Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯ , ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (104 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১১-২০১২

কোরিয়া পর্যায়ক্রমে ১৮ হাজার বাংলাদেশী কর্মী নেবে

ফিরোজ মান্না


কোরিয়া পর্যায়ক্রমে ১৮ হাজার বাংলাদেশী কর্মী নেবে
এবার দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমবাজার বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। দেশটি পর্যায়ক্রমে ১৮ হাজারের বেশি বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ করবে। তবে তার আগে এই কর্মীদের কোরিয়ান ভাষা শিখে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আর এ কাজটি করবে কোরীয় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার খাতাও তারাই দেখবেন। যাঁরা কোরীয় ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন তাঁদের সমস্ত তথ্য সার্ভারে রাখা হবে। যখন যে কোম্পানির কর্মীর প্রয়োজন হবে তাঁরা সার্ভার থেকে তথ্য নিয়ে কর্মীদের নিয়োগ দেবেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে কোরীয়ায় অবস্থান করছে। সচিবের সঙ্গে মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন, কোরীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী। তবে তাদের কিছু শর্ত রয়েছে। এই শর্ত পূরণ করার পর পর্যায়ক্রমে তারা কর্মী নিয়োগ করবে। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার রয়েছে। এবারের সফরে বিএমইটির ডিজি এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি রয়েছেন। তাঁরা জানালেন, আমাদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের ফলপ্রসূ আলাপ-আলোচনা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সে দেশে বাংলাদেশের ১২ হাজারের মতো কর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে অবৈধ শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। তাদের বৈধ করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বনিম্ন বেতন হচ্ছে ৮শ’ মার্কিন ডলার। সর্বোচ্চ বেতন ১২শ’ মার্কিন ডলার। এর পাশাপাশি ‘ওভার টাইম’ পাচ্ছেন তাঁরা। বর্তমানে কোরিয়াই কর্মীদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিচ্ছে। অবশ্য এর আগে কোরীয় ভাষা শিক্ষার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এমন কয়েক শ’ তরুণকে শেষ পর্যন্ত কোরিয়া কর্র্তৃপক্ষ নেয়নি। এবার উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল দেশটি সফর করছেন। তারা এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা করবেন।

জানা গেছে, ভাষা শিক্ষা পরীক্ষায় পাস করেও ৪৯৩ তরুণ কোরিয়া যেতে পারেনি। গত বছর থেকে হতভাগ্য এই তরুণরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নানা কর্মসূচী পালন করে চলেছে। তাদের নামের তালিকা কোরিয়ান হিউম্যান রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট (এইচআরডি) থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। রোস্টার থেকেও তাদের নাম কাটা পড়েছে। হতাশ এই তরুণরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট এ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসল) এক কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে কোরিয়ান সরকারী ব্যবস্থাপনায় হয়। ১৩ জনের ভাষা শিক্ষার প্রথম পরীক্ষার সনদ বাতিল হয়ে গেছে গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি। দ্বিতীয় দফায় ভাষা শিক্ষার ৪৫৯ জনের সনদ বাতিল হয়ে যায় গত বছরের ২২ অক্টোবর। এ বিষয়টি কোরীয় সরকার বোয়েসেলকে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর অবহিত করে। পরে এইচআরডি কর্মীদের নতুন পাসপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। ৪ থেকে ১০ নবেম্বরের মধ্যে নতুন পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে এইচআরডি সার্ভারে আপলোড করা হয়েছিল। ৪৯৩ তরুণের তথ্যাদি জানানোর পর গত বছরের ১৮ নবেম্বর এইচআরডির সার্ভার থেকে ‘ডিলিট’ করে দেয়া হয়েছে। তবে ডিলিট করে দেয়ার বিষয়টি একটি অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও কোরীয় সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির বিধানমতেই ডিলিটদের নামের তালিকা রোস্টার থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে মধ্যে যাঁদের বয়স ৩৯ বছরের চেয়ে কম তারাই শুধু আবার ভাষা পরীক্ষা দিতে পারবেন।

সূত্র জানিয়েছে, কোরীয়া সরকার ১৫ দেশ থেকে ভাষা শিক্ষার মাধমে কর্মী বাছাই করে। এরপর ওই দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) চাহিদাপত্র পাওয়ার পর এইচআরডির তালিকা থেকে কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। যে সব দেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার তাদের দেশের শিল্পকারখানার জন্য কর্মী নিচ্ছে সেসব দেশের মধ্যে রয়েছেÑ ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, বার্মা, ইন্দোনেশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ। ভাষা শিক্ষার পর আড়াই বছর পর্যন্ত এইচআরডিতে কর্মীদের তালিকা সংরক্ষিত হয়। যদি কোন কর্মী ভাষা শিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আড়াই বছরের মধ্যে ‘জব অফার’ না পায় তাহলে সে আর কোরিয়া যেতে পারবে না। ভাষা শিক্ষায় উত্তীর্ণ মানেই কোরিয়া যাওয়া নিশ্চিত এ কথা ঠিক নয়। ২০০৮ সালে উত্তীর্ণ কর্মীদের মেয়াদ ২০১০-এর অক্টোবরে শেষ হয়ে গেছে। ৪৯৩ কর্মী আড়াই বছরের মধ্যে পড়তে পারে। তবে ২০ জন বাদ পড়েছে তাদের বয়স ৩৯ বছর হওয়ার কারণে। এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) আওতায় এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৭৭ কর্মী কোরিয়া গেছেন। এ সংখ্যা আরও বাড়ত যদি অবৈধভাবে ৬ হাজার কর্মী কোরিয়ায় না থাকত।

মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, কোরিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিষয়টি পুরোপুরি কোরিয়ান কর্তৃপক্ষই তত্ত্বাবধান করে। এখানে বোয়েসল কেবল তাদের সহযোগিতা দেয় মাত্র। যে কর্মী ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তাদের তালিকা অনলাইনে রাখা হয়। এখান থেকে কোরিয়ান কোম্পানি তাদের চাহিদা মোতাবেক লোক চাইলে তখন কোরীয় সরকার বোয়েসলের মাধ্যমে লোক নেয়।

অন্যদিকে কোরীয় ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বেশিরভাগ তরুণ পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে কোরিয়া যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল, তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর এখন তারা চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকে কোরীয় ভাষা শিখতে অনেক টাকা ব্যয় করেছে। শুধু তাই নয়, গত আড়াই বছরে তারা বার বার বোয়েসলে এসেছে। এতেও অনেকের বিপুল অঙ্কের টাকা গচ্চা গেছে। এখন কোরিয়া যেতে না পেরে তাদের ভয়াবহ পরিণতিতে পড়তে হয়েছে। পরিবারেও তারা বোঝা হয়ে দেখা দিয়েছে। ভাষা শিক্ষায় উত্তীর্ণ হুমায়ুন কবির এবং নোমান বলেন, তাদের অবস্থা এখন খুবই খারাপ। জীবন থেকে আড়াই বছর চলে গেছে। লেখাপড়া ছেড়ে আমরা কোরিয়া যাওয়ার আশায় বসে ছিলাম। কিন্তু আমাদের সেই আশা এখন গুড়েবালি হলো।

দক্ষিন কোরিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে