব্যবস্থা করতে পারলে মানিকগঞ্জের মরিচ বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা আর্জন করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।

মানিকগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে