Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-০১-২০১২

সাহারার বিরুদ্ধে ব্লাকমেইলিংয়ের অভিযোগ ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে

সাহারার বিরুদ্ধে ব্লাকমেইলিংয়ের অভিযোগ ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে
হঠাৎ করেই  যে সাহারা পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে হৈচৈ চলছে, তার প্রধান সুব্রত রায়ের নৈতিকতাকে ইতিমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্নীতি তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডাইরেকটোরেট তাঁর বিরুদ্ধে ‘ব্লাকমেইলিং’য়ের নির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে।
উল্লেখ্য, তিস্তাসহ অন্যান্য ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক যখন কিছুতেই গতি পাচ্ছিল না, তখন চারদিকে একটা সাজ সাজ রব উঠলো। সাহারা, সাহারা। তার সঙ্গে একটি নাম সুব্রত রায়। সম্প্রতি তাঁর ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মিডিয়া তার ওপর প্রায় ২৪ ঘন্টা ধরেই একটা সার্চলাইট ফেলে রেখেছিল। এর ফলে তাঁর একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তিই সাধারণ মানুষের সামনে আপাতত ফুটে উঠেছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, সুব্রত রায়ের ব্যবসায়গত নৈতিকতা যথেষ্ট জোরালোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে তার সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতের খোদ সুপ্রিমকোর্টের একটি বেঞ্চ। বিষয়টি একেবারে হাতেনাতে ধরে ফেলার মতো।
বাংলাদেশের মানুষ এতদিন সাহারা মরুভূমির সঙ্গে কমবেশি পরিচিত ছিল। কিন্তু আচানক বাংলাদেশের বিদেশী বিনিয়োগের এক নতুন রাজকুমার হিসেবে আবির্ভুত হলেন সাহারা পরিবারের প্রাণপুরুষ সুব্রত রায়। তিনি দুলকি চালে ঘোড়া ছুটিয়ে দিল্লি থেকে ঢাকা পৌঁছলেন। বাংলাদেশ তাঁর মায়ের দেশ।
সুব্রত রায়ের নামডাক গোটা ভারতবর্ষ তো বটেই, আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি মশহুর। ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি সাময়িকী ‘ইন্ডিয়া টুডে’র মতে, ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ১০ জনের অন্যতম নাম সাহারা রায়। থাকেন উত্তরপ্রদেশের বনেদি শহর লক্ষ্নৌতে। ১৯৭৮ সালে তিনি সাহারা পরিবার প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৪ সালে টাইম ম্যাগাজিন বলেছিল, সাহারা পরিবারের স্থান ভারতের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বৃহত্তম সংস্থা রেলের পরেই। অনলাইন উইকিপিডিয়ার মতে ২০১১ সালের মার্চে সাহারার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে যে কেলেংকারি সবচেয়ে বেশি তোলপাড় সৃষ্টি করে তার অন্যতম হলো টু জি কেলেংকারি।
ভারতে তখন যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী হলেন এ রাজা। ২০০৮ সালে তিনি মোবাইল কোম্পানির নামে ১২২টি লাইসেন্স ইস্যু করেন। এগুলো ছিল টুজি। টুজি মানে সেকেন্ড জেনারেশন ওয়্যারলেস টেলিফোন টেকনোলজি। অভিযোগ ছিল, মন্ত্রী, যোগাযোগ সচিব ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের রাঘব বোয়ালরা মিলে জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সরকারের ঘরে যে পরিমাণ চার্জ আসার কথা ছিল তার চেয়ে অনেক কমিয়ে ধরে ওই মোবাইল কোম্পানিগুলোকে লাভবান করা হয়েছে। গ্রাহকদের  সেল ফোনের রেট নির্ধারণে তারা এর ফলে অবৈধ সুবিধা ভোগ করে। আইন অনুযায়ী যে পরিমাণ অর্থ রাষ্ট্রের কোষাগারে আসার কথা ছিল এবং যা জমা পড়েছে তার মধ্যে ব্যবধান হলো- ৩৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার বা এক লাখ ৭৬ হাজার ৬৪৫ কোটি রুপি। ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দিয়েছে। গত বছরের ২ এপ্রিলে দেয়া সিবিআই-র অভিযোগপত্র বলেছে, সরকারের ক্ষতি প্রায় ৩১ হাজার কোটি রুপি। সারা ভারতে এ নিয়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি ২০১১ সালে টাইম ম্যাগাজিন ক্ষমতার অপব্যবহারের ১০ শীর্ষ ঘটনার অন্যতম। তারা  বলেছে, স্পর্শকাতর রাজনৈতিক কেলেংকারির বিবেচনায় এ ঘটনার স্থান ওয়াটারগেট কেলেংকারির পরেই।
জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এক মামলায় ভারতের সুপ্রিমকোর্ট ২রা ফেব্রুয়ারি ২০১২ এক রায়ে বলেছে, যেভাবে স্পেকট্রাম বিলি করা হয়েছিল তা অসাংবিধানিক ও আইনানুগ এখতিয়ার বহির্ভূত ছিল। মন্ত্রী রাজা যা করেছেন তা হলো জনগণের টাকা সরিয়ে কয়েকটি কোম্পানিকে ফায়দা দিয়েছিলেন। এসব অবৈধ সুবিধাভোগীদের মধ্যে সাহারা পরিবারের নামটিও চলে আসে।
টুজি কেলেংকারি মামলার পুরো তদন্ত ও অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চলেছিল ভারতের সুপ্রিমকোর্টের তদারকে। এটা যখন চলছিল তখন সাহারা পরিবার অভাবনীয় এক কাণ্ড ঘটায়, যা সুপ্রিমকোর্টকে অবাক করে দেয়। এই ঘটনা ভারতের দি হিন্দু , টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ সকল মিডিয়ায় ফলাও করে ছাপা  হয়।
৬ই মে ২০১১ ডেকান হেরাল্ড পত্রিকার শিরোনাম ছিল ‘সুপ্রিমকোর্ট সুব্রত রায়কে আদালত অবমাননার নোটিশে বিদ্ধ করেছেন’। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, টুজি কেলেংকারির তদন্তে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তাকে হুমকি প্রদানের ঘটনায় সুপ্রিমকোর্ট শুক্রবার সাহারা গু্রপের নির্বাহী প্রধান সুব্রত রায় ও অন্য দু’জনকে আদালত অবমাননার নোটিশ দিয়েছে। বিচারপতি জি এস সিংভি ও বিচারপতি একে গাঙ্গুলির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সাহারা নিউজ নেটওয়ার্কের একজন সাংবাদিকের তরফে সরকারের এনফোর্সমেন্ট অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে সুপ্রিমকোর্টকে জানান, সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পাই যে, সাহারা গ্রুপ সোয়ান টেলিকমকে ১৫০ কোটি রুপি দিয়েছিল। এটা ছিল ওই টুজি সংশ্লিষ্ট লেনদেনেরই অংশ।
সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার পরে সাহারা নিউজ নেটওয়ার্কের সাংবাদিক সুবোধ জৈন ওই তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তাঁর দুর্নীতির বিষয়ে ২৫টি প্রশ্নসংবলিত একটি চিঠি পাঠান। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাহারা নিউজের সম্পাদক ও অন্যতম পরিচালক উপেন্দ্র রয়। ওই চিঠিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সহকারি পরিচালক রাজেশ্বর সিংয়ের কথিত বিত্তবৈভবের উৎস চানতে চাওয়া হয়। বলা হয়, আপনি আপনার মেয়ের জন্মদিন পালনে এত টাকা যে খরচ করলেন, তা পেলেন কোথায়? ইত্যাদি। ওই তদন্তকারী  কর্মকর্তা এধরনের ২৫টি প্রশ্নেরই জবাব তৈরি করেন। এরপর তা সিলগালা করে সুপ্রিমকোর্টের ওই বেঞ্চে পেশ করে প্রতিকার প্রার্থনা করেন।
সুপ্রিমকোর্ট বেঞ্চ এই ঘটনাকে সুব্রত রায়ের দ্বারা তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার প্রয়াস বলে বর্ণনা করেন।  আদালত বলেন, আমরা আপাতদৃষ্টিতে সন্তুষ্ট যে, টুজি স্পেকট্রাম কেলেংকারি মামলার তদন্তে হস্তক্ষেপ করার একটি চেষ্টা হয়েছিল। আর সেটা করেছেন সুব্রত রায়ের নেতৃত্বাধীন সাহারা ইন্ডিয়া গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাহারা সময়ের দুই সাংবাদিক। এই মামলায় আদালত সতর্ক করে দেন যে, সাংবাদিকরা যদি ‘লক্ষণরেখা’ অতিক্রম করেন তাহলে তাদের ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি’( জেলের ভাত খাওয়া) না করে উপায় থাকবে না।
সুপ্রিমকোর্ট বেঞ্চ সুব্রত রায়ের ওপর আদেশ জারি করেছিলেন- ওই ২৫টি প্রশ্নের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজেশ্বর সিংয়ের বিষয়ে কোন ধরনের খবর প্রকাশ বা সাহারা টিভিতে তা না সম্প্রচার করতেও যেন তিনি নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, মানি লন্ডারিংয়ের আইনে সাহারার বিরুদ্ধে ওই মামলা হয়েছিল। রাজেশ্বর সিংয়ের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী কে.কে বেণুগোপাল সুপ্রিমকোর্টে নিবেদন রাখেন যে, সাহারা গ্রুপ প্রধান সুব্রত রায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নাজেহাল করতে যে কৌশলের আশ্রয় নেন তার উদ্দেশ্য অত্যন্ত খারাপ। তিনি তাঁকে আতংকিত, লাঞ্ছিত ও তদন্ত থেকে নিবৃত্ত করতে চেয়েছিলেন। সুব্রত রায়কে তাঁর বক্তব্য দিতে ২রা ফেব্রুয়ারি ও ৩০শে মার্চ ২০১১ দু’-দু’বার নোটিশ দেয়া হলেও তিনি তা অমান্য করেন। এরপরেই তিনি তাঁর রিপোর্টার দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে হেনস্থা করার উদ্যোগ নেন।                 
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মানুষকে বিরাট স্বপ্ন দেখাচ্ছে সাহারা। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষকে কম টাকায় মাথায় গোঁজার ঠাঁই করে দেয়ার কথাও তারা বলেছেন। তারা বানাবেন ‘নতুন ঢাকা।’ ভারতেও তারা অবশ্য এধরনের অনেক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে