Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-০৬-২০১২

দেশের স্বার্থে সবাইকে সংলাপে বসার আহবান জানালেন হিলারী

আনোয়ারুল করিম


দেশের স্বার্থে সবাইকে সংলাপে বসার আহবান জানালেন হিলারী
ঢাকা, ৫ মে: বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে এদেশের সরকারসহ সব রাজনৈতিক দলকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।

শনিবার বিকেলে ঢাকায় এসে সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ থেকে ৭টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বৈঠক করে দুই পক্ষ।

এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট সই করার সিদ্ধান্ত হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হিলারিকে নিয়ে উপস্থিত হন দীপু মনি।

শুরুতে দীপু মনি শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখার পর হিলারি বক্তব্য রাখেন। এরপর উপস্থিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের ৪টি প্রশ্নের জবাব দেন হিলারি।

এমনই একটি প্রশ্নের জবাবে হিলারি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নসহ সব ধরনের মৌলিক ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক দলগুলোকে মতের ভিন্নতা সত্বেও এক সঙ্গে বসার আহ্বান জানাচ্ছি, কারণ আপনাদের সবার গন্তব্য একই। এছাড়া আগামী নির্বাচনকেও ২০০৮ সালের নির্বাচনের মতো সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতেও সবাইকে সংলাপে বসতে হবে।’
 
বাংলাদেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এবারের সফরের প্রত্যাশা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই, যে দেশটি টেকসই উন্নয়ন এবং সব দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘এদেশের জনগণের আশাও একই।’  

পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যের সব বিষয়ই আলোচনায় আসবে বলে তিনি জানান।

ভারত ও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দেশ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চতুর্থ মুসলিম দেশ যেখানে নারীরা খুবই দৃঢ় অবস্থানে আছে। এদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী নেত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নিরাপত্তা বাহিনী, সাংবাদিকতাসহ সবক্ষেত্রেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আমরা চাই বাংলাদেশ হবে একটি সুসংহত গণতন্ত্রের দেশ, যেখানে মৌলিক ইস্যুগুলোতে সবার ঐকমত্য থাকবে।

প্রশ্ন: সন্ত্রাসবাদের প্রতি জিরো টলারেন্স দেখানো হবে।

ফিউচার ফর বাংলাদেশ ইজ এক্সট্রিমলি পজিটিভ। বে অব বেঙ্গল ম্যারিটাইম বাউন্ডারি আন্ড দি অন গোয়িং ইন্ডিয়া উইল গিভ ভেরি ক্লিয়ার ডিমারর্কেশন। রিসোর্সেস উইল হেল্প ফর বাংলাদেশ।

সমুদ্রে দস্যুতা ও সম্পদ আহরণে বিনিয়োগ সুরক্ষায় বাংলাদেশের স্বার্থেই বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের সমুদ্র। একে রক্ষা করতে শান্তিপূর্ণভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

প্রশ্ন: নিরুদ্দেশের ঘটনা কি বাংলাদেশকে চরম কোনো অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিরোধী দলের প্রতি নিপীড়নমূলক আচরণ প্রসঙ্গে হিলারি বলেন, ‘সাম্প্রতিক লেবার অর্গানাইজেশনের ইসলাম হত্যা ও বিরোধী দলের ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি। স্বাধীন তদন্তের ব্যাপারেও আহ্বান জানিয়েছি। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে আমাকে দীপু মনি জানিয়েছেন।’

এ পর্যায়ে হিলারি দেশের উন্নতির স্বার্থে মতবিরোধের উর্ধ্বে উঠে সকল রাজনৈতক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এই সম্ভাবনার সুফল পেতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

হিলারি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে বা লক্ষ্যে পৌঁছুতে প্রত্যেককে একই নৌকায় আরোহন করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এদেশের গণতন্ত্রের ভিত যে মজবুত সেটি ২০০৮ সালের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। ২০০৮ সালে সুষ্ঠু নির্বাচনের পর এই ধরনের গুম-হত্যাসহ বিভিন্ন সহিংসতা এবং সুশীল সমাজের ওপর কোনো চাপ আশা করা যায় না।’
 
যে কোনো সমস্যার সমাধানে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি গঠনমূলক সংলাপের আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্টই বলেন, ‘এদেশের জনগণের ওপরই নির্ভর করবে সরকার কি ধরণের কার্যক্রম (একশন) চালিয়ে যাবে।’
 
হিলারি আরো বলেন, ‘এটি মনে রাখতে হবে, এদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
 
তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে ১৭ বছর ধরে চিনি। আমি বাংলাদেশের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। অনেক বছর পর আবার এদেশে আসতে পেরে আমি খুবই খুশি। আমি শুধু সরকারই নয়, সবার প্রতিই আহ্বান জানাচ্ছি। সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে এদেশের আগামী নির্বাচনও সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য দেখতে চাই।’

এ প্রসঙ্গে তিনি নিউইয়র্কের সিনেটরের দায়িত্ব পালনকালে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে তার সুসম্পর্কের কথা জানিয়ে বলেন, ‘নিউইয়কে অনেক বাংলাদেশি কাজ করছেন। আমি বাংলাদেশিদের সুখী দেখতে চাই।’
 
তিনি এদেশের সুশীল সমাজের সমালোচনার প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটি একটি মডেল, মানুষের অনুপ্রেরণার জন্য। এদেশের সিভিল সোসাইটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য মডেল।’
 
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গ্রামীণ ব্যাংক ভূমিকা রাখছে।’ এই ব্যাংকটিতে দ্রুত একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও হিলারি আশা করেন।

তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন উৎসবের উল্লেখ করে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ আমি মিস করেছি।’

উন্নতি ও অগ্রগতিতে বাংলাদেশে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একই মানসিকতা পোষণ করে উল্লেখ করে বলেন,
‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওবামা প্রশাসনের সহায়তা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে একটি বড় দেশ।’

মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল বাস্তবায়নে মাতৃশিশু মৃত্যুহার কমানো, দারিদ্র বিমোচনে খুবই ভালো ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে হাইতিতে কলেরা প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ প্রশংসিত হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ এশিয়া ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় সংযোগের ভূমিকায় আছে।’

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে