Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ , ৬ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (28 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-৩০-২০১২

দাঁতের স্বাস্থ্যে সুষম খাদ্য

দাঁতের স্বাস্থ্যে সুষম খাদ্য

দাঁত সম্পর্কে মানুষের অনেক ধারণাই ভুল। হাসপাতালে অনেক রোগী, বিশেষ করে মহিলাদের বলতে শোনা যায়— ডাক্তারবাবু দাঁত কীভাবে সাদা দুধের মতো চকচকে করবো? শতকরা ৯৯শতাংশ মানুষ জানেন না দাঁতের রঙ কখনই সাদা হয় না। দাঁতের রঙ সামান্য হলুদাভ। আসলে এনামেলের স্বচ্ছ ছায়ার জন্য ওই রকম মনে হয়।

দাঁতের প্রাথমিক সুরক্ষা বজায় রাখতে দিনে দু’বার ব্রাশ করতে হবে। প্রথমে সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে খাবার শেষে, শোবার আগে। যে কোনো খাবারের পরেই ভালো করে কুলকুচি করা দরকার। যখন তখন খাবার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। তার মানে অত্যধিক নয়, একজন সুস্থ মানুষের দিনে যতটা পরিমাণ জল খাওয়া প্রয়োজন, ঠিক ততটাই। শর্করা জাতীয় খাবার বর্জন করে সুষম খাবার যতই খাওয়া যাবে দাঁতের স্বাস্থ্য ততই ভালো থাকবে।

চা, পান, বিড়ি, সিগারেট, নিকোটিন জাতীয় কিছুই খান না অথচ দাঁতে কালসিটে দাগ দেখা যায়। এর কারণ দু’রকম। অনেকের জন্ম থেকেই এই দাগ দেখা যায়। আবার জন্মের পরে এরকম হয়। পানীয় জলে আয়রণ বেশি অথবা রঙিন খাবার (যেমন কোল্ড ড্রিঙ্কস) থেকে কিংবা ভুল পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করলে এমন কালসিটে দাগ হয়।

দাঁত ব্রাশ করার বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম আছে। পদ্ধতিগত ত্রুটির জন্য দাঁতে কালো দাগ থেকেই যায়। আবার অনেকের দাঁত ছোট-বড় থাকে। কিংবা বাইরের দিকে ঠিকরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়, এ ধরনের দাঁতের ক্ষেত্রেও সমস্যা আছে। দাঁত ব্রাশ করার নিয়ম হলো নিচ থেকে ওপরে আবার ওপর থেকে নিচে। ধীরে ধীরে ব্রাশ করতে হবে। দাঁতের ভেতরে অর্থাৎ মুখের ভেতরের দাঁতও ঠিক একই পদ্ধতিতে ব্রাশ করতে হবে। গায়ের জোরে ব্রাশ করলেই দাঁতের ময়লা তাড়াতাড়ি পরিষ্কার হয় না। বরং মাড়ির ক্ষতি হতে পারে।

বহু মানুষের ধারণা দাঁতে পোকা জন্মায়। তাই দাঁত তুলে দিলে তা নির্মূল হয়ে যায়। দাঁতে কোনোদিন পোকা জন্মায় না। ওটা ক্ষয়রোগ। আমাদের শরীরের মধ্যে একমাত্র মুখগহ্বরেই সমস্ত রকমের জীবাণু শান্তিতে সহাবস্থান করে। আমরা যখন খাবার খাই তখন কিছু কিছু জীবাণু শর্করা জাতীয় খাবারের ওপর ক্রিয়া করে এক ধরনের অ্যাসিড তৈরি করে। দীর্ঘক্ষণ এই অ্যাসিড মুখে থাকলেই দাঁতের ক্ষয়রোগ হয়। আর সেটাকেই দাঁতের পোকা বলেন সাধারণ মানুষ।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মুখে দুর্গন্ধ হয়। অপরিচ্ছন্ন দাঁতই এর প্রধান কারণ। রাতে জলীয় অংশ বাষ্পীভূত হয়। অন্যান্য যৌগ দাঁতের গোড়ায় জমা থাকে। তা থেকেই এই দুর্গন্ধ হয়। সেজন্যই প্রত্যহ সকালে উঠে আগে দাঁত ব্রাশ করা দরকার। তবে দুর্গন্ধ দূর করার জন্য নয়, এতে সারাজীবন দাঁত নিরোগ রাখা সম্ভব।

আরও পড়ুন: কতদিন পর পর টুথব্রাশ বদলাবেন?

কিছু কিছু রোগী বলেন, জানেন— বেশ কয়েকদিন ধরে দাঁতের যন্ত্রণায় অস্থির হচ্ছিলাম, কচি পেয়ারা পাতা জলে ফুটিয়ে কুলকুচি করে কিছুটা রিলিফ পেয়েছি, দোকান থেকে ব্যথার ওষুধও খেয়েছি, এবার আর পারছি না। ঠিক কথা, ওভাবে রোগ নিরাময় হয় না। সাময়িক সুস্থ হওয়া যায়। আসলে গরম জল দাঁতে লাগলে এমনিতেই আরামবোধ হয়। দাঁতের ডাক্তারকে না দেখিয়ে ব্যথার ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক। কেন না, যদি কারোর আলসার থাকে তবে ব্যথার ওষুধ সেই মানুষের জীবনে বিপদ ডেকে আনবে। ডাক্তার দেখিয়ে কারণ খুঁজে ওষুধ খেতে হবে।

ক্ষয়ে যাওয়া (পোকা) দাঁত যখন তখন তোলা যায় না। উচিতও নয়। প্রতিটি দাঁতের নিজস্ব কাজ আছে। সামনে ওপরের ও নিচের মোট ৪টে দাঁতের কাজ হচ্ছে ‘কাটতে’ সাহায্য করা। বাকি ২৮টা দাঁত খাদ্যদ্রব্য চিবোনোর জন্য। কখনই কোনো কিছু খাবার পর কাঠি দিয়ে দাঁত খোঁচাবেন না। তাতে মাড়িতে ক্ষত হতে পারে। আর সেই ক্ষতই ভবিষ্যতে বিপদ ডেকে আনবে।

 

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে