Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০ , ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (96 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১১-২০১২

রবীন্দ্রনাথের একটি দূর্লভ সাক্ষাৎকার

রবীন্দ্রনাথের একটি দূর্লভ সাক্ষাৎকার
রবীন্দ্রজীবনী, রবীন্দ্রনাথবিষয়ক ইংরেজি বা বাংলা গবেষণাগ্রন্থে মিনিজেরোড-সম্পর্কিত কোনো তথ্য মেলে না। ইন্টারনেট ঘেঁটেও তাঁর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। খুব সম্ভবত মার্কিন কোনো পত্রিকায় সাংবাদিকতা করতেন। রবীন্দ্রনাথের এই সাক্ষাৎকারটি তিনি নিয়েছিলেন ১৯১৬ সালে। নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ‘ল্যাক অব আইডিয়ালস: ইস্টার্ন পোয়েট অন সিভিলাইজেশন’ শিরোনামে এটি মুদ্রিত হয়েছিল। ১৯২৬ সালের ২ ডিসেম্বর এটি পুনর্মুদ্রিত হয় নিউজিল্যান্ডের দ্য উইকলি প্রেস পত্রিকায়। সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন–
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

নিউইয়র্ক টাইমস-এ এফ এল মিনিজেরোড লিখেছেন, ১৯১৩ সালে সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কারজয়ী এবং বাংলায়, শান্তিনিকেতনে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্থাপয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রশ্নটি বারবার ধীরে ধীরে উত্থাপন করেন, ‘খ্রিষ্টীয় সভ্যতা সম্পর্কে এশিয়ার কী ধারণা?’
রবীন্দ্রনাথের চেয়ে আরও মর্যাদাবান ও আরও অভিজাত ব্যক্তির কল্পনা করা বেশ কঠিনই হবে। তাঁর দীর্ঘ তুষারশুভ্র চুল ও তুষারশুভ্র শ্মশ্রু, তাঁর সূক্ষ্ম ও কোমল হাত, তাঁর সুন্দর মুখমণ্ডল (এমন মানুষের মুখ, যিনি সারা জীবন কেবল সুন্দর চিন্তা করে এসেছেন) পরমভাবে মনে হয় এক শুভেচ্ছার বাণীবাহকের।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রায় মরমি বলে অভিহিত করা হয়। কিন্তু মানবিক দয়া পীযূসধারায় এমনভাবে তা পূর্ণ যে তাঁকে চিরাচরিত ভাবধারায় মরমি বলা যায় না।

হঠাৎ সোজা হয়ে তিনি সামনে ঝুঁকলেন। তারপর ধীরে ধীরে ইংরেজি ভাষার ঢঙে যেখানে প্রতিটি শব্দ পরিষ্কার ও সংগীতময় শোনা যায়, তিনি তাঁর প্রশ্ন পুনর্বার উচ্চারণ করলেন, ‘খ্রিষ্টীয় সভ্যতা সম্পর্কে এশিয়ার কী ধারণা?’ আর উত্তরটা সামনে এগিয়ে আসে।
তিনি শুরু করেন, ‘সারা এশিয়ায় ইউরোপ তার মর্যাদা হারিয়েছে বড় করে এবং এশিয়াবাসী অনেক বেশি নিশ্চিত যে আদর্শগতভাবে ইউরোপের তাদের দেওয়ার কিছুই নেই। বিগত বছরগুলোতে এশিয়া ইউরোপের দিকে তাকাত সম্ভ্রম ভরে। আজ এশিয়া মনে করে, ইউরোপ সত্য কথা বলছে না।


চমকপ্রদ স্বপ্ন
ছেলেবেলায় আমি বড় আগ্রহের সঙ্গে সে দিনের দিকে তাকিয়ে থাকতাম, যখন আমি প্রথমবারের মতো সেখানে যাব। সেখানে আমি চমকপ্রদ জিনিসের স্বপ্ন দেখতাম, বস্তুগত জিনিস নয়, বরং সুন্দর চিন্তাধারা, সুন্দর বৈশিষ্ট্যাদি। বিবেকবান যাঁরা, শুধু ব্যক্তিকে নয় বরং সারা জাতিকে পথ দেখিয়েছে এমন সব বিবেকবান লোকের সঙ্গে দেখা হবে বলে সামনের দিকে তাকিয়েছিলাম। আমি অবশ্য বড় বেশি ঊনবিংশ শতাব্দীর আধ্যা্ত্মিকতার কথা ভেবেছিলাম, যখন কিটস, শেলি ও বায়রন এবং এমন অন্যান্য গোষ্ঠীর, যারা উচ্চতর জিনিসের দিকে তূর্যধ্বনির ডাক দিয়েছিলেন।

‘পরে আব্রাহাম লিংকন চরম শিখরে ওঠেন। অধিকারের লড়াইয়ের খোঁজে গ্যারিবল্ডির মতো মানুষ আমার মনে দাগ রেখে যান। এমন মানুষের লেখা ও ইতিহাস আমাকে দারুণভাবে প্রভাবান্বিত করে। আমার মনে এই বিশ্বাস জন্মায় যে ইউরোপে আমি মানুষ, জনগণ, জাতির মধ্যে সত্য বিবেকের সন্ধান পাব, আমি এমন এক মহাদেশ আবিষ্কার করব, যেখানে সব মানুষ উচ্চ আদর্শের জন্য সচেষ্ট রয়েছে। আমি মর্মান্তিকভাবে হতাশ হই।

‘তথাকথিত ভীষণ সুসভ্য দেশ ইউরোপ, আমেরিকা ও জাপানে ভ্রমণ করে আমি লক্ষ করলাম, এইসব দেশে বিরাজমান প্রভাবসমূহ তাদেরকে আধ্যা্ত্মিক বিষয়গুলো থেকে সোজা বস্তুগত জিনিসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই বস্তুগত জিনিসগুলোর সামান্যই মূল্য রয়েছে। আজকাল বড় জাতি এবং তাদের বড় মহান ব্যক্তিরা আয়তন দিয়ে সাফল্যের মূল্যায়ন করে। এর অর্থ, তাঁরা মহান নন।
বৈদ্যুতিক শক্তিকে বোঝা এবং তাকে কাজে লাগানো এমন কোনো বড় সাফল্য নয়। একজন কেবল দিনে এক হাজারটা গাড়ি তৈরি করে তাতে এমন বড় কিছু সাফল্য অর্জন করে না। এসব মাপজোখ ও রেখার কাজ, এসব পঙ্খানুপুঙ্খ কাজ মানুষ আরও সহজেই করতে পারে। কিন্তু মানব সত্তার জটিলতার পরিমাপ কে করতে পারে? বড় শৈল্যচিকিৎসকের পেশিজ্ঞান রয়েছে, মনুষ্যকুলের আত্মাকে জানার চেষ্টা আর কে করছে?

গুণের নামতা দশ অনুশাসনের (Ten commandments) চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। আজকের বড় কথা হচ্ছে, সবকিছু আমরা বিরাট মাত্রায় পেতে চাই। মানুষের মনের কার্যকর চিন্তাধারা ও প্রভাবকে বাদ দিয়ে পশ্চিমা সভ্যতা সবকিছুকে বিপুল উৎপাদনের মাত্রায় স্থান দিয়েছে।

তবে তীব্র আকাংখা নিয়ে এশীয় জনগণ যা লক্ষ্য করছে তাহলো ইউরোপীয় জাতিগুলোর জন্ম দেওয়া সাম্রাজ্যবাদ ও জাতীয়তাবাদের আগ্রাসী মানসিকতা। এ তো সারা পৃথিবীর জন্য এক মহাবিপদ। ইউরোপের রাজনৈতিক নীতিহীনতা এতই প্রবল যে অবশ্যম্ভাবীভাবে এশিয়ার ওপর তার প্রতিক্রিয়া হয়, যেখানকার জনগণ পশ্চিমা শোষণের শিকার হয়ে দাঁড়ায়।
রবীন্দ্রনাথ জাপানের কথা উল্লেখ করলে মিনিজেরোড জিজ্ঞেস করেন, তাঁর মতে, কীভাবে জাপানের আত্মা পরিবর্তিত হয়েছে ইউরোপের ভাবধারার সঙ্গে দৃঢ় বর্ধিষ্ণু সংস্পর্শের সঙ্গে সঙ্গে।

‘এ তাকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত করেছে।’ তিনি বললেন, ‘বিরাটত্বের আদর্শ, বস্তুগত প্রাচুর্যের আগ্রাসন তাকে দৃঢ়ভাবে পাকড়াও করেছে। প্রাচীন সামুরাই আদর্শ এখন মৃত। জাপান রাজ্য বিস্তারের অভিযাত্রায় যোগ দিয়েছে।

সব বস্তুগত গৌরবের চেয়ে জাতির নৈতিক আত্মমর্যাদা অনেক বড়। সাম্রাজ্যবাদ আত্মমর্যাদাকে সংকীর্ণ করে এবং মানুষকে দাস বানায়। এ তাদের চিন্তা করতে এবং নিজেদের হয়ে কথা বলতে দেয় না। পশ্চিমা সভ্যতার জন্ম হয়েছে শাসন করার ক্ষমতা সারা জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে। সেখানে রয়েছে ব্যক্তিগত মর্যাদা, গুরুত্বের এক ব্যক্তিগত চেতনা।

স্বৈরাচার এমন ব্যক্তিত্বকে শেষ করে দেয়
স্বৈরশাসকদের সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয়, ড. রবীন্দ্রনাথ, সম্প্রতি মহা হৃদ্যতার সঙ্গে মুসোলিনি আপনাকে স্বাগতম জানান, যদিও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি আপনার ভালোবাসা নিশ্চয়ই ফ্যাসিস্টপন্থা অনুমোদন করে না? ‘আমার জনপ্রিয়তা হঠাৎ ইতালিতে হ্রাস পায়।’ তিনি উত্তর দেন, ‘যে সরকার সামান্য বা মোটেই ব্যক্তিস্বাধীনতা অনুমোদন করে না, সে সম্পর্কে আমার সত্যিকার মতামত জানানোর পর পর দেখলাম, যাঁরা আমাকে সম্মান জানানোর জন্য এক পায়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁরা আমাকে ছেড়ে গেছেন।’

‘ইতালিতে বিবেকহীন শক্তির পূজাই হচ্ছে জাতীয়তাবাদের বাহন এবং এই শক্তি আন্তর্জাতিক হিংসা-রেষারেষির আগুন প্রজ্বলিত রাখে। অবশেষে এ হয়তো সার্বিক বিপর্যয়ের মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে। আজকাল দ্রুতযান, রেলওয়ে ও বিমানের বদৌলতে পৃথিবী পরস্পরের কাছে চলে এসেছে। সীমান্তগুলো এমন সব কল্পিত রেখা, যা এক জাতিকে আরেক জাতি থেকে আলাদা করে না। যেকোনো ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া একবার শুরু হলে সীমান্ত পেরিয়ে তা ছড়িয়ে পড়বে। পর্বত আর সমুদ্র আর তেমন বাধা নয়।

ইতালীয় অভিযাত্রার অনেক প্রতিধ্বনি রয়েছে। কেবল(Cable) বার্তা অনুযায়ী ইতালীয় প্রেস ড. রবীন্দ্রনাথের মোসাহেবি মন্তব্য প্রকাশ করে এই ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করে যে তিনি সম্পূর্ণভাবে ফ্যাসিবাদী নীতি-আদর্শের সঙ্গে একমত, কিন্তু কবি ইতালি ছেড়ে চলে আসার পর তা অস্বীকার করতে বাধ্য হন। তিনি একটি বিবৃতি দেন, যার কিছু অংশ:
‘ফ্যাসিবাদের পন্থা ও আদর্শ সম্পর্কে সমগ্র মানবসমাজ উদ্বিগ্ন এবং যে-আন্দোলন নির্মমভাবে বাকস্বাধীনতাকে রোধ করে, যে-আন্দোলন ব্যক্তি বিশ্বাসের বিরোধী নির্দেশগুলো মানতে বাধ্য করে এবং যা গোপন অপরাধ ও সহিংসতার রক্তাক্ত পথ অনুসরণ করে তাকে সমর্থন করা এক উদ্ভট কল্পনা।

‘বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বারা জাতীয়তাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসী ধ্যানধারণাকে ধর্মের মতো অনুসরণ করা যা গোটা বিশ্বের জন্য এক অব্যাহত হুমকি–তার বিরুদ্ধে আমি বারবার সোচ্চার হয়েছি। ইউরোপীয় রাজনীতি যে নৈতিক পশ্চাৎপদতার জন্ম দিয়েছে, তারও বিপর্যয়কর পরিণতি রয়েছে, বিশেষ করে, যারা পশ্চিমা শোষণ-প্রক্রিয়ার করুণার পাত্র প্রাচ্যের জনগণের জন্য।

‘এ প্রায় অপরাধের পর্যায়ে না পড়লেও আমার জন্য বড় নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক হবে সেই রাজনৈতিক আদর্শের প্রশংসা করা, যা প্রকাশ্যে নৃশংস সন্ত্রাসকে সভ্যতার চলমান শক্তি হিসেবে গণ্য করে। কেউ যদি এই বর্বরতাকে, যাকে বস্তুগত উন্নতির সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা মোটেই অসম্ভব নয়–কাম্য মনে করে তাহলে এর জন্য ভয়ঙ্কর মূল্য দিতে হবে।’

বহু বছর ধরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শান্তির বাণী ও সার্বিক সৌভ্রাতৃত্বের কথা প্রচার করে আসছেন। একে অপরের প্রতি অবিরাম দ্বন্দ্বময় সমগ্রের ভগ্নাংশ নয়, বরং যথাযথ সমগ্রই হচ্ছে তাঁর আদর্শ। রবীন্দ্রনাথের দর্শন সংক্ষিপ্ত করে তাঁর এক শিষ্য এক সময় লেখেন–
‘বিশ্বকে এক পরিবার হিসেবে দেখতে হবে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিবেশী তার সদস্য, প্রত্যেকে সবার মঙ্গলের জন্য তার নির্দিষ্ট অংশ দান করবে। সূর্যের নিচে তখন সব মানুষের জন্য স্থানসংকুলান হবে, এবং রবীন্দ্রনাথের নিজের ভাবনাটি এরকম:
‘যেমন নিজের পাপড়ি উন্মোচন করাই গোলাপের জন্য বিশেষ কাজ, তেমনি মানবতার গোলাপ তখনই উৎকৃষ্ট, যখন বিভিন্ন বর্ণ এবং জাতি তাদের নির্দিষ্ট উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্য উন্মোচন করবে, তবে তা প্রেমবন্ধনে মানবকাণ্ডের সঙ্গে সংলগ্ন।’ তিনি আরও বলেন, এই পৃথবীতে একটা নৈতিক আইন রয়েছে, যা ব্যক্তি ও মানুষের সংগঠিত সত্তা–উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আপনি আপনার জাতির নাম করে এসব বিধান লঙ্ঘন করে ব্যক্তি হিসেবে তা উপভোগ করতে পারেন না। আমরা আমাদের সুবিধার জন্য সত্যকে ভুলে যেতে পারি, কিন্তু সত্য আমাদের ভুলে যাবে না। নৈতিক ভিত্তি ছাড়া সমৃদ্ধি নিজেকে বাঁচাতে পারে না। যদি মানুষ তার পূর্ণ ভাঁড়ার এবং তার মানবতার মধ্যকার ব্যাদানকৃত ফাঁক দেখতে না পায়, মানবজাতির ঐক্য অনুভব না করে, তাহলে সভ্যতা-নামক বর্বরতার ধরনটি থেকেই যাবে।

মিনিজেরোড বলেন, ‘আমার মনে আছে ড. রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, যদি যিশুখ্রিষ্ট নিউ ইয়র্কে আসতেন, অন্য কোনো কারণে না হলেও ডলার না থাকার কারণে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হতেন আর যিশুখ্রিষ্ট আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলে কু ক্লাক্স ক্লানরা তাঁকে ধ্বংস করে ফেলত।’

আপনি কী সত্যিই ভাবেন, আমরা অতটাই খারাপ? নিজের একটি প্রশ্ন দিয়ে তিনি সে প্রশ্নের মোকাবিলা করলেন।
‘নম্ররাই আশীর্বাদপুষ্ট’ কথাটা আজ রাজনৈতিক ঈশ্বরদ্রোহিতা সামিল নয় কি? মনে করুন, যিশু আমেরিকায় বললেন, ‘দরিদ্ররা আশীর্বাদপুষ্ট’। এটাকে তাহলে অর্থনৈতিক বিপথগামিতা বলে মনে করা হতো। আর তিনি যদি আপনার দেশে বলতেন উটের পক্ষে সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে যাওয়ার মতোই বিত্তবানদের স্বর্গে যাওয়াটা সহজ–তাহলে কি তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হতো না? হয়তো তার কথাবার্তার জন্য আমেরিকা যিশুর ওপর শারীরিক দণ্ড আরোপ করা পর্যন্ত যেত না, কিন্তু আমার মনে হয়, আমেরিকায় নম্র বা দরিদ্র হওয়া—(মূল পাণ্ডুলিপিতে কিছু শব্দ স্পষ্ট ছিল না)।

‘আপনি কি আমেরিকাকে মহা ইউরোপীয় শক্তিগুলোর মতো সম্পূর্ণভাবে আধ্যাত্মিকতাশূন্য মনে করেন বা আপনি কী মনে করেন, অনাধ্যাত্মিকতার মশাল সেখানে এখনো প্রজ্বালমান?

তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমার বিশ্বাস আমেরিকা আদর্শের অনুসন্ধান করেছে, নিশ্চয় কিছু আমেরিকাবাসী অনুসন্ধান করছেন। আমার সেই ভবিষ্যদ্বাণী করার যোগ্যতা নেই। ভালো জিনিসের এই অনুসন্ধানকারীরা জেগে উঠবেন বিরুদ্ধবাদীদের ভারে আচ্ছন্ন হয়ে বা তাঁরা পৃথিবীর সর্বত্র তাঁদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারবেন এবং সব মানুষের মঙ্গলের জন্য এক বড় শক্তি হবেন। সব মানুষ আশা করে, তাঁরা সাফল্য লাভ করুন।
১৯২৬
(সৌজন্যে  বিডিনিউজ২৪ডটকম)

সাক্ষাতকার

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে