Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (22 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-০১-২০১২

এএইচআরসি’র প্রতিবেদন: বাংলাদেশে নির্যাতন এক সরকারি দায়িত্ব

এএইচআরসি’র প্রতিবেদন: বাংলাদেশে নির্যাতন এক সরকারি দায়িত্ব
বর্তমান আইনি ব্যবস্থায় বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্যাতন এড়ানো সম্ভব নয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যে কারও বিরুদ্ধে তাদের সরকারি দায়িত্ব হিসেবে নির্যাতনকে ব্যবহার করে থাকে। সমপ্রতি তাদের হাতে যেসব নির্যাতন হয়েছে তাতে মন্ত্রীর সম্মতি আছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নির্যাতন চালানো বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়ে এমন সমালোচনা করে হংকংভিত্তিক এশিয়ান মানবাধিকার কমিশন (এএইচআরসি) ৩০শে মে এক রিপোর্টে এসব কথা বলেছে। এর শিরোনাম- ‘বাংলাদেশ: মিনিস্টার এন্ডোর্সেস টর্চার’। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ‘নিরাপদ দূরত্বে’ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ৩০শে মে বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে। তিনি বলেছেন, আমি সাংবাদিক বন্ধুদের বলবো যে- তারা যখন সংবাদ সংগ্রহ করেন বা ছবি তোলেন তখন তারা যেন নিরাপদ দূরত্বে থাকেন। আমি আশা করবো, আপনারা তা মেনে নেবেন। ২৯শে মে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তিনি এক সভায় এ কথা বলেন। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, এতে বোঝাই যায় ‘প্রথম আলো’র যে তিন সাংবাদিক পুলিশের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন সে প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। ২৬শে মে আগারগাঁওয়ে পুলিশের নির্যাতনে ওই সাংবাদিকদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মচকে বা ভেঙে গেছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ওই মন্তব্যকে বিপজ্জনক বলে মনে হচ্ছে। এর কারণ তিনি নির্যাতনকারী পুলিশের অভ্যাস বদলানোর কথা না বলে সাংবাদিকদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলছেন। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, তিনি কি বলছেন তা তিনি নিজেই বুঝতে পারছেন না। তার কথায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের মানসিক অবস্থার প্রকাশ পেয়েছে। এখন জনগণ প্রশ্ন করতেই পারে যে, দেশে ভয়াবহ রকমে নির্যাতন চলছে। এমন অবস্থায় কত লাখ মানুষ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবে? এতে আরও বলা হয়, মন্ত্রীর মন্তব্য যে ভুল তা ওই দিনই পুলিশ প্রমাণ করে দিয়েছে। মন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রক। তিনি যেদিন সকালে সাংবাদিকদের ওই পরামর্শ দিলেন সেদিনেই তিন সাংবাদিকের একটি দল, দু’জন আইনজীবী ও একটি পরিবারের দু’জন নারী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট চত্বরে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ কেন সাংবাদিক ও আইনজীবীদের নির্যাতন করেছে? এর জবাব হলো, মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সাংবাদিকরা এক কিশোরীর কথা শুনছিলেন। ওই কিশোরী পুলিশ ক্লাবে পুলিশ কর্তৃক শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন এবং তার মা-বাবাকে সিএমএম আদালত এলাকায় নির্যাতন করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, পুলিশ চায়নি সাংবাদিকরা ওই শ্লীলতাহানি এবং ওই কিশোরীর মা-বাবাকে নির্যাতন করার কথা শুনুক। এ কারণেই তারা সাংবাদিকদের পিটিয়েছে! ওই কিশোরী ও তার মা-বাবাকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্ক করলে ওই আইনজীবীকেও প্রকাশ্যে নির্যাতন করা হয়। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ইসলামী জঙ্গি গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কল্পিত অভিযোগ এনে মামলা করারও হুমকি দেয়। অবশ্য একটি মানবাধিকার গ্রুপ এবং ঢাকা বার এসোসিয়েশনের এক আইনজীবীর হস্তক্ষেপে তাদের মুক্তি দেয়া হয়। বর্তমান আইন প্রয়োগ ব্যবস্থায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর এজেন্টদের হাতে নির্যাতন এড়ানো সম্ভব নয়। নির্যাতনও এই দেশটিতে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ নয়। এখানে প্রতিটি ক্ষমতাসীন সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্থা এবং তাদের ভাড়াটে মাস্তানদের দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নির্যাতন চালানো বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যে কারও বিরুদ্ধে নির্যাতন চালানো তাদের ‘সরকারি’ কাজে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে যেখানেই রাষ্ট্রীয় কোন সংস্থার কোন সদস্যের উপস্থিতি থাকবে, সেখানেই কারও নির্যাতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নির্যাতনের মাত্রা ও প্রবণতা এত বেড়ে গেছে যে, কেউ কোথাও নির্যাতন থেকে নিরাপদ নয়। এতে আরও বলা হয়, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২৯শে মে সাংবাদিকদের সভায় কৌতুক করে না থাকলে তার এবং মন্ত্রিসভায় তার সহকর্মীদের উচিত হবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্যাতন করা থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত কৌশল প্রণয়ন করা। সরকার যদি দেশে নির্যাতন চালানোর সংস্কৃতি বন্ধ করতে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে তবে তার উচিত অবিলম্বে ‘নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু বিল ২০১১’ পাস করা, যা সংসদীয় কমিটিতে সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। সরকারকে অবশ্যই রাজনৈতিক, সামাজিক বা ধর্মীয় পরিচিতি নির্বিশেষে যেখানেই যে-ই নির্যাতিত হোক না কেন, তার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘নির্যাতনের প্রতি জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়ন করতে হবে, কোন সংস্থার কোন নির্যাতনকারীকেই কোন ধরনের দায়মুক্তি দেয়া যাবে না। সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে ফৌজদারি তদন্ত ব্যবস্থা, প্রসিকিউশন ব্যবস্থা এবং বিশ্বাসযোগ্য ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থাসহ দেশের ফৌজদারি বিচার প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার প্রয়োজন। বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে কার্যকর ‘সাক্ষী সুরক্ষা ব্যবস্থা’ও বলবৎ প্রয়োজন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে