Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-০৫-২০১২

খালেদার সামনে তিন চ্যালেঞ্জ

খালেদার সামনে তিন চ্যালেঞ্জ
বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামনে এ মুহূর্তে তিন চ্যালেঞ্জ। এক. তার বিরুদ্ধে আরও যেসব মামলা আসছে তা থেকে নিজেকে সামলানো। দুই. দলকে একত্রিত রাখা। তিন. সিনিয়র নেতাদের অবর্তমানে আন্দোলন এগিয়ে নেয়া। ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি অন্যদিকে মোড় নিতে যাচ্ছে। সরকার হার্ডলাইনে। কোন ছাড় দেবে না। আর এ সবই হচ্ছে ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে। সরকার মনে করে বিএনপি
জোটকে নিয়ে নির্বাচনে গেলে তাদের জয় অনিশ্চিত। তাই তারা কৌশলে বিএনপিকে দূরে রাখতে চায়। এ সময়ে বিএনপি ভাঙার একটি কৌশলও রয়েছে পরিকল্পনায়। বোমা আর গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিনিয়র নেতাদের জড়ানোয় বিষয়টি আরও খোলাসা হয়েছে। নেতারা আত্মগোপনে। আদালতে জামিনের জন্য যেতে পারছেন না। একই মামলায় রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জামিন পাননি। পেয়েছেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মাহবুবের জামিন নিয়ে খোদ বিএনপিতেই রহস্য আর মিশ্র প্রতিক্রিয়া। খালেদা টের পেয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দল ভাঙার নায়কদের। বলেছেন, এবার ক্ষমা নেই। এখানেই শেষ নয়, কর্মীদেরও লেলিয়ে দেয়া হবে। রাজনীতির মাঠ এখন নানা গুজবে ভরপুর। ব্যারিস্টার মওদুদকে ঘিরেই যতসব আলোচনা। যদিও মওদুদ বলেছেন, ওসব বাজে কথা। সবই রটনা। মওদুদের অতীত সুখকর নয় বিধায় সন্দেহের তীর তার দিকেই বেশি। এই উপমহাদেশে কেবলমাত্র মমতা ব্যানার্জি ছাড়া অন্য কেউই দল ভেঙে লাভবান হননি। এর পরও দল ভাঙা হয়। নিকট অতীতে অধ্যাপক বি. চৌধুরী ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বিএনপি ছেড়ে বিকল্পধারা ও এলডিপি গঠন করেন। বি. চৌধুরী এখন নিরাপদ দূরত্বে থেকে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটকে সমর্থন দিচ্ছেন। অলি আহমদ সরাসরি বিরোধী জোটে অংশ নিয়েছেন। হুলিয়া মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। বিরোধী নেতারা খালেদার নির্দেশেই আত্মগোপন করে আছেন। খালেদার ধারণা এসব নেতাকে ছাড়া আন্দোলন বেগবান করা যাবে না। তাই গ্রেপ্তার এড়াতে বলেছেন। যদিও এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে। বলা হচ্ছে, রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে মামলা হবেই। তাই বলে আত্মগোপনে চলে যেতে হবে কেন দল বেঁধে।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা। নতুন আরও ৪টি মামলা আসছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তাছাড়া বোমাবাজি ও গাড়ি পোড়ানোর ক্ষেত্রে তার কোন ইন্ধন ছিল কিনা তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লিখিত মামলায় জড়ানো হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এমন ধারণা দিলেন পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা। তাকে গ্রেপ্তার করা না হলেও মামলায় ব্যস্ত রাখা হবে এমনটা নিশ্চিত।
এ অবস্থায় একদিকে দল ঠিক রাখা। অন্যদিকে নিজেকে সামলানো সহজ হবে বলে অনেকেই মনে করছেন না। এ সময় তার বড় ছেলে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান পাশে নেই। তার সহসা দেশে ফেরার কোন সম্ভাবনা নেই। সরকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তাকে আনার জন্য। কূটনৈতিক চ্যানেলে বার্তা গেছে লন্ডনে। ইতিমধ্যে তার প্যারোল বাতিল হয়েছে। পলাতক দেখানো হয়েছে একাধিক মামলায়। এই অবস্থায় তারেক রহমান নিজেই বড় ধরনের কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে খালেদা জিয়ার আলটিমেটাম শেষ হবে জুনের মাঝামাঝি। সরকার অনড়। একচুলও ছাড় দেবে না। বিকল্প হিসেবে খালেদাকে যেতে হবে আন্দোলনে। দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। আরও মামলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত। ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর আতঙ্ক বড় নেতাদের মধ্যে। মাঠ পর্যায়ে তো ভীতি ছড়িয়ে আছেই। বলাবলি হচ্ছে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাও হুমকির মুখে। খালেদা তার সহযোগীদের বলছেন, এসব নিয়ে তিনি মাথা ঘামান না। তার কথায়, মানুষ এই সরকারকে চায় না। তারা চায় পরিবর্তন। দল ভাঙার প্রশ্নে তিনি স্থায়ী কমিটির এক নেতাকে বলেছেন, সেনাশাসক এরশাদ তো দলকে ভেঙে কাবু করে ফেলেছিলেন। সেখান থেকে দলকে তিনি তুলে এনেছেন। পর্যবেক্ষকরা অবশ্য বলছেন, ভগ্ন স্বাস্থ্য আর সরকারের নজিরবিহীন দমনপীড়ন প্রতিহত করে লক্ষ্যে কি পৌঁছাতে পারবেন খালেদা জিয়া? আন্দোলনের কৌশল নিয়েও সামনে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। ঘন ঘন হরতাল জনগণ হয়তো মেনে নেবে না। সরকার যতই অজনপ্রিয় হোক না কেন? ব্যবসায়ী নেতারা তো আইন করে হরতাল বন্ধের পক্ষে মত দিচ্ছেন। সরকার এতে সায় দেবে কিনা যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এর আগেও এ রকম দাবি উঠেছিল। বাকি থাকলো ঘেরাও, অবরোধ। সেগুলো সফল করতে হলে জনগণকে সম্পৃৃক্ত করতে হবে। ‘নেতৃত্বহীন’ অবস্থায় সেগুলো বাস্তবায়ন করা সহজ কাজ নয়। জনগণ সম্পৃক্ত না হলে কোন কিছুতেই কাজ হবে না। তাছাড়া সামনে নির্বাচন। বাংলাদেশে নির্বাচন মানেই ঈদ উৎসব। সমালোচকরা বলেন, ৫ বছরের মধ্যে ওই একদিনই গণতন্ত্র থাকে। বাকি ৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন স্বৈরাচার দেশকে গিলে খায়। হোক আওয়ামী লীগ বা বিএনপির শাসন। ফারাক খুবই সামান্য কৌশল ছাড়া।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে