Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (45 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১৮-২০১২

আত্মা, বৃক্ষ ও ড্রাইঅ্যাড হাসান জাহিদ


	আত্মা, বৃক্ষ ও ড্রাইঅ্যাড
	হাসান জাহিদ

পরপর তিনজনের অন্তর্ধানের পর এবাড়িতে যেমন লোকের আনাগোনা কমেছে, তেমনি বাড়িটাও যেন শামুকে পরিণত হয়েছে। স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার আবরণে দিনভর অলস পড়ে থাকে। নেহায়েত প্রয়োজনে খোলসের ঢাকনা খুলে উঁকি দেয়। পুরনো টেলিফোন সেট পিলে চমকে দিয়ে হঠাৎ হঠাৎ বেজে ওঠে। কে একজন বিরক্ত করে ওকে টেলিফোনে। ভালবাসার কথা বলে। গাড়িবাড়ির স্বপ্ন দেখায়।
ওর কক্ষের দেয়ালের চলটা খসে খসে পড়ছে। বেডরুমের দেয়ালে বহু বছর ধরে ঝুলতে থাকা ‘ইডেন উদ্যানে ইভ’ ছবিটা নোনা স্পর্শে ঝুর ঝুর করে ক্ষয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণের ঝুলন্ত বারান্দার ক্যাকটাস, ঝুলনো অর্কিড, টবের ল্যান্টানা, হাইব্রিড চায়না গোলাপ-পালাক্রমে সবাই মরতে বসেছে। রোড্স আইল্যান্ডের প্রাচীন উপাসনালয়ের মতো দেখতে এই ইমারতের একদিকের ঘরে দাদাভাই, ভাবি আর লুসিল থাকে। মাঝখানে বিশাল হল রুম। দক্ষিণ দিকের কামরাটায় থাকে ফ্লোরা। উত্তর দিকের বড়সড় একটা রুম শূন্য পড়ে আছে। দাদাভাই’র মেয়েটা জন্মানোর পর লুসিল নাম ফ্লোরাই রেখেছিল। সেসময় কেনি রজার্স-এর ‘লুসিল’ দারুণ নস্ট্যালজায় আবিষ্ট করে রেখে ছিল ওকে। রাজু তখন ঘনঘন আসত এ বাড়িতে- ঠিক যেন কেনি গাইতে গাইতে আসছে ঘুমপাড়ানি গান।              
স্বপ্নে আজকাল বৃক্ষেরা গা ঝাড়া দেয়। বাস্তবেও তেমন। তেমনি ঘুম জাগরণ বা ক্যাটালেপ্টিক স্তরেও বৃক্ষ অনুভূত হয়- সামান্য আগাছা থেকে বিশাল মহীরুহ- সব। স্বপ্ন কি বাস্তবের প্রতিফলন না বাস্তব স্বপ্নের ছায়া- সব গুলিয়ে যায়। কেউ যেন ফ্লোরা’র কানে ফুঁ দিয়ে বলে গেল: ‘ড্রাইঅ্যাড।’ শব্দটা অবিরত ঘুরছে মাথায়- ড্রাইঅ্যাড, ড্রাইঅ্যাড...। কিন্তু ড্রাইঅ্যাড কেন! সামান্য ঘেঞ্চুলিকা থেকে বিশাল অশথ- যে কোনো কিছু তো হতে পারত।
শেষদিকে খুব বাড়াবাড়ি গেছে বাবা’র। হাঁপানি ছিল তাঁর। আর সম্ভবত জন্মলগ্ন থেকে বাতজ্বর পুষে রেখেছিলেন মা। পরপর পাড়ি দেন তাঁরা। সে সময় রাজু আবির্ভূত হলো নিদাঘ দুপুরে শীতল হাওয়ার মতো। ওকে সতেজ রাখতে রাজু গাছ নিয়ে কবিতা লিখতে লিখতে একসময় বনেদি কবি বনে গেল। এমন বৃক্ষপ্রেমিক কবি কম দেখা যায়। কবিতার বই প্রকাশিত হলো তার। প্রথম বইটি ওকে উৎসর্গ করল এভাবে- প্রমদা ফ্লোরা’র জন্য। একটা ছত্র আজো দোলা দেয় ফ্লোরার মনে: ‘বনবীথিকার শরীর ঘেঁষে দোলে শর্ষেদল/নীল আকাশের বুক ছুঁয়ে যায় লাল পলাশের মল...’(ফাল্গুন)।
রাজুর সংস্রবের স্মৃতিগুলো ফিরে ফিরে আসে। গুমোট দেয়ালের আর্দ্র উভলিঙ্গী দুর্মক আবহে দম আটকে আসে। হিসেবনিকেশ করতে গেলে মনে হয় প্রাগৈতিহাসিক কোনো দানবের উদরে টাইম ডিসর্টশনের ট্র্যাপে পড়ে আছে। সেল-মস্তিষ্ক-আর্টারির যাবতীয় কাজকারবার নিচে নামছে কেবল। একটুখানি  বাতাস, একমুঠো শব্দহীনতার জন্য মন আইঢাই করে। ফ্লোরা ছুটে আসে ছাতে, লক্ষকোটি তারার দিকে চেয়ে থাকে। তারারা কি ওর ভাষা পড়তে জানে? ফ্লোরার মনে হয় জানে। এজগতের কত মানুষের হাহাকার ওরা শুনে এসেছে অনন্তকাল ধরে। জানবে না কেন। ওদের এক চিলতে আঙিনায় আছে একটা যজ্ঞডুমুর গাছ। জোছনা মাখা নিকোনো উঠোন না-আগাছায় ভরপুর। বাড়ির গৃহিণী বেঁচে থাকতে কিছু যত্ন-আত্তি হতো কিন্তু এখন জংলা- সাপখোপের আবাস।
ডুমুর গাছটায় ড্রাইঅ্যাড ভর করেছে। ফ্লোরা রাতবিরাতে গাছটাকে ড্রাইঅ্যাড রমণী সাজতে দেখে। দেখে ওর কা- রমণীর শরীরের মতো। শাখা প্রশাখাগুলো যেন হাত, চুল, শাঁখা ও কানের দুল।
দাদাভাই সমস্ত দিন ব্যস্ত থাকে ব্যবসার কাজে। আর ভাবির হররোজ বাপের বাড়ি যাওয়া চাই। লুসিলের বয়স আট বছর- কিন্ডারগার্টেনে পড়ে। সারাদিন ওর স্কুলে কাটে, খুব একটা কাছে পাওয়া যায় না। একাকীত্বের এক দুর্মর অস্তিত্বে ফ্লোরা দুমড়াতে থাকে। একদিকে ব্যপ্তমান বর্তমান: লুসিল-দাদাভাই-ভাবি, অন্যদিকে বর্তমানের ছায়াম-পে বাবা-মা-রাজুর অতীত আর তীর্যক চাহনি মেলে থাকা কুটিল ভবিষ্যত সাপের মতো খোলস বদলায় চোখের সামনে। ওর চেতনায় হিসেবনিকেশ, সময়ের বেহিসেবি ব্যবধান, ড্রাইঅ্যাডের মায়াবী ছায়াদেহ- সব যেন একাকার হয়ে যায়।
সম্ভবত বেঁচে নেই রাজু। বেঁচে থাকলে অবশ্যই সে যোগাযোগ করত। রাজুর  চরিত্রের কোনো অংশই ওর অকারণ অন্তর্ধান সমর্থন করেনা। ফ্লোরা  যতটুকু জানে তা হলো রাজু কোনো এক বিক্ষোভ সমাবেশের দিন বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। আসবে না- কারণ একজন মৃত মানুষের পক্ষে ফিরে আসা সম্ভব না। সেসাথে ফ্লোরার মনের একটা কোণ আজো ক্ষীণ আশাবাদী: বিক্ষোভের সময় বের হয়ে অনেকে গুম হয়ে যায়, খুন হয় বা আহত হয় বোমার আঘাতে। রাজুর সেসব কিছু হয়নি। ফিরে আসবে সে। রাজু যেদিন বেরিয়েছে সেদিন ঘটনাক্রমে বিক্ষোভের দিন ছিল।
রাতের মাঝ পহরে ফ্লোরা নিজস্ব ঢং-এ লের্থাজিক স্তর থেকে ক্যাটালেপ্টিক, তারপর সোম্নাম্বিউলিস্টিক স্তরে পৌঁছে গেল। ওকে ঘিরে আত্মাদের হুলস্থুল পড়ে যায়...। তুমি কেমন আছ? তুমি কি ফিরে আসতে পারো না?...যে যায় সে ফিরে আসে না, উত্তর আসে। রাজু নেই এ পৃথিবীতে! গুমরে ওঠে ওর ভেতরটা। রাজুর শেখানো পদ্ধতি আজ প্রথমবারের মতো সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পেরেছে বলে ফেøারার মনে হয়।
গত ক’দিন ড্রাইঅ্যাডকে বারংবার দেখছে ফ্লোরা। বনদেবী ‘ড্রুইড’-এর প্রতিরূপ ড্রাইঅ্যাড। ওক বৃক্ষের আত্মা অথবা মানবীরূপ এই ড্রাইঅ্যাড তার প্রিয় গাছের আশেপাশে থাকতে ভালবাসে। এদের জীবন ওকের সঙ্গেই বাঁধা। এই গাছের মৃত্যুর অর্থ তারও জীবনাবসান।
ড্রাইঅ্যাডের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অশরীরী দোলা মগজের ভেতর রাতদিন বিজাতীয় অনুভূতির ঢেউ তুলছে। দাদাভাই-ভাবি, এমনকি সাধের লুসিলের মধ্যেও ফিসফিসানি। ফ্লোরা বুঝতে পারেÑগভীর ষড়যন্ত্র উতরাচ্ছে তাকে ঘিরে। ফ্লোরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। আয়নায় বেশিক্ষণ নিজ আদল দর্শন করা যায় না। তবু তাকিয়ে থাকে সে। মাথায় যন্ত্রণা হয়, তা-ও চোখ ফেরায় না। ওর মুখম-ল ডাকিনীর রূপ ধরে জগৎসংসার গ্রাস করতে চায় যেন। দুনিয়ার তাবৎ অপরাধের ছাপ পড়ছে মুখে। যেন সে কোনো ক্লেদাক্ত আদমসন্তান- পৃথিবীতে আসার তার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
একটা ছায়ার নড়াচড়া দেখে সেটাকে ভাল করে দেখে ফ্লোরা। ‘আমি জানি কী বলতে এসেছ তুমি’, ফ্লোরা বলল। নিরুত্তর ছায়ামূর্তি।
‘জানো দাদাভাই, উঠোনের ওই ডুমুর গাছটাকে আমার কাছে ড্রাইঅ্যাডের মতো লাগে। ড্রাইঅ্যাড মানে...আমি স্বপ্ন আর বাস্তব গুলিয়ে ফেলছি। ভেবো না দাদাভাই। আমি চলে যাচ্ছি। তোমরা আমাকে কিছু অর্থ দিয়ে এবাড়ি থেকে তাড়াতে চাও। ওই টাকা তুমি তোমার বউয়ের জন্য রেখে দাও, কাজে লাগবে। অতটা করার দরকার ছিল না। আমি এমনিই চলে যেতাম।’
‘তোর ভাবি বলছিল...’,  ছায়ামূর্তি  কিছু বলতে গেল।
‘তোমার চেহারা দিনদিন খোল্তাই হচ্ছে। আশ্চর্য, ভাবি এত চতুর হয়েও বুঝতে পারছে না যে, আজকাল তুমি মদ খাও আর বাইরে মেয়েমানুষ নিয়ে ফুর্তি করো।’
‘কী বললি!’ ছায়ামূর্তি  হুলো বেড়ালের মতো ফ্যাঁচ করে উঠল।
‘চিৎকার করো না দাদাভাই। ভাবছো বোনকে তাড়িয়ে বুদ্ধির পরিচয় দিচ্ছ। আসলে তুমি মহাগর্দভ। যাকে আজ আস্কারা দিয়ে মাথায় তুললে, সে-ই একদিন তোমার ওই মুখে লাথি কষাবে।’
একটা কথাও না বলে বিলীন হয়ে যায় ছায়ামূর্তি। ফ্লোরা ছাতে এসে তারাদের মাঝে মুখ ঢুকিয়ে বলল- তোমাদের কাছে নিয়ে যাও আমাকে। উঠোনের কোণে যজ্ঞডুমুর গাছ বেয়ে কিছু একটা উঠে যাচ্ছে। সাপ নাকি! ফ্লোরার মনে হয়, কাউন্টারপার্ট হিসেবে একটা বেজি হলে ভাল হতো। নাকি সাপ দেখছে না সে। স্রেফ হ্যালূসিনেইশন!
মনের মধ্যে রাজুর কাব্য ঘুরপাক খায়, বাবা-মায়ের সংলাপ কানে বাজে। অনেক স্মৃতি- আনন্দ আর বিষাদের, সব যেন মুছে যাচ্ছে। একটা তারা ছুটে যায় আকাশ থেকে। কিন্তু ওর মনে হলো কালোপুরুষ হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে আগুনের তীর ছুড়ে দিল ওর দিকে। ফ্লোরা বানরের মুখের মতো রেলিং-এর পুরনো থাম ঘেঁষে অতল তন্দ্রায় তলিয়ে যেতে চায়...। তন্দ্রায় প্রশ্ন জাগে- রাজু যদি ফিরে আসে তবে কী হবে? ফ্লোরা হেসে ফেলল- বিয়ে হবে। বিয়েটা কী জিনিস, এর অন্তর্নিহিত রূপ কেমন! দাদাভাই আর ভাবি বিবাহিত জীবনে ক’টি স্বাভাবিক কথা- এমনকি কথার কথা বলেছে সুদীর্ঘ সময়ে! অথচ কত স্বল্পসময়ে ওকে বিতাড়িত করার বিষয়ে বহু সহস্র বাক্য ব্যয় করেছে তারা!
কোণের গাছটা কি ড্রাইঅ্যাডের রূপ ধারণ করছে! রাজুর সাথে বিয়ে হলে...রাজু সম্ভবত বিচ্ছিরি কাজটা করার জন্য অস্থির হয়ে উঠবে। একদিন রাজু ওরকম আচরণ করেছিল। ফ্লোরা ওকে শান্ত করেছিল রাজুর ঠোঁটে চুমু বসিয়ে। আচ্ছা রাজু কি অন্তত ওর ক্ষেত্রে অন্যসব পুরুষের চেয়ে আলাদা হতে পারেনা? শুধু রাতের বেলায় তারাদের চাহনির তলে, দখিনা বাতাসের আবেশে দু’জনে জড়াজড়ি করে গভীর নিদ্রায় সুপ্ত হতে?

***
গোছগাছ করতে ফ্লোরার একবেলা সময় লাগল মাত্র। রাজুর গুটিকয় চিঠি, কবিতার বই, কিছু জামাকাপড় আর ছবি। আর নিল পড়াশোনার সার্টিফিকেটগুলো। একটা সুন্দর-শান্ত নদী পাড়ের মফস্বল শহরের এক আবাসিক ছাত্রীসদনে শিক্ষকতার কাজ নেবে সে। কয়েকটি বছর অলস পড়ে ছিল ডিগ্রির সার্টিফিকেটগুলো। মলিন হয়ে যাওয়া সেই সার্টিফিকেটগুলো অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে লুপহোলের কাজ করবে।  
রাজু বলেছিল, ‘তোমাকে কোথাও চাকরি করতে দেবো না। তুমি আমার লক্ষীসোনা বউ হয়ে ঘরে বসে থাকবে। টাকাপয়সার দিকটা আমি দেখব।’ ‘কিন্তু তুমি তো আজ নেই। কে আমাকে লক্ষীসোনা বউ করে ঘরে রাখবে?’
লুসিল উঁকি দিয়ে যাচ্ছিল বারবার। ফ্লোরার ডাকে কয়েক পা এগোয়, আবার পেছোয়। এভাবে শেষ অবধি সে এল না। স্মৃতি, চিহ্ন আর আবেগকে গলা টিপে মেরে ফেলা ছাড়া কোনো গতি নেই। প্রস্তুতি নিতান্ত আটপৌরে- একটা হ্যান্ডব্যাগ, আর একটা ঝুলানো ব্যাগ। একবার মনে হলো পরপারে বসে রাজু যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে আর সে ছুটে যাচ্ছে তীরবেগে। কে যেন কানের ভেতর ফুঁ দিয়ে বলল- ‘দাদাভাই’র কাছে ক্ষমা চেয়ে নে। সামনে বড় কঠিন পথ।’ ফ্লোরা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। ওর সেরিব্রাল কর্টেক্স আর স্নায়ুম-লি সিদ্ধান্ত বিনিময় করতে পারছে না...।
তারপর সে ভেতরে শক্তি সঞ্চয় করল, বিড়বিড় করে কিছু বলল। সে পাড়ি দেবে অজানার উদ্দেশে।
গতরাতে ডুমুর গাছটাকে ড্রাইঅ্যাড সাজতে দেখেছে। ঠিক যেন বিবাহ লগ্নে কোনো কাম-রাঙা বউ। ওর জন্মের কিছুদিন আগে মা এই গাছটা লাগিয়েছিলেন- গাছটা যদি একশ’ বছরি হয় তবে সে এখনো কিশোরী বৈকি।
‘তাই তুমি কাল বউ সেজেছিলে!’ ফ্লোরা হাসে আপনমনে। শেষবার মা ওকে কবে পুতুনসোনা বলে ডেকেছিলেন মনে করতে চাইল ফ্লোরা। এবার বাবা ওর ভেতর ঘাপটি মেরে বসে ফিসস করে বলে উঠলেন-‘ফ্লোরা মা, তোর জন্য বড্ড কষ্ট হচ্ছে রে।’ ফ্লোরা হ্যান্ডব্যাগ খুলে বাবা-মা’র যুগল ছবিটা একবার দেখে নিল। মনে হলো, ব্যাগের ভেতর বসে বাবা-মা দু’জনই ফ্লোরার আসন্ন বিপদগ্রস্ততায় উদ্বিগ্ন হয়ে ফিসফাস করছেন।
লুসিল হঠাৎ দৌড়ে এসে ফ্লোরার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেলল-‘ফুপি, তোমার সাথে আর কোনো দিন দেখা হবে না?’
‘তা কেন। আমি বেঁচে থাকলে তোর সাথে দেখা হবে আবার।’
‘আমি তোমাকে খুঁজে বের করব’-লুসিল বলল।
‘তাই করিস সোনা।’
ফ্লোরা পুরনো কাঠের গেটটা পার হয়ে গেল।
-
টরোন্টো

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে