Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২১-২০১২

‘ফকার নেতৃত্বে সাকার তত্ত্বাবধানে ছিলো আল-শামস’

জাকিয়া আহমেদ


‘ফকার নেতৃত্বে সাকার তত্ত্বাবধানে ছিলো আল-শামস’
ঢাকা, ২১ মে: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চট্টগ্রামে ফজলুল কাদের (ফকা) চৌধুরীর নেতৃত্বে ও তার ছেলে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে আল শামস বাহিনী পরিচালিত হতো বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এম সলিমুল্লাহ (৬৮)।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেওয়া জবানবন্দিতে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে তিনি এ দাবি করেন।

তার জবানবন্দির পর আসামি পক্ষ থেকে একটিমাত্র প্রশ্ন করে জেরা শুরু করা হয়। তবে আদালত আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

দুপুর ২টায় কিছু পর সাকার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন আল শামস বাহিনীর হাতে নির্যাতিত সলিমুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘আল শামস বাহিনীর সদস্য ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, সাকার ভাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রমুখ। সকাল ৯টা থেকে লাল জিপে করে তারা ঘুরে বেড়াতেন। সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ইত্যাদি স্থান ঘুরে তাদের সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বাধীনতাকামী মানুষ ধরে আনতেন। হিন্দুদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিতেন। নারীদের ধরিয়ে দিতেন। তাদের ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন চালাতেন। কাউকে কাউকে পাকিস্তান বাহিনীর হাতে তুলে দিতেন। অত্যাচারের পর কাউকে হত্যা করে কর্নফুলি নদীতে ফেলে দিতেন।’

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তথ্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের তারা ধরে আনতেন এবং ফজলুল কাদের চৌধুরী ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্যাতন সেলে বন্দি করে রাখতেন।’

সলিমুল্লাহ জানান, আল শামস তাকেও ধরে সাকা চৌধুরীর বাসভবন গুডসহিলে নিয়ে যায়। ধরে নিয়ে গিয়ে ফজলুল কাদের চৌধুরী অর্থাৎ সাকার বাবার বাড়ির গাড়ি বারান্দায় আটকে রাখে। এ সময় ওয়াহিদুল আলম উর্দুতে বলেন- শালা মালাউন কা, উসকো শির নিচু কর, পা উঁচু কর।

তখন সেখানে থাকা সিন্ধী পুলিশ পুঁতে রাখা বাশের সঙ্গে পা উপরের দিকে বেঁধে মাথা ঝুলিয়ে রেখে তাকে বেদম প্রহার করে।

নির্যাতনের বনর্ণা করতে গিয়ে এক পর্যায়ে তিনি বলেন, `ভেবেছিলাম আমি আর বাঁচবো না। তখন জীবনের সবকিছুর আশা ছেড়ে দিয়ে আমার ৪ মাসের শিশুকণ্যার কথা ভেবে (এ পর্যায়ে তিনি উচ্চস্বরে কেঁদে ওঠেন) আল্লাহর কাছে মোনাজাত করলাম, আমি মরে গেলে আমার কণ্যার হেফাজত যেন তিনি করেন।’

এ সময় তার কান্নার শব্দে ট্রাইব্যনাল ১ এর এজলাশ কক্ষের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।
এদিকে সলিমুল্লাহর সাক্ষ্য প্রদানের মাঝে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রধান আইনজীবী আহসানুল হকের সঙ্গে তার এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বেশ কয়েকবার বাদানুবাদ হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনাল ১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আপনার এমন কোন কথা বলবেন না, যাতে সাক্ষীর কথা বলতে অসুবিধা হয়।’

সাক্ষ্যের এক পর্যায়ে সলিমুল্লাহ বলেন, ‘আমি সত্য বলছি।’

এ সময় আহসানুল হক তাকে বলেন, ‘জেরা করলেই সব সত্য মিথ্যা বের হবে। আপনাকে বার বার সত্য বলছি বলার দরকার নেই।’

তখন সলিমুল্লাহ বলেন, ‘আমিতো বলবই, কারন এর সঙ্গে আমার ইমোশন (আবেগ) জড়িত।’

তখন আহসানুল হক তাকে বলেন, ‘এখানে ইমোশনের কোন জায়গা নেই। এর পর জেরা হবে।’

তখন রাষ্ট্রপক্ষ্যের কৌসুলি জেয়াদ আল মালুম দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমার সাক্ষীকে কোন ভয় দেখাবেন না।’
 
এ সময় আহসানুল হককে উদ্দেশ্য করে সাক্ষীর আসনে বসে থাকা সলিমুল্লাহ বলেন, ‘আমি যা বলছি, সত্য বলছি, আপনি তো সবই জানেন। আপনি বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে ওয়ার ক্রিমিনালদের (যুদ্ধাপরাধী) মামলা লড়ছেন।’  

এ সময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান সবাইকে থামিয়ে দিয়ে আহসানুল হকের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘উনিতো আসলে সাক্ষী দেওয়ার বিষয়ে অভ্যস্ত না, এগুলো বুঝে নিতে হবে।’

এ সময় আহসানুল হক বলেন, ‘উনি এক্সপার্ট, আমিতো উনাকে চিনি।’

এ সময় আবার নীরবেই কেঁদে চোখ মুছে সলিমুল্লাহ বলেন, ‘আমি যে বেঁচে আছি, এটা আল্লাহর দান।’

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে