Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.7/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০২-২০১২

গ্রাহকদের অন্ধকারে রেখে তেলের ব্যয় সমন্বয়

গ্রাহকদের অন্ধকারে রেখে তেলের ব্যয় সমন্বয়
বছরের শুরুতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের চাহিদা জানানো হয়েছিল ৩৮ লাখ মেট্রিক টন। সেই একই সংস্থা বছর শেষে এসে বলছে তাদের ১৯ লাখ মেট্রিক টন তেল দরকার। হঠাৎ করে চাহিদা অর্ধেকে নেমে আসার পেছনের কারণ হলো পিডিবি জ্বালানি খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আর এ কারণে তারা তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি আরো বাড়ছে এবং সারাদেশের গ্রাহকদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের ৬৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে দিনে ৩৬টি আর সন্ধ্যায় ২৩টি বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে কেন্দ্র থাকলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে না। আবার সেচ মৌসুম শেষেও দুর্ভোগ কমছে না। পিডিবির হিসাবে, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৮ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এর মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন জ্বালানি সঙ্কটের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ৩৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার অনেক ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। পিডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে তাতে জ্বালানির খরচ অনেক বেশি। বিশ্ব বাজারে দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার তাদের জ্বালানি সরবরাহ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। তবে সরকার খরচ বাঁচাতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখলেও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে পিডিবিকে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকলেও মালিকরা লাভজনক অবস্থায় আছেন। আর গ্রাহকদের শুরু থেকেই এর খেসারত গুনতে হচ্ছে। কেননা ইতোপূর্বে তেলচালিত কেন্দ্রগুলোর কারণে কয়েক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশের বাজারে সর্বশেষ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরেও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। এ অবস্থায় গ্রাহকদের অন্ধকারে রেখে ব্যয় সমন্বয়ের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুরু থেকেই সরকারের পদক্ষেপ ভুল ছিল। সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে গুটি কয়েক ব্যবসায়ী বারবার লাভবান হচ্ছেন। এ ব্যাপারে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সব সময় স্থিতিশীল থাকবে এমন নিশ্চয়তা সরকারকে কে দিয়েছিল। কাদের পরামর্শে একসঙ্গে এতগুলো তেলভিত্তিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হলো। সরকার বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টাই করেনি। একের পর এক বিনা টেন্ডারে তেলভিত্তিক কেন্দ্র নির্মাণ করে গোটা অর্থনীতিকেই বিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। এখন কেন্দ্র থাকলেও গ্রাহকরা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। কিন্তু দাম ঠিকই পরিশোধ করতে হচ্ছে। তাহলে এসব কেন্দ্র নির্মাণ করে কার লাভ হলো- তা খুঁজে দেখার সময় এসেছে। পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতউল্লাহ বলেন, বিগত ১০ বছরের তেলের বাজার দেখলে বোঝা যায় তেলের দাম বাড়বেই। এখন এসে যদি কেউ বলেন, তারা বুঝতে না পেরে কেন্দ্র নির্মাণ করছেন তা মেনে নেয়া যায় না। এদিকে যেসব কেন্দ্র চালু রাখা হচ্ছে তা থেকেও কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে না। সরকারি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বয়সের ভারে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে, একই অবস্থায় ঠেকেছে দুই বছর আগে স্থাপিত বেসরকারি ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও। অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রগুলোয় পুরনো যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হয়েছিল। পিডিবির হিসাবে, সারাদেশে বর্তমানে ৯০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘাটতি এত কম হলে এমন ভয়াবহ লোডশেডিং হওয়ার কথা ছিল না। এক্ষেত্রে হয় উৎপাদন কিংবা চাহিদা নিয়ে লুকোচুরি খেলা হচ্ছে। বেসরকারি হিসাবে, দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ৭ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে দিনে ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট আর সন্ধ্যায় সরবরাহ করা হয় ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। বিশাল এ ঘাটতির কারণেই দেশজুড়ে লোডশেডিং অব্যাহত আছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে