Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯ , ২ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (41 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০৪-২০১২

মিউটেশনের সঙ্গে বিবর্তনের সম্পর্ক নিবিড়

মিউটেশনের সঙ্গে বিবর্তনের সম্পর্ক নিবিড়
বিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন এ উভয় ধারণা সম্পর্কে অনেক লোক_ এমন কি এখনো কুৎসা বা অপপ্রচারের শিকার। আমাদের পূর্বপুরুষরা পৃথিবীতে জীবনের সৌষ্ঠবের দিকে দৃষ্টিপাত করেছিল, প্রাণ গঠনের কার্যক্রমের নৈপুণ্য দেখে অবাক হয়েছিল এবং একজন মহান কারিগর বা স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব করেছিল। সূক্ষ্মতম একটি পকেট ঘড়ি থেকেও সবচেয়ে সরল এককোষী প্রাণী অনেক বেশি জটিল। কিন্তু তবুও ধরি গ্রান্ড ফাদার ক্লক হতে কতগুলো পর্যায়ের মধ্য দিয়ে এ পকেট ঘড়ির উদ্ভব ঘটতে পারে না অথবা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেরাই একত্রিত হয়ে তৈরি হতে পারে না। একটি ঘড়ি ইঙ্গিত করে ঘড়ি প্রস্তুতকারকের। এমন কোনো দিকই গোচরীভূত হয়নি যার ভেতর পরমাণু ও অণুসমূহ কোনো উপায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে জড়ো হয়ে এমন আশ্চর্য জটিল ও সূক্ষ্ম কার্যকর মাহাত্ম্য নিয়ে প্রাণ গঠিত হতে পারে পৃথিবীর প্রত্যেক অঞ্চলে। প্রত্যেক জীবন্ত প্রাণী ছিল এমন বিশেষভাবে নকশা করা, যে একটি প্রজাতি অন্যটিতে রূপান্তরিত হয় না। চিহ্নগুলো ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের সীমাবদ্ধ ঐতিহাসিক সাক্ষ্য-প্রমাণ হতে আহরিত জ্ঞানের সঙ্গে নিখুঁতভাবে সঙ্গতিপূর্ণ। ধারণাটি হলো যে, মহান কারিগর বা স্রষ্টা কর্তৃক প্রত্যেক প্রাণী অতি সতর্কভাবে গঠিত হয়েছিল যা এমন একটি তাৎপর্য, প্রকৃতির প্রতি শৃঙ্খলা ও মানুষের প্রতি গুরুত্ব সরবরাহ করেছিল যা আমরা এখনো কামনা করি। একজন কারিগর বা স্রষ্টা হলো জৈবিক পৃথিবীর একটি প্রাকৃতিক, আবেদনপূর্ণ এবং একত্রে মানব জাতির ব্যাখ্যা। কিন্তু যেমন ডারউইন ও ওয়ালেস দেখিয়েছিলেন। আরেকটি উপায় আছে, যা সমানভাবে আবেদনপূর্ণ, সমানভাবে মানবিক এবং অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য: প্রাকৃতিক নির্বাচন, যা যুগে যুগে (ধবড়হ) জীবনগীতি আরো বাঙ্ময় করে তোলে। হতে পারে জীবাশ্ম সাক্ষ্য মহান কারিগর বা স্রষ্টার ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ; সম্ভবত কিছু প্রজাতিকে ধ্বংস করা হয় স্রষ্টা যাদের ওপর অসন্তষ্ট হন এবং উন্নততর নকশার ওপর নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু এই চিন্তাধারা হলো একটু হতাশাব্যঞ্জক। প্রত্যেক উদ্ভিদ ও প্রাণীকেই নিখুঁতভাবে তৈরি; শুরু থেকেই স্রষ্টার সামর্থ্য হওয়া কি উচিত নয় যে এ চরম উপযুক্ত অভীপ্সিত প্রজাতি তৈরির? ফসিল চিহ্ন শুদ্ধাশুদ্ধ (ঃৎরধষ ধহফ বৎৎড়ৎ) প্রক্রিয়ার এবং ভবিষ্যৎকে উপলব্ধি করার অক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়, একজন দক্ষ মহান স্রষ্টার ধারণার সঙ্গে এ ঘটনাগুলো অসঙ্গতিপূর্ণ। যদিও অধিক দূরবর্তী এবং পরোক্ষ অস্থির প্রকৃতির বা উত্তেজনাপ্রবণ একজন কারিগর বা স্রষ্টার সঙ্গে নয়। বিবর্তনের মূলমন্ত্রই হলো মৃত্যু ও সময়_ এটি হলো অসংখ্য প্রাণরূপের সেই মৃত্যু যারা পরিবেশের সঙ্গে অসম্পূর্ণরূপে অভিযোজিত হয়েছিল; আর এটি হলো সেই সময় যা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিব্যক্তির (মিউটেশনে) দীর্ঘ পর্যায়ক্রমের জন্য ব্যয়িত হয়েছে যেগুলো ঘটনাক্রমে অভিযোজিত হয়েছিল, যা উপযুক্ত মিউটিশনের বিন্যাসগুলোর পুঞ্জীভবনের জন্যও ব্যয়িত হয়েছে। ইয়নের চেয়ে অনেক ছোট যে সহস্রাব্দ তাকে বোঝার ক্ষেত্রে আমরা যে দুর্বোধ্যতার সম্মুখীন হই তার ফলেই কিছু পরিমাণ ডারউইন ও ওয়ালেসের মতবাদের বিরোধিতা গড়ে ওঠে। যে জীবের আয়ুষ্কাল ৭ কোটি বছরের এক নিযুতাংশ মাত্র তার কাছে এ সুদীর্ঘ সময়টি কীভাবে প্রতিভাত হয়? আমরা হলাম প্রজাপতির মতো যেটি একটি দিনকে মহাকাল ভেবে বসে আছে। এখানে এ পৃথিবীতে যা ঘটেছিল তা সম্ভবত অনেক গ্রহে প্রাণের বিবর্তনের সাধারণ ঘটনা হতে পারে। কিন্তু আমরা যদি প্রোটিন রসায়ন অথবা নিউরোলজি অফ ব্রেইনের মতো অনুপুঙ্খ ব্যাপারগুলো বিবেচনা করি তাহলে পৃথিবীর এ গল্পগুলো সব মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে অনন্য হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাস ও ধূলিকণা জমাট বেঁধে ৪ শত ৬০ কোটি বছর আগে এ পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা ফসিল রেকর্ড হতে জানি প্রাণের উৎপত্তি ঘটেছিল এর পরপরই, সম্ভবত প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে, আদিম পৃথিবীর জলাশয়ে অথবা মহাসাগরে। প্রথম জীবন এককোষী প্রাণের মতো এতটা জটিল অবস্থায় ছিল না। প্রথম স্পন্দন ছিল খুবই সরল ধরনের। ওই প্রাচীন দিনগুলোয়, সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি ও বিদ্যুৎ চমকানি সরল হাইড্রোজেন সমৃদ্ধ অণুগুলো ভেঙে পৃথক করেছিল আদিম আবহম-লে, সেই টুকরো অংশগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংযুক্ত বা মিলিত হয়ে আরো অধিক জটিল অণু তৈরি করল। এ আদিম রাসায়নিক উপাদানগুলো মহাসাগরে দ্রবীভূত হয়েছিল, ক্রমে জটিলতার দিকে অগ্রসর হওয়া এক প্রকারের জৈব স্যুপ তৈরি হচ্ছিল, যে পর্যন্ত না একদিন আকস্মিকভাবে, একটি অণু জৈব স্যুপের অন্যান্য অণুকে বিল্ডিং বস্নক হিসেবে ব্যবহার করে নিজের প্রতিরূপ তৈরিতে সামর্থ্য হয়েছিল স্থূলভাবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে