Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০৬-২০১২

ফের মুখোমুখি সংসদ-বিচার বিভাগ

ফের মুখোমুখি সংসদ-বিচার বিভাগ
মুখোমুখি অবস্থানে সংসদ ও বিচার বিভাগ। স্পিকার আবদুল হামিদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ অবস্থানে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দু’টি অঙ্গ। এর আগে বর্তমান সরকারের সময়েই সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে সংসদীয় কমিটিতে তলব করা নিয়ে সংসদ ও বিচার বিভাগ বাহাসে জড়িয়ে পড়েছিল। গতকাল দিনের বেলায় স্পিকারের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন হাইকোর্ট। তার বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও আদালত অবমাননাকর হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে কোন আদেশ দেননি হাইকোর্ট। সন্ধ্যায় হাইকোর্টের কঠোর সমালোচনা করা হয় সংসদে। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে এ ব্যাপারে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের জন্য প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান বিচারপতির প্রতি দাবি জানান সিনিয়র সংসদ সদস্যরা। এজন্য তিন দিন সময় বেঁধে দিতে বলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তবে ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী এ ব্যাপারে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেছেন।
স্পিকারের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা: হাইকোর্ট
সংসদে স্পিকার আবদুল হামিদের দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেছেন, এটা হলো রাষ্ট্রদ্রোহিতা। তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে জনগণকে লেলিয়ে দিয়েছেন। তিনি সরকারের বিরুদ্ধেও জনগণকে উস্কানি দিয়েছেন। তার বক্তব্য আদালত অবমাননাকর। তিনি সংসদকেও অপমান করেছেন। স্পিকার সংসদের দায়মুক্তির অপব্যবহার করেছেন। তিনি  সংসদে কোন ধরনের আলোচনায় অংশ নিতে পারেন না। স্পিকার তার পদের মর্যাদা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। ওই পদে থাকার অধিকার তার নেই। স্পিকার সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখাবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে হাইকোর্ট। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী এবং বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে। সুপ্রিম কোর্টের সম্পত্তি ফিরিয়ে না দেয়ায় আদালত অবমাননার একটি মামলায় স্পিকারের বক্তব্যের বিষয়টি উত্থাপিত হলে এসব কথা বলা হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা হাইকোর্টে এ নিয়ে শুনানি হয়।
সুপ্রিম কোর্টের জমি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে দেয়া হাইকোর্টের আদেশের বিষয় উত্থাপিত হলে স্পিকার আবদুল হামিদ গত ২৯শে মে সংসদে বলেছিলেন, দেশের মানুষের বিচারের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর লেগে যাবে আর নিজেদের বিষয় বলে বিচার বিভাগ ঝটপট সিদ্ধান্ত  নিয়ে নেবেন, এটি ভাল দেখায় না। আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হলে জনগণ বিচার বিভাগের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে পারে। রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলমের এক অনির্ধারিত আলোচনার পর স্পিকার ওই কথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্টের জমি ফিরিয়ে না দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা আদালত অবমাননা মামলাটি গতকাল হাইকোর্টের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। সকালে এ মামলা শুনানি শুরুর আগেই হাইকোর্ট আদালতে উপস্থিত দুই সংসদ সদস্য এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিঞা এবং নুরুল ইসলাম সুজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এসময় হাইকোর্ট বলেন, পার্লামেন্টে আমাদের কচুকাটা করা হয়। স্পিকার তো আদালতের কার্যক্রমেও হস্তক্ষেপ করছেন। স্পিকারের মন্তব্য আনপ্রিসিডেন্ট। পরে ১২টা ২০ মিনিটের দিকে এ মামলার শুনানির শুরুতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পক্ষের আইনজীবী আনিসুল হক বলেন, হাইকোর্টের আদেশে আজকের মধ্যে যেসব অংশ বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল তা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বাদী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদও এতে সম্মতি জানান। এসময় তিনি বলেন, আমি আরেকটি বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এ মামলায় যে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে তা নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগকে হুমকি দেয়া হয়েছে। সংসদের কার্যক্রম নিয়ে কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন তিনি আদালতে জমা দেন। তিনি বলেন, সংসদের কার্যক্রম আদালত অবমাননার আওতায় আসবে না। এ দায়মুক্তির সুযোগ নিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে সংসদে বিচার বিভাগের সমালোচনা করা হয়েছে। এসময় হাইকোর্ট বলেন, এটা বিচার বিভাগের মর্যাদার প্রশ্ন। স্পিকার এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন কিনা তা দেখা হবে। তিনি একজন আইনজীবী। তার তো এডভোকেট শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। তার এ পদবি ব্যবহার করা উচিত কিনা তা দেখতে আমরা বার কাউন্সিলে পাঠাতে পারি। এসময় ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এবিএম আলতাফ হোসেন বলেন, বার কাউন্সিলে তার মেম্বারশিপ এখন স্থগিত রয়েছে। মনজিল মোরসেদ বলেন, স্পিকার বলেছেন হাইকোর্ট তড়িঘড়ি করে রায় দিয়েছে। এসময় হাইকোর্ট বলেন, এ মামলায় রুল নিষ্পত্তিতে আমরা দেড় বছর সময় নিয়েছি। আমাদের বেঞ্চে অনেক রিট তিন মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে। রিট সম্পর্কে মনে হয় স্পিকারের কোন ধারণা নেই। উনি তো হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করেননি। রিট করাই হয় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য। এসময় আদালত এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনকে বলেন, স্পিকার তো বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকেও জেনে নিতে পারতো। সুজন বলেন, আমি সেসময় সংসদে উপস্থিত ছিলাম। তবে অনেক সময় পত্রিকায় বক্তব্য ঠিকভাবে আসে না। তখন হাইকোর্ট বলেন, সকল পত্রিকায় বিষয়টি এসেছে। স্পিকার ওই রিপোর্টের কোন প্রতিবাদও জানাননি। মনজিল মোরসেদ বলেন, জরুরি অবস্থার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী এ হাইকোর্টের কাছ থেকেই প্রটেকশন পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেদিন সংসদে থাকলে হয়তো এ ধরনের আলোচনা হতো না। সরকারের সঙ্গে বিচার বিভাগকে মুখোমুখি করার জন্যই বিষয়টি সংসদে তোলা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্যে জনগণের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করে। এসময় আদালত বলেন, সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা হচ্ছে জনমানুষের মর্যাদা। সুপ্রিম কোর্টকে যদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়, তাহলে তো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আর কিছুই থাকে না। এর চেয়ে নির্লজ্জ আর কোন মন্তব্য হতে পারে না। উনার মনে হয় বিচার বিভাগ সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই। মনজিল মোরসেদ বলেন, স্পিকার বলেছেন আইনমন্ত্রী সংসদে থাকলে তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আইনমন্ত্রীকে বলতেন। এসময় হাইকোর্ট সরকারি আইন কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কি আইনমন্ত্রী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত? সুপ্রিম কোর্ট কোন মন্ত্রী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। তিনি আইনমন্ত্রীকে বলবেন, আর আইনমন্ত্রী আমাদের সাজা দিয়ে দেবেন? এসময় আলতাফ হোসেন বলেন, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। আদালত বলেন, স্পিকার তার অজ্ঞতা দেখিয়েছেন। ভবন জজ সাহেবদের জন্য নেয়া হয়নি। এটা জনগণের স্বার্থে করা হয়েছে। একজন স্পিকার এত অজ্ঞ হতে পারেন তা আমরা ভাবতে পারি না। এসময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী কেএম সাইফুদ্দিন বলেন, স্পিকার হয়তো সংবিধান পড়ে দেখেননি। হাইকোর্ট বলেন, আমি কোন হনু রে- এ ধরনের মন্তব্য কি স্পিকার করতে পারেন? এটা কি সংসদের ভাষা? স্পিকার সংসদের দায়মুক্তির সুযোগ নিয়ে যা খুশি তা করতে পারেন না। তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি আইন লঙ্ঘন করেছেন। এই বেঞ্চ সম্পর্কে সংসদে আগেও অনেক বাজে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু স্পিকার তা থামাননি। কারও অনুপস্থিতিতে তো কারও সম্পর্কে আলোচনা হতে পারে না। বিচারাধীন বিষয়েও সংসদে আলোচনা হতে পারে না। মনজিল মোরসেদ বলেন, স্পিকার বলেছেন, জনগণও সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারে, সংসদের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে পারে। হাইকোর্ট বলেন, ইন এ সেন্স এটাও রাষ্ট্রদ্রোহিতা। জনগণকে বিদ্রোহ করার জন্য উস্কানি দেয়া হয়েছে। আমরা কি আদেশ দিয়েছি তা সম্পর্কে না জেনেই সমালোচনা করা হয়েছে। হাইকোর্ট আইনজীবী কেএম সাইফুদ্দিনের কাছে জানতে চান-আমরা কি এ ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে পারি? আইনজীবী বলেন, আপনারা পারেন। ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিরতিতে যায় আদালত।
২টা ৫৫ মিনিটের দিকে আবার এ মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধান যেহেতু সংসদের কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দিয়েছে তাই আদালত স্পিকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করতে পারে না। তবে পুরো বিষয়ে আদালত একটি পর্যবেক্ষণ দিতে পারে। এরপর আদালত আইনজীবী আবদুল মতিন খসরুর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। হাইকোর্ট বলেন, মি. খসরু আপনিও তো আইনমন্ত্রী ছিলেন? আপনি কি সুপ্রিম কোর্টকে পরিচালনা করতেন? আপনি কি বিচারপতিদের ডাণ্ডাবেড়ি পড়াতেন?  এসময় এডভোকেট খসরু বলেন, কখনওই নয়। সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন। হাইকোর্ট বলেন, স্পিকারের বক্তব্য শুধু অজ্ঞতাই নয়, তার বক্তব্য অমার্জনীয়। খসরু বলেন, এ বিষয়ে এখানে থেমে যাওয়াই আমাদের সবার জন্য মঙ্গলজনক। এসময় হাইকোর্ট বলেন, স্পিকারই বিষয়টি শুরু করেছেন। আমাদেরকে তো জবাব দিতেই হবে। উনি জনগণকে বিদ্রোহ করার জন্য উস্কানি দিচ্ছেন। এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। খসরু বলেন, স্পিকার আবদুল হামিদ একজন আইনজীবী এবং অত্যন্ত সিনিয়র সংসদ সদস্য। তখন হাইকোর্ট বলেন, উনি তো বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। আইন অনুযায়ী তিনি কোন বিতর্কে অংশ নিতে পারেন না। আলোচনার সূত্রপাত তিনি করেছেন। আমরা তার বক্তব্যে হতবাক হয়েছি। দায়মুক্তির অপব্যবহার তিনি করতে পারেন না। তিনি জানেন, আমরা তাকে ডকে দাঁড় করাতে পারবো না। তিনি মারাত্মকভাবে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন। তার বক্তব্যে আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেছি। এসময় খসরু বলেন, স্পিকার সংসদের প্রতীক। হাইকোর্ট বলেন, ওই প্রতীক হতে হলে যোগ্যতা থাকতে হয়। পড়ালেখা জানতে হয়। তিনি বিচারাধীন বিষয়ে আলোচনায় শরিক হয়েছেন। এ পর্যায়ে শুনানিতে অংশ নেন ভারপ্রাপ্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ। বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং সংসদ। প্রত্যেক অংশকেই নিজ নিজ এখতিয়ারের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। হাইকোর্ট বলেন, উনি তো না জেনেই বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা যদি তৃতীয় শক্তি নিয়ে লেখার জন্য কাউকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে বলি তাহলে উনি তো (স্পিকার) আরও বড় ধরনের অপরাধ করেছেন। এরপর শুনানিতে অংশ নিয়ে এডভোকেট আনিসুল হক আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, মাই লর্ড আপনি (বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী) একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আপনার প্রতি আমার অনুরোধ এ নিয়ে আপনি অনেক বলেছেন, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে বিষয়টি এখানেই শেষ করে দিন। এরপর আদেশ দেয়া শুরু করে হাইকোর্ট। আদেশে বলা হয়, সংসদে আলোচনার বিষয়টি প্রায় সব সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন যা আদালতে বিচারাধীন। এটা খুবই দুঃখজনক, স্পিকার যিনি রাষ্ট্রের তিন নম্বর ব্যক্তি- তিনি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। রুলস অব পার্লামেন্ট অনুযায়ী কোন ধরনের বিতর্কে অংশ নেয়ার সুযোগ স্পিকারের নেই। তিনি কেবল সংসদ পরিচালনা করবেন। সারা বিশ্বের আইনে এটা প্রতিষ্ঠিত যে, বিচারাধীন বিষয়ে সংসদে কোন আলোচনা হতে পারে না। এসময় আনিসুল হক দাঁড়িয়ে বলেন, মাই লর্ড, আমি বুঝতে পারছি আপনার মনে অনেক কষ্ট। দয়া করে বিষয়টি এখানেই শেষ করে দিন। এরপর হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, ওই দিন যা হয়েছে তাতে আমরা অত্যন্ত হতাশ। এ পর্যায়ে বিকাল ৪টার দিকে আবারও বিরতিতে যায় আদালত। ১৫ মিনিট পর আবারও মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, আমরা এটা পরিষ্কার করতে চাই যে, রাষ্ট্রের অন্য দুইটি অর্গানের (অঙ্গ) মতো সুপ্রিম কোর্টও সাংবিধানিক অর্গান। সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন। আমরা কোন মন্ত্রীর দ্বারা পরিচালিত হই না। আমরা কেবল আমাদের বিবেক এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে দায়বদ্ধ। সরকারের কাছে বা কোন মন্ত্রীর কাছে আমরা দায়বদ্ধ নই। আমরা আমাদের স্বার্থে কোন আদেশ দেই না, আমরা যে আদেশ দেই তা জনগণের স্বার্থে। সুপ্রিম কোর্টের স্থানের সংকুলান জনগণের স্বার্থেই প্রয়োজন। কারণ স্থান সংকুলান না হলে নতুন বিচারপতি নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে না, মামলার জটও শেষ হবে না। আদেশে বলা হয়, আমরা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্বাধীনভাবে আমাদের দায়িত্ব পালন করবো। সরকারের কার্যক্রম প্যারালাইজড হবে এমন কিছু আমরা করবো না। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাজ সঠিকভাবে এগোবে বলে আমরা আশা করি। আমরা আশা করি, স্পিকার সুপ্রিম কোর্টের প্রতি মর্যাদা দেখাবেন। সাড়ে ৪টার দিকে আদেশ দেয়া শেষ করে আদালত। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। মূল মামলার শুনানি ৯ই জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
সংসদ রিপোর্টার জানান, তিন দিনের মধ্যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে বিচারপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংসদ। একই সঙ্গে তাকে সংসদ ও স্পিকারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সংসদে নিন্দা প্রস্তার আনার দাবি জানিয়েছেন এমপিরা। এদিকে ওই বিচারপতিকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত, ‘স্যাডিস্ট’, ‘মানুষকে অপমান করে মজা পান’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ জাতীয় সংসদের স্পিকারকে ‘অজ্ঞ, অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী’ ইত্যাদি মন্তব্য করায় গতকাল সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে মহাজোটের সিনিয়র নেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এ উত্তপ্ত আলোচনার সূত্রপাত হয়। আলোচনায় অংশ নেন তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাসদের মইনউদ্দিন খান বাদল ও জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু। এ সময় আরও কয়েকজন সিনিয়র সংসদ সদস্য বিষয়টির ওপর বক্তব্য দিতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি স্পিকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পদক্ষেপ নেবেন।  উল্লেখ্য, ২৯শে মে  জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্টের কাছে সড়ক ভবন হস্তান্তর করা নিয়ে স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদের কিছু মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে জনগণকে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলে স্পিকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল অপরাধ করেছেন বলে মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ রিটের শুনানি শেষে বলেছে, স্পিকারের এ অপরাধের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বারের একজন সদস্য হিসেবে বিচার বিভাগ সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করায় আইনজীবী হিসেবে স্পিকারের সনদ থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। পাশাপাশি হাইকোর্ট স্পিকারকে অজ্ঞ ও বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে তার না জেনে মন্তব্য করাকে ‘অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী’ বলে উল্লেখ করেন। ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে জাসদের মইনউদ্দিন খান বাদল প্রথমে বিষয়টি সম্পর্কে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে চাইলে বিধি উল্লেখ করতে না পারায় তাকে ফ্লোর না দিয়ে মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর বিরতি শেষে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বিধি উল্লেখ করে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে চাইলে উত্তপ্ত আলোচনার সূত্রপাত হয়। এ সময় এমপিরা টেবিল চাপড়ে বিচারপতির বিরুদ্ধে রাখা এমপিদের বক্তব্য সমর্থন দেন।
মামলা করার দাবি মেননের
হাইকোর্ট জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারে না। আদালতে স্পিকারের সম্পর্কে যে অভিযোগ তোলা এবং গ্রহণ করা তা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিচারপতি স্পিকারকে বলেছেন, তিনি (স্পিকার) রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল অপরাধ করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। এমনকি স্পিকারের সনদ থাকা উচিত কিনা তা নিয়েও মন্তব্য করেছেন বিচারপতি। তিনি বলেন, স্পিকার ওইদিন যা বলেছিলেন তা মোটেও বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে জনগণের রুখে দাঁড়াবার কথা ছিল না। তিনি (স্পিকার) শুধু বলেছিলেন কেউ যাতে তার সীমা অতিক্রম না করেন। সংসদও যদি সীমা অতিক্রম করে তাহলে জনগণ রুখে দাঁড়াবে। তেমনি আদালতও যদি সীমা অতিক্রম করে তাহলেও জনগণ একদিন রুখে দাঁড়াবে। হাইকোর্টের এমন মন্তব্য সংসদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এসেছে। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
ক্ষমা চাওয়ার দাবি শেখ সেলিমের
সরকার দলীয় এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম তার বক্তব্যে ওই বিচারপতিকে স্পিকারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, সংসদ সার্বভৌম। বিচার বিভাগ স্বাধীন হতে পারে। তবে সংসদের উপরে নয়। এটা সংসদের ওপর নগ্ন হামালা। তিনি বলেন, ওই বিচারপতি স্পিকারকে অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী বলে উল্লেখ করেছেন। সংবিধানে স্পষ্ট আছে, সংসদের কোন বিষয় নিয়ে আদালতে যাওয়া যাবে না। অথচ এক্ষেত্রে এটাই করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্পিকারকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলা মানে সংসদকে, এমপিদের, সরকারকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলা। তাহলে সবাই কি রাষ্ট্রদ্রোহী? তিনি বলেন, সংসদের হাতের চেয়ে কোর্টের হাত লম্বা নয়। কারও সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। শেখ সেলিম বলেন, আদালত কিভাবে সংসদ, স্পিকার, এমপিদের ওপর নগ্ন হামলা করলো? তিনি আরও বলেন, সংসদের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপের অধিকার বিচার বিভাগের নেই।
নিন্দা প্রস্তাবের দাবি তোফায়েলের
তোফায়ের আহমেদ ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদের কোন বিষয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। একজন বিচারপতি তিনি কি করে সংবিধান লঙ্ঘন করে বলতে পারলেন স্পিকার ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’। ওই বিচারপতি কি জাতীয় সংসদেরও উপরে? তিনি বলেন, স্পিকার আবদুল হামিদ ২৬ বছর বয়সে জাতীয় পরিষদ সদস্য হয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের জন্য একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। তার সম্পর্কে কিভাবে একজন বিচারপতি এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন? তিনি বলেন, এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি। তাকে আওয়ামী লীগের সময়ে বিচারপতি বানানো হয়েছিল। তিনি আজ সংসদকে অবমাননা করেছেন, যার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। আরেকজন মনজিল মোরশেদ আছেন (রিট আবেদনকারী) তার মনে হয় কোন কাজ নেই, তিনি খালি পত্রিকা পড়েন আর নানা বিষয়ে রিট করে ওই বিচারপতির কাছে যান। তার রিটের কারণে সচিব, অধ্যাপকসহ অনেক সম্মানিত ব্যক্তিকে হাইকোর্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমার মনে হয় এ বিচারপতি একজন স্যাডিস্ট, মানুষকে অপমান করে মজা পান। এ বিচারপতি এক ট্রাফিক পুলিশ স্যালুট দেয়নি বলে গাড়ি থেকে নেমে তাকে কান ধরে ওঠবস করিয়েছেন- এটা কি বিচারপতির কাজ? বিমানে তৃতীয় শ্রেণীর টিকিট কিনে বিজনেস ক্লাসের এক নম্বর সিটে বসতে গিয়েছিলেন। তাকে বসতে দেয়া হয়নি বলে বিমানের সংশ্লিষ্ট সকলকে আদালতে ডেকে এনে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন। এমনকি তাদের দিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ক্ষমা চেয়ে বিজ্ঞাপন দিতেও বাধ্য করিয়েছিলেন। কোন একদিন হয়তো তিনি সংসদ সদস্যদেরও এভাবে আদালতে দাঁড় করাতে চাইবেন। তিনি বলেন, একটি অঙ্গকে আরেকটি অঙ্গের সঙ্গে জড়িত করা উচিত নয়। সময় এসেছে সংবিধানে ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃপ্রবর্তন করার। এটা থাকলে ওই বিচাপতিকে ইমপিচ করতে পারতো জাতীয় সংসদ। আর কিছু না হলেও আজ সংসদে নিন্দা প্রস্তাব নিতেই হবে।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল গঠনের দাবি সুরঞ্জিতের
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ওই বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে বিচারপতি পদে তার আর থাকার কোন অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ১৯৭২-এর সংবিধানে রয়েছে জাতীয় সংসদ সার্বভৌম। আর স্পিকার সংসদের অভিভাবক। রাষ্ট্রপতির অবর্তমানে স্পিকারই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। যদি একজন রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংসদ ইমপিচ করতে পারে, তেমনি একজন বিচারপতিকেও ইমপিচ করার ক্ষমতা বাহাত্তরের সংবিধানে ছিল। প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আপনার একজন বিচারপতি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, স্পিকার সম্পর্কে অবমাননামূলক বক্তব্য রেখেছেন। এটা তার এখতিয়ার বহির্ভূত। এজন্য ওই বিচারপতি আর বিচারকের আসনে বসতে পারে না। চলে যাওয়া উচিত। অবিলম্বে এ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করুন। সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে তিনি প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,  প্রধান বিচারপতিকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ওই বিচারপতিকে সরানোর নির্দেশ দিন। জুডিশিয়াল কাউন্সিল যদি দায়িত্ব পালন করে ভাল, নইলে সংবিধান সংশোধন করে ইমপিচমেন্টের ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সংসদের পাঁচ মিনিট সময় লাগবে। আমরা অপেক্ষা করবো, তিনদিনের মধ্যে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেছেন কিনা। যদি তিনি তা না করেন তবে সংসদের সার্বভৌম রক্ষায় আমরা আমাদের ক্ষমতা (বাহাত্তরের সংবিধানে থাকা ৯৬ অনুচ্ছেদ) ফিরিয়ে আনবো। বিচারবিভাগ স্বাধীন হতে পারে, তবে তা সংসদের উপরে নয়। বিচার বিভাগের হাত এত লম্বা হয়ে যায়নি। আজ ওই বিচারপতি যা বলেছেন তা সংসদের ওপর নগ্ন হামলা। স্পিকারকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে ওই বিচারপতি জাতীয় সংসদ, সরকার এবং সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রদ্রোহী বলেছেন। এ ঘটনায় বিচার বিভাগের ক্ষমা চাওয়া উচিত। আদালতে বসেছেন যা খুশি তাই বলতে পারেন না। সংবিধানেই রয়েছে, সংসদের কার্যধারা এবং কোন কাজের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। এজন্য ওই বিচারপতি যা বলেছেন তা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। সংসদের ওপর হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা বিচার বিভাগের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনুদ্দিন খান বাদল বলেন, স্পিকার সংসদে রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান স্তম্ভের মধ্যে সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, কারও সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। কেউ মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে জনগণের প্রতিরোধের সম্মুখীন হবে। তিনি বলেন, ছাপানোর পর অস্বীকার করা আজ ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। স্পিকারকে ‘অজ্ঞ’, ‘অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী’ বলেও আদালত মন্তব্য করেছে। সর্ষের মধ্যে ভূত দেখা যাচ্ছে। সরকার যখন দেশকে সঠিক জায়গায় নেয়ার চেষ্টা করছে, তখন নানাভাবে বাধাসৃষ্টি করা হচ্ছে, নিত্যনতুন ইস্যু সৃষ্টি করা হচ্ছে।
উনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আজ প্রশ্ন উঠেছে বর্তমান জাতীয় সংসদ সার্বভৌম কিনা? স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ শুধু স্পিকারই নন, একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাতবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগ সরকারের দয়ায় কোন লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই ব্যারিস্টার শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বিচারপতি হয়েছেন। তিনি বিচারপতি হওয়ার যোগ্য নন। বিচারপতি হওয়ার পর তিনি কিছু রিটের ভিত্তিতে দেশের সম্মানিত ব্যক্তিকে কাঠগড়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে অপমান করেছেন। এ কারণে ওই বিচারপতি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত কিনা সে ব্যাপারেও আমি  সন্দিহান।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে