Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (42 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১০-২০১২

ইলিয়াস ইস্যু তামাদি আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক

ইলিয়াস ইস্যু তামাদি আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর হঠাৎ করে রাজনৈতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ঠা-া হয়ে আসছে। সস্নোগান, পোস্টার ও ব্যানার থেকেও অপসৃত হচ্ছেন ইলিয়াস। রাজনৈতিক মিছিল-মিটিং ও পোস্টারে এখন শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন নেতার মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি দাবির ঝাঁজালো সস্নোগান। আর এসব পোস্টার ঢেকে দিচ্ছে ইলিয়াসের সন্ধান দাবিতে সাঁটানো পোস্টারগুলোকেও। দেয়ালে যেমন পোস্টারের পর পোস্টার পড়ে ঢাকা পড়ছে ইলিয়াসের ছবি, তেমনি রাজনীতির মাঠেও ইস্যুর পর ইস্যু এসে গায়েব করে দিচ্ছে ইলিয়াস ইস্যুকে। গত ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর হার্ডলাইনে চলে যায় বিএনপি। চাঙ্গা হয়ে উঠে বিরোধী রাজনীতি। নড়েচড়ে বসে সরকারও। বিরোধী দল ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ও সুশীল সমাজ থেকে দাবি উঠে ইলিয়াসকে উদ্ধারের। বিরোধী দলের সাজ সাজ অবস্থা দেখে সাধারণ মানুষ ও সুশীলরা ভেবেছিলেন এ ইস্যুতে বিএনপি সরকারকে ধরাশায়ী করেই ছাড়বে। কিন্তু সরকারের এক মামলাতেই বদলে যায় রাজনীতির পট। মিইয়ে যায় ইলিয়াস ইস্যু। টানা সপ্তাহখানেক পলাতক থাকতে হয়েছে বিএনপির আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শীর্ষ নেতাদের। এরই মধ্যে ঢাকায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন ও ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। দুই দেশের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীর সফর নিয়ে ব্যস্ত ছিল সরকার, দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি, গণমাধ্যমসহ পুরো দেশ। হিলারির কাছে ইলিয়াস গুমের নালিশ জানিয়ে ইলিয়াস ইস্যুর আপাতত ইতি টানতে চাইছে বিএনপি। তাদের সামনে এখন এক দফা এক ইস্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনবর্হাল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, খোদ দলের হাইকমান্ড নির্দেশ দিয়েছেন, আর ইলিয়াস ইস্যু নয়, সভা-সেমিনার ও গণমাধ্যমে এখন হাইলাইট করতে হবে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুকে। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুর পাশাপাশি সময় থাকলে ইলিয়াস ইস্যুতে কথা বলা যাবে। হাইকমান্ডের এ নির্দেশনার পর কি তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুর নিচে ঢাকা পড়ে যাবে ইলিয়াস আলী ইস্যু_ এমন প্রশ্নের জবাবে কয়েকজন সিনিয়র নেতা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, হিলারি ও প্রণবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইলিয়াস গুমের নালিশ জানিয়েই দল এখন ক্ষান্ত হতে চায়। সেখানে তাদের আর কীইবা করার আছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুর পাশাপাশি ইলিয়াসের ইস্যুতে কথা বলার যে অনুমতি মিলেছে এটা ঢের বলে মনে করছেন নেতারা। ইলিয়াস ইস্যু কোনোভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে না জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান যায়যায়দিনকে বলেন, ইলিয়াস ইস্যুর পাশাপাশি আরো দুটি নতুন ইস্যু যোগ হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। তিনি আরো বলেন, দায়িত্বশীল সরকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে, কিন্তু বর্তমান সরকার সমস্যা বাড়াচ্ছে। এজন্য বিরোধী দলকে অনেক ইস্যুতে আন্দোলন করতে হচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এখন বিএনপির আন্দোলনের একটাই ইস্যু হওয়া উচিত। তা হচ্ছে ইলিয়াস আলী। মামলা তো হয়েছে এই ইস্যুর কারণেই। সুতরাং নতুন ইস্যু যোগের পক্ষে নন তিনি। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে ইলিয়াস ইস্যুতে আন্দোলন জোরদার করার প্রস্তাব দেবেন বলেও জানান গয়েশ্বর। হারিয়ে যাচ্ছেন ইলিয়াস গত ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় ১২দিন দেশব্যাপী রাজনীতির প্রধান আলোচনা ও সমালোচনায় ছিল ইলিয়াস ইস্যু। ইলিয়াসের সন্ধান দাবিতে বিএনপি ৫দিন হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু ২৯ এপ্রিল হরতাল চলাকালে সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শাহবাগ থানায় এবং তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে গাড়ি ভাংচুর ও অগি্নসংযোগের ঘটনায় তেজগাঁও থানায় আরেকটি মামলা হয়। উভয় মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের আসামি করা হয়। দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার কারণে সিনিয়র নেতারা গা-ডাকা দেন। ৭ দিন পালিয়ে থেকে উচ্চ আদালত গিয়ে তারা জামিনও নেন। এরপরই মামলা প্রত্যাহারে বিষয়টি ইলিয়াসের নিখোঁজ ইস্যুকে পিছনে ফেলে আগে চলে আসে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের ভবনে ইলিয়াসের পোস্টারের ছেয়ে গিয়েছিল। পোস্টারে লেখা একটাই দাবি ছিল অবিলম্বে ইলিয়াস আলীর সন্ধান চাই। এখন সেসব পোস্টারের ওপর নতুন পোস্টার লাগানো হয়েছে। এসব পোস্টারে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা, সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক শরাফত আলী সপু, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ অসংখ্য নেতার ছবি স্থান পেয়েছে। আর এসব পোস্টারের দাবি হচ্ছে, অবিলম্বে নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদের মুক্তির দাবিযুক্ত পোস্টারও শোভা পাচ্ছে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বিএনপির মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অভিযোগ, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর যেভাবে আন্দোলন জমে উঠেছিল তা ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। এর অন্যতম প্রধান কারণ সিনিয়র নেতাদের আত্মগোপন। তারা যদি না পালাতেন তাহলে এই ইস্যুতে আন্দোলন এতটাই বেগবান হতো যে, সরকারের পতন করাও হয়তো সম্ভব হতো। কিন্তু নেতাদের কারণে তা আর সম্ভব হলো না। কোনো তৎপরতা নেই নিখোঁজের ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও ইলিয়াসের সন্ধান না মেলায় দিন দিন ভেঙ্গে পড়ছে ইলিয়াসের পরিবার। ইলিয়াসকে খোঁজার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও চোখে পড়ছে না। অনেকে বলছে একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে ইলিয়াসকে খোঁজার কাজ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা জানা গেছে, ইলিয়াস আলীকে নিয়ে এখন কোনো বাহিনীর কোনো তৎপরতা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, তারা মনে করছে, ইলিয়াস আলী আর বেঁচে নেই। এ কারণে অভিযান নিয়ে কোনো মাথা ব্যথাও নেই। ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করতে পুলিশের গুলশান বিভাগ, বনানী থানা, ডিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে এখনো কাজ করছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হলেও চোখে পড়ার মতো কোনো তৎপরতা নেই। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারের নামে র‌্যাব-পুলিশ যে অভিযান চালাচ্ছে, তা সবই লোক দেখানো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে নিয়ে পুবাইলে অভিযান চালানো ছাড়া পুলিশ বা র‌্যাব আর কোথাও কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি। ইলিয়াসের অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকায় তারা নীরব হয়ে আছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার আদালতে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ ঘটনা তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। ঢাকার মহানগর হাকিম মুনিরুজ্জামানের আদালতে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এভাবে আরো একবার নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে পুলিশ। ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি ৪৮ ঘণ্টা পরপর তদন্তের অগ্রগতি জানাতে পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। সেই নির্দেশ মেনে প্রতি ৪৮ ঘণ্টা পরপর প্রায় একই ধরনের প্রতিবেদন দাখিল করছে পুলিশ। র‌্যাবের গণমাধ্যম ও আইন শাখার পরিচালক এম সোহায়েল যায়যায়দিনকে বলেন, ইলিয়াস আলী উদ্ধারে নানামুখী তৎপরতা চলছে। যখন সুনির্দিষ্ট কোনো কিছু পাওয়া যাবে, তখনই সব বলা যাবে। ইলিয়াস উদ্ধারে তৎপরতা থেমে নেই বলেও তিনি জানান। এ ব্যাপারে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নুর খান বলেন, শুধু ইলিয়াসের বিষয়ই নয়, যেকোনো গুমের ব্যাপারে বক্তব্য হচ্ছে, এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। পাশাপাশি বিরোধী দলও আন্তরিক ছিল তা বলা যাবে না। দুই দলের একত্রে বসে এই সমস্যা সমাধান করা উচিত ছিল। আর এই ইস্যুতে বিরোধী দলের আন্দোলন অবশ্যই যৌক্তিক। তারা যদি এই সমস্যা সমাধানে কার্যকরী উদ্যোগ না নেয়, তাহলে গুমের মতো ঘটনা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা কমবে না। প্রসঙ্গত, ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার পর ১৯ এপ্রিল সিলেটে হরতাল পালিত হয়। এরপর কেন্দ্রীয়ভাবে ২২, ২৩ ও ২৪ এপ্রিল হরতাল পালন করে বিএনপি। ২৪ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়া ইলিয়াসকে সন্ধান দেয়ার জন্য ৪ দিনের সময় বেঁধে দেন। কিন্তু বেঁধে দেয়া সময়ে তার কোনো হদিস না পাওয়ায় ২৯ ও ৩০ এপ্রিলের হরতালের কর্মসূচি দেয়া হয়। ২৯ এপ্রিল ছিল বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সফল হরতাল। ওই রাতেই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় আন্দোলনে ভাটা পড়ে। নেতারা পালিয়ে যায়। আর কর্মীরা মনোবল হারিয়ে ৩০ এপ্রিলের হরতালে মাঠে নামেনি। ৭ মে নেতারা জামিন পেলেও ইলিয়াস ইস্যুতে আন্দোলন কঠোর করার সাহস দেখায়নি বিএনপি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে