Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ , ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০১-২০১২

দুই দলের বাইরে নতুন ধারার রাজনীতি সৃষ্টির সময় এসেছে

দুই দলের বাইরে নতুন ধারার রাজনীতি সৃষ্টির সময় এসেছে
ঢাকা, ১ জুন- দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দুই নেত্রীর সংলাপে বসা প্রয়োজন। তা না করলে এ দুই দলের বাইরে নতুন ধারার রাজনীতি সৃষ্টির সময় এসেছে বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজ।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক নাগরিক সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন। সমাবেশে নাগরিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মাঠে কাজ করার জন্য ‘নাগরিক ঐক্য’ নামে একটি সংগঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিশিষ্ট আইনজীবী রফিক-উল হক বলেন, ‘আমরা ভীষণ রাজনৈতিক সংকটে আছি। এ সংকটের সমাধানে দুই ভদ্রমহিলার (শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া) সংলাপ দরকার। মান্না এর উদ্যোগ নিলে আমরা কৃতজ্ঞ হতাম, কিন্তু সেটা মনে হয় সম্ভব নয়।’
রফিক-উল হক বলেন, গ্রামের লোকদের গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, তাঁরা বলছেন দুই নেত্রীর কাউকেই চাই না। মানুষ চায় সৎ লোক, যাঁর গায়ে কোনো গন্ধ নেই। এ সময়ে এমন লোককে নির্বাচিত করতে পারলে দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। না হয় পরিস্থিতি আরও নিচের দিকে নামবে। তিনি বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কীভাবে হবে, এটাই এখন মারাত্মক সমস্যা। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। বেশির ভাগ লোক চায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেদিন বললেন, নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তী সরকার হবে। তা হবে তাঁর সরকারের অধীনে।
সভাপতির বক্তব্যে ‘নাগরিক আন্দোলন’-এর মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ওনারা দুজন বসবেন, যদি নিজেদের স্বার্থে মিলে, বাইরে থেকে ভীষণ চাপ পড়ে, না হয় আমরা যদি চাপ দিতে পারি।’ তিনি রফিক-উল হককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘দুই নেত্রীকে বসাতে যদি আপনি আমরণ অনশন করেন, আর সে অনশনে যদি ৫০ লাখ লোক আনতে পারেন; তাহলে তাঁরা দৌঁড়ে আপনার কাছে আসবেন।’
মান্না বলেন, কেবল গ্রামের মানুষ নয়, ঢাকা শহরের মানুষও দুই নেত্রীর কার্যকলাপে বিরক্ত। কিন্তু যখনই রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির কথা হয়, তখনই বলা হয় ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আজ এখানে যাঁরা আছেন, তাঁরা রাষ্ট্রক্ষমতা চান না। কোথাও অন্যায় হলে তাঁরা প্রতিবাদ করেন। তিনি জানান, ‘নাগরিক আন্দোলন’ বুদ্ধিভিত্তিক, আর ‘নাগরিক ঐক্য’ ময়দানে লড়াই-সংগ্রাম করবে। শিগিগর এর কমিটি ঘোষণা করা হবে।
ড. শাহদীন মালিক বলেন, এ দেশের যেসব সমস্যা আছে, নিয়ত ঠিক থাকলে তা তিন বছরেই সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু রাত ১২টার সময় কীভাবে ক্যাশ টাকা নিয়ে যাওয়া যাবে, এ রকম চিন্তা থাকলে তো দেশের পরিবর্তন হবে না। আর এ বয়সে বদলানোও যায় না। মনে হয়, নতুন ধারার রাজনীতির সময় এসেছে। নাগরিক শক্তিকে দেশ বাঁচানোর জন্য রাজনৈতিক শক্তি গ্রহণ করতে হবে।
অধ্যাপক পিয়াস করিম বলেন, মূল ধারার রাজনীতি এখন ব্যক্তির নেতৃত্ব ও পারিবারিক দ্বন্দ্বে পর্যবসিত হয়েছে। এ সময়ে গুণগতভাবে তৃতীয় ধারার রাজনীতি ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষ বলে দেশকে কৃত্রিমভাবে ভাগ করা হয়। অথচ, স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনষ্ট করেছে সব কটি দল। এ বিভক্তির পেছনে খারাপ রাজনীতি আছে। আর তা হচ্ছে, যাতে অনুৎপাদনশীল রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে সামনে আনা যায়।
সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা হামদে রাব্বী। আরও বক্তব্য দেন বামপন্থী রাজনীতিক আবদুল্লাহ সরকার, আইনজীবী তুহিন মালিক প্রমুখ।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে