Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯ , ১১ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (87 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০৯-২০১২

রাজবাড়ীর ১শত শয্যার আধুনিকৃত সদর হাসপাতাল “তেল সরবরাহ না থাকায় এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিজ বন্ধ ”

রাজবাড়ীর ১শত শয্যার আধুনিকৃত সদর হাসপাতাল
“তেল সরবরাহ না থাকায় এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিজ বন্ধ ”
তেল সরবরাহ না থাকায় এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিজ বন্ধ- এ ধরণের একাধিক লিফলেট রাজবাড়ীর ১শত শয্যার আধুনিকৃত সদর হাসপাতালের বিভিন্ন দেয়ালে লাগিয়ে দিয়েছে সংশ্লষ্ঠ কর্তৃপক্ষ। যে কারণে গত নয় দিন ধরে জেলার বৃহত্তর এ হাসপাতালের দু’টি এ্যাম্বলেন্সই রোগী আনা নেয়ার সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পরেছে এ হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর ও রাজধানী ঢাকায় রেফার্ড করা জরুরী রোগী ও তাদের স্বজনরা।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ী হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আফজাল হোসেন বলেন, আমাদের কিছু করার নেই। হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘রাজবাড়ী ফিলিং ষ্টেশন” থেকে গত ৭ মে তাদের বকেয়া প্রায় ১৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে পত্র দেয়া হয়েছে। ওই পত্রে বলা হয়েছে, ৩১ মে’র মধ্যে সমুদয় বকেয়া পরিশোধ না করলে ৩১ মে থেকে হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সের জন্য আর জ্বালানী তেল সরকবরাহ করা সম্ভব হবে না। যে কারণে বাধ্য হয়েই এ জেলার বৃহত্তর এ হাসপাতালের দু’টি এ্যাম্বলেন্সই গ্যারেজে ফেলে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। জ্বালানী তেল সরবরাহের টাকা বরাদ্দ আসলেই আমরা এ্যা¤ু^লেন্স দু’টি চলানো শুরু করবো। তিনি আরো বলেন, একই কারণে বিগত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে প্রথম বারের মত এ্যাম্বুলেন্স চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তিতে অর্থ বরাদ্দ আসলে তা পুনরায় চলানো হয়। এ ঘটনা দ্বিতীয় বারের মত ঘটলো। যদিও আমরা গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত এ্যাম্বুলেন্সে রোগী আনা নেয়া করার ভাড়া বাবদ সরকারী কোষাগারে প্রায় ১৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। তার পরও এখন পর্যন্ত কোন অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। তিনি জরুরী রোগীদের অন্যত্র রেফার্ডের পর তাদের নিয়ে যাবার দূর্ভোগের কথা শিকার করে বলেন, সরকারী এ্যাম্বুলেন্সে এক জন রোগীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে লাগে মাত্র ৬শত ৬০ টাকা এবং রাজধানী ঢাকার হাসপাতাল গুলোতে নিতে লাগে ২ হাজার ৫ শত ৮০ টাকা। অথচ রোগীরা কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা খরচ করে প্রাইভেট কিনিকের এ্যাম্বুলেন্স এবং মাইক্রোবাস  ভাড়া করে ওই সব হাসপাতালে যাচ্ছে।
জেলা শহরের রাজবাড়ী কিনিকের এ্যাম্বুলেন্স চালক ইউনুস সেখ বলেন, সদর হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স চলাচল না করায় তার ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সাপ্তাহে তিনি এ হাসপাতালের জরুরী রোগী নিয়ে চার বার ফরিদপুর এবং তিন বার ঢাকায় গিয়েছেন। তাছাড়া ভাড়ায় চালিত অনেক মাইক্রোবাসেও রোগীরা নিয়মিত ভাবে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, কিনিকের এ্যাম্বুলেন্স হওয়ায় আমরা রোগীদের কাছ থেকে কিছুটা কম ভাড়া নিচ্ছি। তবে বাইরের মাইক্রোবাস গুলো ঢাকায় ৬ হাজার এবং ফরিদপুরে ১ হাজার ২ শত টাকা করে রোগী পৌছে দেবার ভাড়া নিচ্ছে।
হাসপতালের জরুরী বিভাগের সামনে মাইক্রোবাসে ঢাকায় রোগী নিয়ে যাবার সময় রোগীর স্বজন আকরাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজবাড়ী বাসীর জরুরী সেবা পাবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান এ হাসপাতাল। অথচ আমাদের এতোটাই দূর্ভাগ্য যে তেলের অভাবে এ হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত চলে না। যে কারণে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ভাড়া করা মাইক্রোবাসে রোগীকে নিয়ে যেতে হচ্ছে।
অপর রোগীর স্বজন নাইয়ার সুলতানা বলেন, অর্থশালী রোগীরা মাইক্রোবাস ভাড়া করতে পারলেও দরিদ্র রোগীরা তা পারছে না। তারা ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা ও স্যালো ইঞ্জিন চালিত নছিমনে যাতায়াত করছে। তার দাবী জরুরী ভিত্তিতে সরকারী এ্যাম্বুলেন্স দু’টি চালু করা হোক। 

রাজবাড়ী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে