Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ , ১৪ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (41 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-৩০-২০১২

মণিপুরের ইসমতের তুলকালাম কাণ্ড

মণিপুরের ইসমতের তুলকালাম কাণ্ড
ইম্ফল, ৩০ মে: সন্ত্রাসের জন্য তার রাজ্যের খ্যাতি। তার রাজ্য মানবাধিকার ভঙের মামলায় নজির গড়েছে। গত তিন বছরে তার রাজ্যে বছরের অর্ধেক দিন স্কুলে তালা ঝুলেছে। তার রাজ্য এখন ‘মূল ভূখণ্ড’ বনাম উত্তর-পূর্বের লড়াইয়ের সেনাপতি। কার্যত নেতিবাচক দিক থেকেই খ্যাত মণিপুর এই মুর্হূতে ভারতসভায় ‘শ্রেষ্ঠ আসন’ পাওয়ার কথা ভাবার অবস্থাতেই নেই।

আর এই অবস্থাতেই মণিপুরের প্রত্যন্ত এক সংখ্যালঘু গ্রামের ছেলে, স্রেফ হারিকেন ও মোমবাতি সম্বল করে গোটা দেশের সবাইকে একেবারে পিছনে ফেলে সামনের সারিতে বসল। মঙ্গলবার প্রকাশিত হওয়া সিবিএসই পরীক্ষায় ৯৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে গোটা দেশের মধ্যে প্রথম হয়ে এমন ‘অঘটনই’ ঘটিয়ে ফেলেছেন মুহাম্মদ ইসমত। বয়সটা গড়পড়তা উচ্চমাধ্যমিক ছাত্রছাত্রীদের চেয়ে অবশ্য বছর তিনেক বেশি, ২১।

হবে নাই বা কেন? থৌবাল জেলার লিলং হাওরেইবি গ্রামের বাসিন্দা বাবা মহম্মদ বশিরুর রহমানের নুন আনতে পান্তা ফুরোবার দশা। একে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। সেখানে বেতন পাওয়ার নির্দিষ্ট কোনও দিনক্ষণ নেই। তার উপর বন্ধের ঠেলায় বছরের অর্ধেক দিন স্কুল বন্ধই থাকে। বাড়িতে স্ত্রী, ছয় মেয়ে, এক ছেলে। এতজনের অন্ন সংস্থানের পরে ছেলেকে ভাল স্কুলে পড়ানোর ক্ষমতা তার ছিল না। তাই বারবার স্কুল বদলাতে হয়েছে। স্থানীয় স্কুলে পাঠ শুরু করা ইসমত পরে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণী অবধি পড়ে। ফের স্কুল বদলে ইম্ফল সৈনিক স্কুল। সেখান থেকে দশম শ্রেণীতে ৯৪.২ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করার পরে ইম্ফলেই আরও ভালো স্কুলে পড়ার ইচ্ছা ছিল ইসমতের।

ইসমতের কথায়, “কিন্তু, কিসমত্ সাথ দেয়নি। বাবার আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে ইচ্ছা পকেটে পুরে ফিরে আসতে হয়। অবশ্য পুরো হতাশ হতে হয়নি। আমার ফলাফল দেখে জেনিথ অ্যাকাডেমির পরিচালন সচিব এস এম সিংহ স্যার, আমায় বিনা পয়সায় পড়ার ব্যবস্থা করে দেন। স্কুল বাসের জন্যও আমার কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়নি।”

মেইতেই পাঙ্গাল বা মণিপুরি মুসলিম পরিবারের ছেলেটির এরপর জেদ চেপে যায়। তার কথায়, “আমার মধ্যে একটা অদ্ভুত জেদ কাজ করছিল। নিজেকে বোঝালাম আর্থিক ক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু মনের জোরে কিছু একটা করে দেখাতে হবে। যাতে বাবার লড়াই, স্কুলের সহায়তার দাম দিতে পারি।”

দাম দিয়েছেন বটে। অঙ্ক, রসায়ন, হোম সায়েন্স ও ফাইন আর্টস-এ পুরো একশোয় একশো। পদার্থবিদ্যায় ৯৭, ইংরেজিতে ৯৮। মোট ৫০০ নম্বরের মধ্যে ইসমতের দখলে ৪৯৫। মণিপুর তো দূরের কথা, গোটা উত্তর-পূর্বের কোনো ছাত্রছাত্রীই এর আগে এমন কৃতিত্ব দেখিয়ে দেশের পয়লা নম্বর হতে পারেনি।

ইসমতের কথায়, “ফল ভাল করব সেই আত্মবিশ্বাস ছিল। তবে প্রথম হয়ে মনে হচ্ছে স্বপ্নই দেখছি। আমার ফলাফল উত্তর-পূর্বে সেই সব মেধাবী ছাত্রকে উৎসর্গ করছি যারা একটু সাহায্য ও সহানুভূতি পেলেই এভাবে জ্বলে উঠতে পারবে।”

অবশ্য, স্বপ্ন দেখা থামছে না এখানেই। ইসমতের পরিকল্পনা, দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজে পড়াশোনা করবে। সেইসঙ্গে চলবে আইএএস পরীক্ষার প্রস্তুতি।

বাবা বশিরুর রহমান আপাতত আত্মহারা। অনটনের কথা চুলোয় যাক। আপাতত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, নেতা, পুলিশ সবাই যে তার ছেলেকে মাথায় তুলে নাচছেন, সম্বর্ধনায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন-এমন দিন দুচোখ ভরে দেখে নিতে চান বশিরুর।

তার কথায়, “আমার খুশির সীমা নেই। কত কষ্ট করেছি। কতবার মনে হয়েছে, আর হয়তো পারব না। তারপরেও ছেলের পড়া বন্ধ হতে দিইনি। আলোর অভাবে মোমবাতি জ্বেলেই পড়েছে ইসমত। এখন আমি আত্মবিশ্বাসী, ও একদিন গোটা সমাজের নেতা হয়ে উঠবে। রাজ্যের এমন হাজার হাজার দরিদ্র ছেলেমেয়ে ইসমতের জেদ আর অধ্যবসায়ের কথা জেনে অন্ধকারের মধ্যেও আলোর দিশা পাবে।”

মঙ্গলবার ইসমতের স্কুলেই তাকে সংবর্ধনা দেন শিক্ষামন্ত্রী এম ওকেন্দ্র সিংহ। ইসমতকে পাঁচ লাখ টাকা ও জেনিথ অ্যাকাডেমিকে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১০ লাখ টাকা দেন তিনি। সূত্র: ওয়েবসাইট।

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে