Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০২-২০১২

সংলাপ বহুদূর : বিএনপির ভাবনা কঠোর আন্দোলন

সংলাপ বহুদূর : বিএনপির ভাবনা কঠোর আন্দোলন
আমেরিকা, ভারত ও বৃটেনসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহলের অনুরোধ সত্ত্বেও সরকারের অনঢ় অবস্থানের কারণে সংলাপ প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আলোচনার জন্য শতভাগ প্রস্তুতির কথা জানালেও এখন কোনো ফাঁদে পা দিতে রাজি নয় প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। সংলাপের অজুহাতে সরকার তাদের ফাঁদে ফেলতে চাচ্ছে এমন বিবেচনায় এক দফার কঠোর আন্দোলনের কথাই ভাবছে বিএনপি। তবে বাদসাধছে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থা। এরপরও দলের অস্তিত্বের স্বার্থে বাধ্য হয়েই আগামী ১১ জুন আন্দোলনের নতুন ঘোষণা করবে তারা। নির্দলীয় সরকার নিয়ে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলেও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার কাছ থেকে এখনো এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি। উল্টো তাদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার অবস্থান থেকে এখনো একটুও সরে আসেনি আওয়ামী লীগ। এদিকে সরকারের এ ধরনের অনঢ় অবস্থানের মধ্যেই ১১ জুন রাজধানীতে সমাবেশ সফল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। বিএনপির পক্ষ থেকে বিশাল সমাবেশ করার কথা বলা হলেও ১১ জুনের সমাবেশে বাধা দেয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত ১২ মার্চের সমাবেশে সরকার নানামুখী বাধা দিলেও ১১ জুনের সমাবেশ সফল হবে এবং সরকারের কোনো বাধায় কাজ হবে না। সূত্রমতে, বিএনপি বিশাল সমাবেশ করার কথা বললেও দলটির অভ্যন্তরীণ চিত্র কিন্তু ভিন্ন। সমাবেশের আর মাত্র ৯ দিন বাকি আছে। এখনো ভেন্যু ঠিক করতে পারেনি দলটি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছাড়া আর কোথাও সরকার সমাবেশ করতে দেবে না এমনটি ভেবে নেতারা ভেন্যু হিসেবে নয়াপল্টনকে ধরে কাজ করছেন। এদিকে শীর্ষ নেতারা কারাগারে যাওয়ায় কর্মীদের মনোবল ভেঙে গেছে। গুটিকয়েক নেতা শীর্ষ নেতাদের অভাব পূরণের চেষ্টা করছেন। কিন্তু কর্মীরা তাদের খুব একটা আস্থায় নিচ্ছেন না। সবচেয়ে বড় বিষয় সমাবেশ হবে ঢাকায়। আর এই মহানগরের রাজনীতি চলে দু-একজন নেতার ইশারায়। আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা কারাগারে থাকায় কেউ কারো কথা শুনছে না। সদস্য সচিব আব্দুস সালামকে পাত্তা দিচ্ছে না যুগ্ম আহ্বায়করা। তারা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত। এক সপ্তাহ ফোন করেও যুগ্ম আহ্বায়কদের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে পারছেন না সদস্য সচিব। সূত্রমতে, সাংগঠনিক দুর্বলতার মধ্যেও ১১ জুন সাদামাটা করে হলেও সমাবেশ করার জন্য কাজ করতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির হাইকমান্ড। মহাসমাবেশ বলে প্রচারণা না চালিয়ে ঢাকায় সমাবেশ হবে এমন ঘোষণা দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তারা মহাসমাবেশ ডাকেননি। এটা সমাবেশ। আয়োজনও সে রকম। 'সরকারের দেয়া কষ্টে জর্জরিত হয়ে আছে দেশের মানুষ। তারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুখে কিছু সান্ত্বনার কথা ও সমাধানের পথ পেতে সমাবেশে জড়ো হবেন বলে নিশ্চিতভাবেই জানেন। লোক সমাগম নিয়ে মাথা ঘামানো বা জমায়েত বাড়াতে বাড়তি উদ্যোগ নিতে বিএনপি মরিয়া নয়' দাবি করে নজরুল বলেন, 'উপস্থিতি দিয়েই শুধু নয়, সারাদেশের মানুষ মন থেকে এই সমাবেশের অংশ হয়ে থাকবে।' এর আগে খালেদা জিয়ার প্রতিটি কর্মসূচিতে জনগণের সাবলিল অংশগ্রহণ পেয়েছেন। এমনিতেই জনতা তাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। এর আগে ১১ জুন সমাবেশ না করে সংলাপের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু সরকারের একপেশে মনোভাবের কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। এজন্য প্রস্তুতির অভাব সত্ত্বেও বাধ্য হয়েই আন্দোলনে যেতে হচ্ছে। তাদের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান সরকার নির্বাচনে নির্দলীয় 'তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা' বাতিল করে দেয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা চলছে। রাজনৈতিক এই অনিশ্চয়তা নিরসনে সম্প্রতি সংলাপ কিংবা আলোচনার কথা বেশ গুরুত্বসহকারে উঠে এসেছে। বিশেষ করে গত ৫ মে আমেরিকান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপের ওপর জোর দেন। পরে ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জিও একই কথা বলেন। সংলাপে বসতে কূটনৈতিক চাপও রয়েছে। দেশের ভেতরে সুশীল সমাজও চাচ্ছে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান। অন্যদিকে বিরোধীদল বিএনপি নির্দলীয় সরকার ছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা মেনে নেবে না বলে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। তারা বলেছে, নির্দলীয় সরকার প্রশ্নে সরকারের কোনো ঘোষণা ছাড়া বিএনপি আলোচনায় অংশ নেবে না। এ দাবিতে সরকারকে দেয়া তিনমাসের আল্টিমেটাম শেষ হচ্ছে আগামী ১০ জুন। এরপর 'একদফা' দাবি নিয়ে এগুনোর বিষয়কেই বিএনপি এখন গুরুত্ব দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে বিরোধীদলকেই তাদের প্রস্তাব তুলে ধরার যে আহ্বান জানানো হয়েছিল, তাও প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। এ ব্যাপারে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, নির্দলীয় সরকারের কোনো প্রস্তাব বা রূপরেখা তারা দেবেন না। আলোচনার ব্যাপারে বিএনপি নিজেরা উদ্যোগী হয়েও কোনো পদক্ষেপ নেবে না। সরকার নির্দলীয় সরকার দাবি না মানলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাবে। যে নামেই হোক নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট এ বিষয়ে সংলাপে অংশ নেবে। অন্যথায় সংলাপের দরজা খুলবে না। অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ অবস্থায় সদ্য কারামুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেছেন, বিএনপি কোনো বিকল্প প্রস্তাব দেবে না। বরং সরকারকেই সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প প্রস্তাব উত্থাপন করতে হবে। তবে নির্দলীয় সরকার ছাড়া আগামীতে কোনো নির্বাচন হবে না।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে