Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ , ১২ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (50 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-১২-২০১১

মুশফিকের ছয় এবং জয়

মুশফিকের ছয় এবং জয়
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৩২/৮
বাংলাদেশ: ১৯.৫ ওভারে ১৩৫/৭
ফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী

শূন্যে দুই হাত ছুড়লেন। তাতেও কি আর দুকূলপ্লাবী আবেগের স্রোত বাঁধ মানে? মুশফিকুর রহিমের ধমনিতে তখনো ছুটে চলেছে চঞ্চল রক্তস্রোত। টারজানের ভঙ্গিতে তাই বুকে ঠুকলেন মুষ্টিবদ্ধ হাত। মুখে আকর্ণবিস্তৃত হাসি। আনন্দধারায় ভেসে যেতে যেতে মুহূর্তের জন্যও কি মুশফিকের মনে পড়ছিল গত ১৬ আগস্টের হারারে স্পোর্টস ক্লাব?
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে। শেষ ৫ বলে প্রয়োজন ৬ রান। আগের বলেই ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া মুশফিক এমন ছক্কাতেই শেষ করতে গিয়েছিলেন ম্যাচ। ছক্কার বদলে লং অনে ক্যাচ। ড্রেসিংরুমে ফিরে ভেঙে পড়েছিলেন কান্নায়। ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও নিতে যাননি।
সেদিন হারারেতে বলটা ব্যাটে লাগার পরই বুঝে ফেলেছিলেন, সর্বনাশ হয়ে গেছে। মাধ্যাকর্ষণকে হারিয়ে এটি সীমানা পেরোবে না। কাল ঢাকায় ব্যাটে বল লাগার পর আর সেদিকে তাকানইনি। ওটার ঠিকানা যে জানা হয়ে গেছে! শটটা মেরেই মুশফিক শূন্যে ছুড়ে দিলেন বিজয়ীর দুই হাত।
জীবনের মতো ক্রিকেটও যেমন নেয়, তেমনি ফিরিয়েও দেয়। মুশফিকুর রহিমকেও যেমন দিল। সেদিন হারারেতে ক্রিকেট দেখা দিয়েছিল চরমতম নিষ্ঠুরতার রূপে। আর কাল মিরপুরে সেই ক্রিকেটই মুশফিকের দুই হাত ভরিয়ে দিল।
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচের শুরু টস জয়ে। আর শেষ জয় এনে দেওয়া ছক্কায়। বাঙালি ঔপন্যাসিকও তাঁর নায়ককে এমন বীরের বেশে দেখাতে গিয়ে এক শ বার ভাববেন। অথচ এই মুশফিকুর রহিম কল্পনার কেউ নন, গ্যালারি-ভর্তি দর্শকের সামনে ঘটে যাওয়া ঘোরতর বাস্তব।
অধিনায়কত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে মহাবিতর্কিত এক অধ্যায়ের পর। এক বছরও হয়নি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সহ-অধিনায়কত্ব থেকে, অধিনায়কত্বটা এসেছে তাই অপ্রত্যাশিত এক প্রাপ্তি হয়েই। পাহাড়প্রমাণ চাপটা অবশ্য একদমই অপ্রত্যাশিত নয়। এটি তো বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের ছায়াসঙ্গীই। কপালে মাঝেমধ্যে দু-একটি জয়তিলক বাদ দিলে পরাজয়ের কলঙ্কও তা-ই। আর এখানে তো পরাজয়ে শুরুটা ?নিশ্চিত?ই ছিল। মুশফিকের অধিনায়কত্বে অভিষেক যে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। গত চার বছরে যে টি-টোয়েন্টির সংজ্ঞা হয়ে গিয়েছিল?বিশ-বিশ ৪০ ওভারের ক্রিকেট ম্যাচ, বাংলাদেশ দল যেটি কখনোই জিততে পারে না।
সেই টি-টোয়েন্টি জিতেই যাত্রা শুরু হলো অধিনায়ক মুশফিকের। যে জয় বাংলাদেশকে বের করে আনল রেকর্ড টানা ১২ ম্যাচে পরাজয়ের ধারা থেকে। বের করে আনলেন নতুন অধিনায়ক, টি-টোয়েন্টিতে আগের ১৩ ইনিংসে যাঁর সর্বোচ্চ রান মাত্র ২৪।
২৬ বলে অপরাজিত ৪১ এমন বড় কিছু নয়। তবে টি-টোয়েন্টিতে ?বড়?-?ছোট?র সংজ্ঞা ভিন্ন। ৩৫-৪০ রানও এখানে কখনো কখনো তাৎপর্যে মহাকাব্যিক রূপ নিয়ে ফেলে। এ ম্যাচে যেমন নিল মুশফিকের অপরাজিত ৪১।
ছয় মেরে জয় তো গল্পটার ক্লাইম্যাক্স। মনে করে দেখুন, কখন শুরু এই গল্পের! ৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস যখন হালভাঙা-পালছেঁড়া তরণী। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৩২ রানে আটকে রাখার পরই বাতাসে উড়ে বেড়াতে শুরু করা জয়ের সুবাস তখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ এর আগে কখনো এত কম রানের টার্গেট পায়নি। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টার্গেট ছিল ১২১ রান, তবে বৃষ্টির কারণে সেটি আর টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ম্যাচ থাকেনি। পরিণত হয়েছিল ফোরটিন-ফোরটিনে!
এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং এমন কিছু নয় যে, নিজেদের পরিচিত উইকেটে ১৩৩ রান করতে সমস্যা হবে। কিন্তু উইকেট তো শুধু বোলারদের গুণেই পড়ে না, ব্যাটসম্যানদের দোষেও পড়ে। যেমন পড়ল বাংলাদেশের ইনিংসে। ১ উইকেটে ৪৯ থেকে দেখতে না দেখতেই ৪ উইকেটে ৫২। ইমরুল গেলেন বাউন্ডারি লাইনের ক্যাচে, সাকিব প্রথম বলেই বোল্ড, অলক কার্লোস ব্রাফেটকে উপহার দিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট।
এই ম্যাচের আগে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বশেষ জয় এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। ২০০৭ বিশ্বকাপে জোহানেসবার্গ-কাব্যের রূপকার মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাট শোনাচ্ছিল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির গান। সেই গান অন্তরা থেকে সঞ্চারীতে যাওয়ার আগেই থামিয়ে দিলেন মারলন স্যামুয়েলস। ব্যাটিংয়ে ৪২ বলে ৫৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, এরপর বোলিংয়ে সাকিব ও আশরাফুলের মহামূল্য দুটি উইকেট?ম্যাচটা স্যামুয়েলসের নামেই লেখা হয়ে গিয়েছিল।
স্যামুয়েলসের নাম মুছে সেখানে নিজের নাম লিখলেন মুশফিকুর। হারারেতে একা তরী বেয়ে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন জয়ের মোহনায়। এখানেও অনেকটা তা-ই। পার্থক্য বলতে এখানে আর তীরে এসে তরী ডোবেনি।
আশরাফুল যখন আউট হলেন, তীরের কাছাকাছি যাওয়া নিয়েও তখন সংশয়। শেষ ৭ ওভারে প্রয়োজন ৬২ রান। আস্কিং রেট প্রায় ৯। দুই ওভার বাকি থাকতেও সমীকরণটা অনেক কঠিন?১২ বলে ২০ রান। ১৯তম ওভারে ১৪ রান চাপটাকে একটু আলগা করল। শেষ ওভারে ৬ এমন কঠিন কিছু নয়। কিন্তু একটি ডট বল, দুটি সিঙ্গেল আর একটি উইকেট?রবি রামপলের প্রথম চার বল সেটিকে সহজও রাখেনি। ২ বলে ৪ রান?তখনো দোদুল্যমান ম্যাচের ভাগ্য। সেটিকে স্থির করে দিল মুশফিকুরের ছক্কা।
প্রায় চার বছর এক মাস পর টি-টোয়েন্টিতে আবার জয়ের দেখা, প্রতিপক্ষ সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি কথাটা কারও মনে গুঞ্জরিত হয়ে উঠতেই পারে। কী কাকতালীয় দেখুন না, জোহানেসবার্গেও বাংলাদেশের জয়সূচক রান এসেছিল রবি রামপলের বলেই!

ফুটবল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে