Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (30 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২৪-২০১২

কাশেমের এমপি প্রার্থিতা বাতিলের ধারা নিয়ে হাই কোর্টের রুল

কাশেমের এমপি প্রার্থিতা বাতিলের ধারা নিয়ে হাই কোর্টের রুল
ঢাকা, ২৪ মে: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের যে ধারায় টাঙ্গাইলের এমপি আবুল কাশেমের প্রার্থিতা বাতিল এবং বিএনপির মাহমুদুল হাসানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে- সেই ধারা কেন সংবিধান বহির্ভুত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট।
 
টাঙ্গাইল-৫ আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আবুল কাশেমের প্রার্থিতা বাতিল করে বিএনপির মাহমুদুল হাসানকে বিজয়ী ঘোষণার বিরুদ্ধে ২৫ ভোটারের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর হোসেনের দ্বৈতবেঞ্চ মঙ্গলবার এ রুল জারি করেন।
 
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর ৫১(২)(বি) কেন সংবিধান বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- ১২ দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং মাহমুদুল হাসানকে তা জানাতে বলেছে আদালত।
 
রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। তাকে সহায়তা করেন মোহাম্মদ বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আলতাফ হোসেন ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ইয়াদিয়া জামান।
 
ইয়াদিয়া জামান বলেন, এই রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাহমুদুলকে শপথ পড়ানো হবে না বলেও আদালত আশা প্রকাশ করেছেন।
 
মোহাম্মদ বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২’এর ওই ধারায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।”
 
তিনি বলেন, “টাঙ্গাইল-৫ আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আবুল কাশেমের প্রার্থিতা বাতিল এবং বিএনপির মাহমুদুল হাসানকে বিজয়ী ঘোষণা করে জারি করা প্রজ্ঞাপন কেন সংবিধান বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, আদালত সেই মর্মেও রুল জারি করেছেন।”
 
রিটে আমরা বলেছি, “সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হলে নির্বাচন কমিশন নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারে। যাতে ওই এলাকার মানুষ নতুন প্রতিনিধি বেছে নিতে পারে। কম ভোট পাওয়া কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করলে জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয় না। এর সংবিধানের ৭ ও ১১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
 
১২ দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং মাহমুদুল হাসানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
 
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী আবুল কাশেম লাঙল প্রতীকে এক লাখ ৪৭ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহমুদুল হাসান পান ৭২ হাজার ৮০৫ ভোট।
 
কাশেমকে ঋণখেলাপি দাবি করে নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে মাহমুদুল হাই কোর্টে রিট করেন। রিটে বলা হয়, জেলা রিটার্নিং অফিসার আবুল কাশেমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও সোনালী ব্যাংকে তার ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। ময়মনসিংহ টেলিফোন এক্সচেঞ্জে কাশেমের নামে ৩২ হাজার ১১০ টাকা ফোন বিল বাকি আছে।
 
২০০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর হাই কোটের্র নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এমপি আবুল কাশেমের প্রার্থিতা বাতিল করে মাহমুদুলকে বিজয়ী ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন।
 
কাশেম এর বিরুদ্ধে আপিল করলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তা খারিজ করে হাই কোর্টের আদেশ বহাল রাখে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ। আদেশের সাত দিনের মধ্যে মাহমুদুলকে বিজয়ী ঘোষণার কথাও বলা হয়।
 
গত ২৯ এপ্রিল ইসি আপিল বিভাগের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন গত ৭ মে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়ে পাঠিয়ে দেয়।
 
তবে আবুল কাশেম আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য একটি আবেদন (রিভিউ পিটিশন) করায় মাহমুদুলকে শপথ না দিয়ে এই আবেদনের আদেশ পর্যন্ত অপেক্ষার কথা বলেছিলেন স্পিকার।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে